‘আর্টিজানের পরিকল্পনাকারী জড়িত আরও ২২ হত্যায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি ২০১৭, ১৩:৪৩| আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৭, ১৪:২৬
অ- অ+

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আটক জাহাঙ্গীর আলমকে গণমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেছে পুলিশ। এই হামলায় সম্পৃক্ত অভিযোগে এখন পর্যন্ত যাদের সন্ধান পাওয়া গেছে তাদের মধ্যে তাকেই জীবিত ধরতে পেরেছে পুলিশ। তিনি উত্তরের আরও ২২টি হত্যা জড়িত বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

শুক্রবার টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে আটক করার কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের জঙ্গিবিরোধী বিশেষ শাখা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। পুলিশের এই বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম শনিবার সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাহাঙ্গীর আরও ছয়টি নাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো রাজীব গান্ধী, সুভাষ, শান্ত, টাইগার, আদিল এবং জাহিদ।

মনিরুল জানান, জাহাঙ্গীরকে আটকের পর তিনি যে নিউ জেএমবির শীর্ষ নেতা সেটা তাদের কাছে স্বীকার করেছেন। জাহাঙ্গীর নিউ জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং উত্তরবঙ্গের সামরিক কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

মনিরুল জানান, উত্তরের বিভিন্ন জেলায় হিন্দু পুরোহিত, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী ও বিদেশি হত্যা এবং শিয়া মসজিদে হামলাসহ মোট ২২টি হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাহাঙ্গীর। একই সঙ্গে ঢাকার হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা ও পরিকল্পনায় তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাহাঙ্গীর উত্তরাঞ্চলে যেসব হত্যায় জড়িত ছিলেন তার মধ্যে রয়েছেন রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কোনিও, একই জেলার মাজারের খাদেম রহমত আলী, টাঙ্গাইলের দর্জি নিখিল, পাবনার পুরোহিত নিত্তারঞ্জন পাণ্ডে, কুষ্টিয়ার হোমিও ডাক্তার সানাউল, পঞ্চগড়ের পুরোহিত যুগেশ্বর, দিনাজপুরের হোমিও চিকিৎসক ধীরেন্দ্রনাথ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

আর্টিজান হামলায় কী সম্পৃক্ততা

আর্টিজান হামলায় জাহাঙ্গীরের কী ভূমিকা ছিল তার ব্যাখ্যা দেন পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল।গত ১ জুলাইয়ের এই হামলায় ১৭ বিদেশি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ হত্যা করা হয় মোট ২২ জনকে। পরদিন সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে প্রাণ হারায় পাঁচ সন্দেহভাজন জঙ্গিসহ মোট ছয় জন।

এই ঘটনায় পুলিশের তদন্তে জানা যায়, পাঁচ হামলাকারীসহ বেশ কয়েকজন এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। এই হামলার দুই মাসের মধ্যেই প্রধান হোতা হিসেবে চিহ্নিত তামিম চৌধুরী গত ২৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় পুলিশের অভিযানে দুই সঙ্গীসহ নিহত হন।

১০ সেপ্টেম্বর নিহত হন হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম। এই গুলশান হামলার অন্যতম নাটের গুরু হিসেবে চিহ্নিত নুরুল ইসলাম মারজানও গত ৫ জানুয়ারি দিবাগত গভীর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হন।

অর্থাৎ আর্টিজান হামলায় জড়িতদের মধ্যে জীবিত ধরা পড়া একমাত্র সন্দেহভাজন জাহাঙ্গীরই। ওই হামলায় তার ভূমিকা বর্ণনা করে মনিরুল বলেন, ‘গুলশান হামলায় অংশগ্রহণকারী মো. খায়রুল ইসলাম পায়েল ওরফে বাঁধন ও মো. শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশকে নিউ জেএমবিতে সে (জাহাঙ্গীর) করে এবং গুলশান হামলার জন্য নির্বাচিত করে ঢাকায় পাঠায়। পরবর্তী সময়ে গুলশান হামলার জন্য অপারেশনাল হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত বসুন্ধরার বাসায় এক সপ্তাহ অবস্থান করে অংশগ্রহণকারী দলের সবাইকে সে হামলায় অংশগ্রহণের জন্য সে চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত করে।’

মনিরুল জানান, আর্টিজান হামলার এক সপ্তাহ পর ৭ জুলাই কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামাতে হামলায় জড়িত শফিকুল ইসলাম ডনকেও প্রস্তুত করে নব্য জেএমবির প্রধান তামিম চৌধুরীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীরও।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নব্য জেএমবিতে যোগ দেয়ার আগে জাহাঙ্গীর জেএমবির শূরা সদস্য নজরুল ইসলামের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

ঢাকাটাইমস/১৪জানুয়ারি/এসএ/ডব্লিউবি

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
টেলিটক বিক্রির পরিকল্পনা নেই, সেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী
চট্টগ্রাম ছাড়া অন্য ১০ বোর্ডে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা যথারীতি চলবে : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড
আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে দেশব্যাপী বিএনপি’র এক দিনের শোক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা