ইতালিতে বিক্ষোভে উত্তাল বড় শহরগুলো, ভাঙচুর-লুটপাট

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৬
অ- অ+

ফ্রান্সের মতো ইতালিতেও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রবিবার আরও বড় আকার ধারণ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুই দিনে কয়েক শ মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ইতালির সংবাদমাধ্যম স্কাই টিজি২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিক্ষোভের ঘটনায় ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৩ জনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। এর আগে শনিবার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অতিরিক্ত করের প্রতিবাদে ‘ইতালিয়া ইন পিয়াজ্জা’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ হচ্ছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ও রোববার মিলানে প্রায় ৫ হাজার, তুরিনে ৩ হাজার, বোলোনিয়ায় ২ হাজার, ব্রেসিয়ায় ৬০০ এবং বেরগামোতে ৮০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষোভের সময় মিলানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে পাথর, বোতল, আতশবাজি ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও জলকামান ব্যবহার করে।

শহরের কেন্দ্রস্থলে কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া ইতালির সামরিক পুলিশের একটি গাড়ি ধ্বংস করা হয়।

বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে মিলানে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ইতালির খুচরা বিক্রেতাদের সংগঠন কনফেকমেরচিওর বরাত দিয়ে স্কাই টিজি২৪ জানিয়েছে, গত দুই দিনের বিক্ষোভে দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ ইউরোর বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তুরিনে সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পেট্রলবোমা হিসেবে পরিচিত ‘মলোটভ ককটেল’ বহনের অভিযোগে তিন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বোলোনিয়ায় রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল, পাথর ও ব্যারিকেড ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। ওই ঘটনায় পাঁচ অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিলানের মেয়র জিউসেপ্পে সালা বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভের কারণগুলো বোধগম্য। তবে পুলিশ কর্মকর্তাদের ওপর সহিংসতা এবং শহরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

বোলোনিয়ার মেয়র মাত্তেও লেপোরেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। যারা বিক্ষোভকে সহিংসতার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাদের থেকে ইতালির তরুণদের দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি জানিয়েছেন, তার দল ‘লিগ’ পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব আবার উত্থাপন করবে। প্রস্তাবটি অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত বিক্ষোভ আয়োজনের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে আয়োজকদের আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিক্ষোভের নামে সহিংসতার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও বিক্ষোভ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, স্কাই টিজি২৪

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
মিশ্র ফলচাষে ভাগ্য বদল নাহিদের  
টিকটকে ভুয়া তান্ত্রিকের ফাঁদে নারী, খোয়ালেন সাড়ে ৬ লাখ টাকা
জননিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, জনগণ আতঙ্কিত: নাহিদ ইসলাম
পূজার ছুটিতে নির্বাচন ভবনের সুরক্ষায় ৫ নির্দেশনা