যাত্রাবাড়ীর গণহত্যার মামলাও ট্রাইব্যুনালে নিতে চান চিফ প্রসিকিউটর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এসব ঘটনায় স্থানীয় থানায় করা মামলাগুলোও ট্রাইব্যুনালে এনে বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রবিবার যাত্রাবাড়ীর নবী টাওয়ারের কনফারেন্স কক্ষে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী: শহীদ পরিবার ও আহতদের গণশুনানি’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় এ গণশুনানির আয়োজন করে। এতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীতে শহীদদের পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যাত্রাবাড়ীর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে। কেউ আদালতে, কেউ থানায় আবার কেউ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। স্থানীয় থানায় হওয়া মামলাগুলোও ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার এখতিয়ার চিফ প্রসিকিউটরের রয়েছে বলে তিনি জানান।
‘যেহেতু এই মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী গণহত্যা, এটা যেহেতু মানবতাবিরোধী অপরাধ; সে কারণে যে মামলাগুলো থানা পুলিশ ধরেছে, সেগুলোও আমি তুলে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব,’ বলেন তিনি।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, যাত্রাবাড়ীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ৭৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শুধু ৫ আগস্টেই ৫০-৫৫ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শহীদদের প্রাথমিক তালিকায় ৮৫ জনের নাম শনাক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তৎকালীন সরকারের কিছু পুলিশ সদস্য এবং সরকারি দলের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন তিনি।
তবে যাত্রাবাড়ীর সব হত্যাকাণ্ডের মামলা এখনো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যায়নি। এসব মামলার মধ্যে যেগুলোর তদন্ত শেষ করে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে, সেগুলো ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান চিফ প্রসিকিউটর।
আর যেসব মামলা এখনো তদন্তাধীন, সেগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। প্রয়োজনে এসব তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানান।
আমি যাত্রাবাড়ির গণহত্যাকে সবচেয়ে বেশি প্রায়োরিটি দিচ্ছি, বলেন আমিনুল ইসলাম। যাত্রাবাড়ীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত ও বিচার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুততার সঙ্গে করা হবে বলেও তিনি জানান।
গণশুনানিতে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত ব্যক্তিদের বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাদের অভিজ্ঞতা শোনার সময় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, ‘আমরা যাত্রাবাড়ীর শহীদ পরিবারের বক্তব্য শুনলাম, তাদের থেকে অনেক তথ্য সংগ্রহ করলাম।’
এসময় শহীদ ও আহত পরিবারের জন্য বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































