কানাডায় সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের বিপুল সম্পদ, এনবিআরের নথিতে যা উঠে এসেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:০২
অ- অ+

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম ও তার পরিবারের কানাডায় থাকা সম্পদ, ব্যবসা ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট। গত এক দশকের প্রায় ১৬৩টি আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক কর্মকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথিতে সন্দেহজনক লেনদেন (এসটিআর), বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন (সিটিআর), ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে শেখ নুর ইসলামের পাশাপাশি তার স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে। দিশা ইসলাম সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী। নথিতে তাদের কানাডার নাগরিকত্ব বা প্রবাসাধিকার এবং দেশটিতে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক। শেখ নুর ইসলামকে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দেখানো হয়েছে। তার পেশা হিসেবে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা এবং ‘জুম জুম পিৎজা’ ব্যবসার মালিকানার তথ্য রয়েছে।

শীলা ইসলামের ডমিনোজ পিৎজার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও নথিতে রয়েছে। আর দিশা ইসলাম কানাডার সান লাইফে বিনিয়োগ পরামর্শক ও সেগ্রিগেটেড ফান্ড বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাকে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের আরেক সদস্য তাসনিম ইসলামও কানাডার নাগরিক এবং ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত নথিতে পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ কানাডিয়ান ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাথ ও মার্কিন ডলারে লেনদেনের তথ্যও রয়েছে।

কানাডায় পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত, যৌথ ও বিভিন্ন কোম্পানির নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। শীলা ইসলামের নামে একটি মর্টগেজ হিসাব থাকার তথ্যও নথিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের কর নথিতেও শেখ নুর ইসলামের নামে একাধিক ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ করবর্ষে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা। পরের করবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ১০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কর নথিতে বর্ষা মানি চেঞ্জিং সেন্টার, বর্ষা ডেইরি ফার্ম ও বর্ষা ফিশারিজের মতো ব্যবসার পাশাপাশি ডমিনোজ পিৎজা, ফুওয়াং বোলিং, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, রেডিও মাসালা, স্পাইস টেলিভিশন, স্টারবাকস ক্যাফে ও টিম হর্টনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে শেখ নুর ইসলামের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কর নথিতে কানাডার ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট’, ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’ কিংবা ঢাকার ওয়্যারহাউস ‘টস বন্ড’-এর নাম পাওয়া যায়নি। একইভাবে কানাডার নাগরিকত্বের তথ্যও বাংলাদেশের কর নথিতে নেই বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেখ নুর ইসলামের ছত্রচ্ছায়ায় চলা ‘অননুমোদিত’ ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কানাডায় অর্থ লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে যে তদন্ত চলছে, সেটি সাম্প্রতিক ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
খুলনায় ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের
শিক্ষানবিশ ৭২ সহকারী পুলিশ সুপারকে পদায়ন
সিরাজগঞ্জে সার মজুতের কারণে জামায়াত নেতার পদ বাতিল 
ফের বাড়ল এলপিজির দাম, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৩৭ টাকা