ইশরাকের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আট মাসে তিন মন্ত্রী ও এক এমপির বিদায়

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৪| আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৫
অ- অ+

বিএনপি সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। একই সময়ে পদত্যাগ ক রেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যও। তাদের পদত্যাগের পেছনে বিভিন্ন কারণ সামনে এলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে সরকার প্রধানের নির্দেশনার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সর্বশেষ সোমবার (১৯ অক্টোবর) পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগ করতে হয়।

অস্ত্র হাতে অভিযান, সমালোচনার মুখে ইশরাক

শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইন-সংলগ্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ওই অভিযানে তার নিজের হাতে এবং সঙ্গে থাকা সহযোগীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি ও সরকারের উচ্চপর্যায়েও অস্বস্তি তৈরি হয় বলে আলোচনা রয়েছে।

এরপর রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে খবর প্রকাশিত হয়। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক।

তবে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশরাক বলেন, দল চায়নি, তিনি নিজে থেকেই পদত্যাগ করছেন। বিশেষ কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।

এদিকে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে প্রথম দিকে পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। দায়িত্ব নেওয়ার সাড়ে তিন মাসের মাথায় গত ১ জুন তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তা গৃহীত হয়।

পদত্যাগপত্রে শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করেছিলেন দীপেন দেওয়ান। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্ব পালনে সমস্যা হচ্ছিল। সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে মন্ত্রীর পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তবে তার পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও পার্বত্য অঞ্চলে নানা আলোচনা হয়। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন, চেয়ারম্যান পদে সুপারিশ নিয়ে মতপার্থক্য, রাঙামাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মন্ত্রণালয়ের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলোও আলোচনায় আসে।

২২ আগস্ট তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তবে একই দিন তাকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগের দিন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান আন্দালিভ রহমান পার্থ। ফলে জহির উদ্দিন স্বপনের মন্ত্রিত্ব চলে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

তার পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কারণ সামনে না এলেও মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে বিষয়টি আলোচিত হয়। নতুন তথ্যমন্ত্রী নিয়োগ এবং জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার ঘটনাকে ঘিরেও নানা আলোচনা ছিল সেসময়।

রাড্ডাকাণ্ডে পদ ছাড়তে হয় সংসদ সদস্য মিষ্টিকেও

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পাশাপাশি সংসদ সদস্যের পদও ছাড়তে হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। ঢাকার মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১ অক্টোবর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পদত্যাগপত্র জমা দেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। পরে জাতীয় সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টিকটকে ভুয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে নারী, খোয়ালেন সাড়ে ৬ লাখ টাকা
জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জনগণ আতঙ্কিত: নাহিদ ইসলাম
পূজার ছুটিতে নির্বাচন ভবনের সুরক্ষায় ৫ নির্দেশনা
প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ব্যান্ড টিম বৃষ্টি