সৌদি আরবে সোফা কারখানায় আগুনে নিহত ১৬ বাংলাদেশি

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ওই কারখানায় আগুন লাগে। নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ১০ জন এবং নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজন রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে।
রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন। আগুনে মরদেহ পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম সৌদি দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বীর বরাত দিয়ে জানান, অগ্নিকাণ্ডে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চূড়ান্ত সংখ্যা পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।
এর আগে নিহতদের স্বজনদের বরাতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন, এ ঘটনায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি এবং অন্য দেশের নাগরিক রয়েছেন কি না, তা তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত উপজেলার ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান জানান, প্রথমে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়ায়। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
নিহতদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার বিশা গ্রামের সাগর (৩১), মজিদুল (৩৪), উদনপৈ গ্রামের ফরিদ শেখ (৩২), ডুবাই গ্রামের সুমন (৩৫) ও হাসিবুল হাসান (২৭), গন্ডগোহালি গ্রামের মহুন প্রামাণিক (৪২), সুমন প্রামাণিক, রুবেল হোসেন (৩০), কলি প্রামাণিক (৩৫) এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আবদুল জলিল (৩৮) রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
অগ্নিকাণ্ডে নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার খাজুরা এলাকার আরও তিন বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন।
নিহতরা হলেন—খাজুরা শ্রীপুরপাড়া এলাকার গোলাম রাব্বানীর ছেলে সাব্বির হোসেন সোহাগ, দিঘীর পাড় এলাকার জাকের হোসেনের ছেলে শামীম হোসেন এবং মহিষডাঙ্গা এলাকার আসলাম আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল হৃদয়।
নিহতদের স্বজনদের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহতায় মরদেহগুলো পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা এবং নিহতদের জাতীয়তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই চলছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
শোকবার্তায় তিনি বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি।
মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং মরদেহ শনাক্তের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা করছে বাংলাদেশ।
(ঢাকাটাইমস/১০ আগস্ট/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































