আয়াতুল্লাহ খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্বের কারণ প্রকাশ

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে চার মাসেরও বেশি সময় পর। এই দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠলেও ইরানি কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন অস্থির পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোর থেকে শোকাবহ পরিবেশে দাফন প্রক্রিয়ার প্রথম পর্ব শুরু হয়। সেখানে খামেনি এবং তার সহযোগীদের মরদেহ আনা হয়, যেখানে দুই দিনব্যাপী সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জানা যায়, ইরান ও ইরাকের অন্তত পাঁচটি শহরে তার দাফন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। এ কারণেই মরদেহ তেহরানে আনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি ৮৬ বছর বয়সে তেহরানের কেন্দ্রস্থলের বাসভবনে হামলায় নিহত হন। চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই তার মৃত্যুর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
ইসলামী সংস্কৃতি অনুযায়ী চার মাস পর দাফন হওয়া একটি অস্বাভাবিক ঘটনা হলেও বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন জটিল পরিস্থিতিই এই বিলম্বের প্রধান কারণ। ইরান ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মরদেহ তাৎক্ষণিকভাবে দাফন করা সম্ভব হয়নি।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহ ধর্মীয় বিধান মেনে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ইসলামি বিধান অনুযায়ী এমবামিং (রাসায়নিক সংরক্ষণ) নিষিদ্ধ হওয়ায় মরদেহ শীতলীকরণ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়।
সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমরের মতে, শিয়া আইনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে দাফন বিলম্ব এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ইরানের ফরেনসিক ব্যবস্থায় এ ধরনের সংরক্ষণ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত করা সম্ভব।
শোক কর্মসূচিতে প্রথম দিনেই ইন্দোনেশিয়া, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় পণ্ডিত ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। পাশাপাশি ইরানের স্বীকৃত ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবা সহ ৩০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে।
ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী শনিবার ও রবিবার সাধারণ মানুষের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থাকবে। এরপর সোমবার তেহরানে মূল জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তীতে মরদেহ পবিত্র শহর কোমে নেওয়া হবে।
সেখান থেকে ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৯ জুলাই ইরানের মাশহাদ শহরে খামেনির দাফন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/৪ জুলাই/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































