অর্থের অভাবে দিন কাটছে রূপগঞ্জের বাঁশের খাড়ি তৈরির কারিগরদের

শাকিল আহম্মেদ, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
  প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৬
অ- অ+

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কা‌য়েতপাড়া ইউনিয়নের কা‌য়েতপাড়া গ্রা‌মে এক সময়ে পাঁচ শতা‌ধিক প‌রিবার মাছের খাড়ি তৈরির কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এ শিল্পে তেমন সুবিধা না থাকার কারণে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করে জীবন যাপন করছেন। এখনো এই গ্রামে ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তারা পুরনো সেই পেশায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।ভালো নেই এ পেশায় নিয়োজিত থাকা মানুষগুলো।

বংশপরম্পরায় ৮০ বছর ধরে তারা এ কাজ করে আসছেন। পুঁজি সংকট রয়েছে তাদের। চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির অংশ পরিবেশবান্ধব বাঁশশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে, পেশাসংশ্লিষ্টদের বিনা সুদে কিংবা স্বল্প সুদে পরিবারভিত্তিক ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা জরুরি এ শিল্পে নিয়োজিত থাকা কারিগরদের।

বর্তমান আধুনিক সভ্যতার যুগে সময় বাঁচাতে হাতে তৈরি ঐতিহ্যবাহী সেই শিল্পগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। তবে সেগুলোর প্রতি মানুষের চাহিদা রয়েছে এখনও। প্রযুক্তি গত পরিবর্তন আসলেও এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন তারা।

এ গ্রা‌মের ৫ শতা‌ধিক প‌রিবার বাঁশ দিয়ে মাছের খাড়ি তৈরি করে যাচ্ছেন বছর বছর যাবত। একটা সময় ওই অঞ্চলের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এই মাছের খাড়ি তৈরি করতেন। সেগুলো দেখে দেখে আয়ত্ত করেছেন বহু মুসলমান প‌রিবারও। এটাকে এখন পেশা হিসেবে নিয়েছেন। বর্তমানে মাছের এই খাড়ি তৈরি করে তারা যে টাকা ইনকাম করেন তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করেন তারা। বাঁশ থেকে বেত কেটে তৈরি করে মাছের খাড়ি। বাঁশেরে এ খাড়ি তৈরি করতে লাগে বাঁশ, সুতলি, ফিতা, কট সুতা, ইত্যাদি।

এই খাড়িগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তথা শ্রীনগর, মাওয়া, হাসবা, সৈয়দপুর, তুলসী খালি,পাড়া গ্রামসহ অনেক অঞ্চলেবিক্রি করা হয়। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মাছের আড়ত রয়েছে সেখানেই বিক্রি হচ্ছে এসব খাড়িগুলো।

মূলত মাছ ধরার কাজে, মাছ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নেওয়ার কাজে, আড়তে ও মাছ বিক্রির কাজেই খাড়িগুলো ব্যবহৃত করা হয়।

বিভিন্ন সাইজের তৈরি খাড়িগুলো বিক্রি হয় বিভিন্ন দামে। মাছের এই খাড়ি তৈরির কা‌রিগর দেলোয়ার হোসেন ব‌লেন, বাপ-দাদার পেশা তাই আঁকড়ে ধরে আছি। ছেলেমেয়েরা এখন আর এ পেশায় থাকতে চাচ্ছেন না। আগের মতো চাহিদাও নেই। বাঁশের দাম বেড়ে গেছে। পুঁজি সংকট রয়েছে। চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতির অংশ পরিবেশবান্ধব বাঁশশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে, পেশাসংশ্লিষ্টদের বিনা সুদে কিংবা স্বল্প সুদে পরিবারভিত্তিক ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণসহ পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা জরুরি।

আরো এক কারিগর বলছেন, সহজ শর্তে ঋণসহ কিছু সরকারি উদ্যোগ ও সুবিধা টিকিয়ে রাখতে পারে ঐতিহ্যবাহী এই পেশা।

কায়েতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জালাল হোসেন বলেন, মা‌ছের খা‌ড়ি শি‌ল্পটি আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য একটা সময় এই এলাকার তৈরি বাঁশের খাড়ি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ কেনা বেচার কাজে লাগতো। তাই এই এই শিল্পটির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এই গ্রামের সাথে পরিচিত ছিলেন। তবে কালের বিবর্তনে এই শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার উপক্রমে। এ শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সা‌থে জ‌ড়িত‌দের সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি উদ্যোগ ও সুবিধা ‌দি‌য়ে এ পেশা‌টি টিকিয়ে রাখতে পারে সরকার এমনটা দাবি তাঁদের।

অন্যথায় এ পেশায় যারা এখনো জড়িত আছেন, বাপ দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখছেন তাদের প্রত্যেককেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মধ্যেই সারা জীবন অতিবাহিত করতে হবে।

(ঢাকা টাইমস১৯অক্টোবর/এসএ)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিশ্র ফলচাষে ভাগ্য বদল নাহিদের  
টিকটকে ভুয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে নারী, খোয়ালেন সাড়ে ৬ লাখ টাকা
জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জনগণ আতঙ্কিত: নাহিদ ইসলাম
পূজার ছুটিতে নির্বাচন ভবনের সুরক্ষায় ৫ নির্দেশনা