জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১৫:২০
অ- অ+

দেশে গত জুন মাসে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাতেই নিহত হয়েছেন ১৭৩ জন, যা মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৩২ জন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুন মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। এ বিভাগে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন।

সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক এবং ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এছাড়া নছিমন, করিমন, মাহিন্দ্রা, ট্রাক্টর ও লেগুনার হার ছিল ৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং কার, জিপ ও মাইক্রোবাস ছিল ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটেছে। এছাড়া ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায়, ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, শূন্য দশমিক ১৮ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ১ দশমিক ১২ শতাংশ ট্রেন ও যানবাহনের সংঘর্ষে সংঘটিত হয়েছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৪৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে। এছাড়া ২৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২০ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফিডার সড়কে সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা মহানগরে ঘটেছে ৪ দশমিক ১৩ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরে শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ১ দশমিক ১২ শতাংশ দুর্ঘটনা।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও রোড মার্কিংয়ের অভাব, সড়কবাতির সংকট, মহাসড়কে মিডিয়ান না থাকা, অন্ধ বাঁক, সড়ক ও যানবাহনের ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য, উল্টো পথে যান চলাচল, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং বেপরোয়া গতিকে দায়ী করা হয়েছে।

এছাড়া বৃষ্টির কারণে সড়কে গর্ত সৃষ্টি, ভাঙাচোরা সড়ক, পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাস বা ট্রাকের ছাদে যাতায়াতও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নে ১১ দফা সুপারিশও দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ, মহাসড়কে ফুটপাত ও সার্ভিস লেন নির্মাণ, চাঁদাবাজি বন্ধে কাঠামোগত সংস্কার, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট এবং ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। পাশাপাশি পরিবহন খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ ও বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধিরও আহ্বান জানানো হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/১৪ জুলাই/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
তিন দফা দাবিতে চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’, শিক্ষামন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল
পদোন্নতি পাওয়া ১০১ যুগ্মসচিবকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সংযুক্ত
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা