সৌদিতে নজরুলের শিরশ্ছেদ, মৃত্যুর আগে বাবাকে কী বলেছিলেন তিনি?

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কয়েক দিন আগে বাবার সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেছিলেন বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম। তখন তিনি বাবাকে বলেছিলেন, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। সেটিই ছিল বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা। পরে গণমাধ্যমের খবরে পরিবার জানতে পারে, সৌদি আরবের মক্কায় নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
নজরুলের মৃত্যুর খবর শুনে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মা।
জানা যায়, গত বুধবার মক্কায় নজরুলসহ দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে পরিবারকে আগে থেকে এ বিষয়ে জানানো হয়নি।
নজরুলের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ২০২২ সালে প্রায় সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। সেখানে হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।
সৌদি আরবে যাওয়ার সাত থেকে আট মাস পর পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে বাবাকে ফোন করে বন্দী থাকার কথা জানান নজরুল। পরিবারের দাবি, প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন তিনি।
নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, গত রোববার ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। তখন নজরুল জানান, তিনি সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। এরপর বুধবার ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পান তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবদুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।’ তিনি ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, কারাগারে থাকার সময় তিনি যথাযথ আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না, তা তাঁরা জানেন না। বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এখনো সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে পৌঁছালে পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













