‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’, শিক্ষামন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:৪৪
অ- অ+

টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক পরীক্ষার্থীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে পরীক্ষার্থীদের প্রসঙ্গে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা তো ফার্মের মুরগি, একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর চলে আসবে।’

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক এ মন্তব্যকে অবমাননাকর বলে আখ্যা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনার পাশাপাশি তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে।

এদিকে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

তবে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মূলত মেয়েকে অভয় দিতে ওই ছাত্রীর অভিভাবক অনুরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর ব্যবস্থা করেন। কথা বলার সময় অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন দিয়ে তা ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।

কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, ‘মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।’

এরপর ওই ছাত্রী বলেন, ‘কিন্তু স্যার যাদের জ্বর হয়ে গেছে, আমরা তো সিটি কলেজের স্টুডেন্ট, যারা পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের অলরেডি অনেকের জ্বর। কারণ বৃষ্টিতে ভিজে অবস্থা খারাপ। ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা দিনে বৃষ্টিতে ভিজছে, আইসিটি পরীক্ষার দিনেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। সেখানে সবাই বলছেন আমরা প্রিপেয়ার্ড। শিক্ষার্থীরাও প্রিপেয়ার্ড। মিটিং করেছি, সেখানে কেউ পরীক্ষা পেছানোর জন্য রাজি হয় না। আমি রাজি ছিলাম...অন্যদের চেয়ে আমি পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলাম। যাই হোক তুমি পরীক্ষা দিয়ে ফেলো। আশা করি ভালো হবে।’

পরীক্ষার রুটিন নিয়েও মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী। তিনি বলেন, ‘উচ্চতর দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষার আগে একদিন ছুটি। এত চ্যাপ্টার...মাঝে একদিন মাত্র ছুটি। সেটা কি হয় স্যার? একদিনে কি এতগুলো চ্যাপ্টার রিভাইস করা পসিবল স্যার? ফিজিক্স সেকেন্ড পেপারের মতো বিষয়ে...যেখানে ১১টা চ্যাপ্টার স্যার। কীভাবে সম্ভব?’

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তোমাকে বলি, তোমাদের স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে রুটিন দিয়েছি। তারপরও বলেছি, যদি এ রুটিন গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে আমি চেঞ্জ করবো। কিন্তু কেউ তো আমাকে কোনো রেসপন্স করেনি।’

এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এমনিতেই তো রুটিন করা হচ্ছিল যে সকাল-বিকেল পরীক্ষা নিয়ে দ্রুত শেষ করবে। যেটা আমরাও ছাত্রজীবনে দিয়েছি। তখন আমি বললাম যে, এটা সম্ভব না। ওরা পারবে না, কষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত একদিন গ্যাপ দিয়ে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হোক। সেটাই এখন নেওয়া হচ্ছে। আমি সবকিছু চিন্তাভাবনা করেই করেছি।’

‘এগুলো বলে আর লাভ হবে না। বিকেল ৫টা পর্যন্ত মিটিং করেছি। নো বডি একসেপ্ট মি, যে পরীক্ষা পেছানোর ব্যাপারে। তুমি তো সিটি কলেজ। চিন্তা কইরো না তো। এখন গরম এক কাপ কফি দিতে বলো, খেয়ে পড়তে বসে যাও।’

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি সব এলাকায় চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। তবে বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার পরীক্ষা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনও ভার্চুয়ালি অংশ নেন।

(ঢাকাটাইমস/১৪ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানালেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন
আগামীতে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং জুনে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে: শিক্ষামন্ত্রী
কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২ মেগাওয়াট
মেধার লালন ও স্নেহের শাসন: 'ফার্মের মুরগি' মন্তব্য এবং কিছু ভুল বোঝাবুঝি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা