মহাখালী টার্মিনালের ‘অলস পড়ে থাকা’ বাস যাচ্ছে পূর্বাচলে, স্থানান্তর কার্যক্রম উদ্বোধন

রাজধানীর যানজট নিরসন ও সুশৃঙ্খল গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহাখালী বাস টার্মিনালে ‘অলস পড়ে থাকা’ বাসগুলো পূর্বাচলে নবনির্মিত অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তর কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার দুপুরে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের মাধ্যমে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় যানজট কমানো, যাত্রীসেবা উন্নত করা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এসময় যানজটকে ‘বড় সমস্যা’ হিসেবে অভিহিত করে শিমুল বিশ্বাস বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ঢাকার ভেতরের টার্মিনালগুলোকে পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারই অংশ হিসাবে মহাখালী টার্মিনালে অযথা পড়ে থাকা বাসগুলোকে সরিয়ে পূর্বাচলে নেওয়া হচ্ছে। এগুলোর যখন ট্রিপ হবে, সে অনুযায়ি বাসগুলো টার্মিনালে সিরিয়াল অনযায়ী ঢুকবে।
উদ্বোধন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি বাস স্থানান্তরের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ সময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানমহাখালী টার্মিনালের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং সংশ্লিষ্ট সুধীজন
এর আগে গত জুনে সচিবালয়ে ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন সংক্রান্ত সভায় চারটি বাস টার্মিনাল অতিদ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর থেকেই এ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়।
এই চারটি টার্মিনাল হচ্ছে ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল।
শিমুল বিশ্বাস বলেন, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরিত হবে। সেখানে বড় জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। গাবতলী বাস টার্মিনালটি হেমায়েতপুরে নেওয়া সিদ্ধান্ত হলেও আপাতত টার্মিনালের পাশে কৃষি মন্ত্রণালয়ে একটি খালি জায়গা রয়েছে। সেখানে সম্প্রসারিত করা হবে। এছাড়া সায়েদাবাদ টার্মিনালটি কাঁচপুরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেখানেও সংস্কারের কাজ চলছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের ট্রিপ না থাকা বাস আপাতত পূর্বাচলে নেওয়া হলেও পরে সেগুলোকে স্থায়ীভাবে টঙ্গীর কাছে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান শিমুল বিশ্বাস।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































