‘শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও বাংলাদেশ ভালো খেলছে’

মাহবুবুল আনাম
| আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ১৭:৪২ | প্রকাশিত : ০৩ এপ্রিল ২০১৭, ১৬:৫৭
মাহবুবুল আনাম

বাংলাদেশ এখন আর সেই বাংলাদেশ নেই। রীতিমত ক্রিকেট-শক্তি। তবে অনেক বন্ধুর পথ পেরুতে হয়েছে এজন্য। করতে হয়েছে অনেক সাধনা। ছিল প্রচুর ত্যাগ ও প্রচেষ্টা, যেগুলো ভালো করে জানেন মাহবুবুল আনাম বাংলাদেশের ক্রিকেট এই জায়গায় আসার পিছনে কিছু যোগ্য ও বিচক্ষণ মানুষের কাছে বিশেষভাবে ঋণী হয়ে থাকবে দেশ, তাদের অন্যতম হলেন মাহবুবুল আনাম তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একজন ব্যবসায়ীও বটে। তবে তার সবচেয়ে অহঙ্কারের জায়গা নিশ্চয়ই ক্রিকেট। ছিলেন ক্রিকেটার। ক্রিকেট ছাড়ার পরও সেই ক্রিকেটের সঙ্গেই নিবিড়ভাবে রয়েছেন। কারণ ক্রিকেটই যে তার ভালোবাসা। বর্তমানে বিসিবির সিনিয়র সহ-সভাপতি তিনি। মাহবুবুল আনামদের মতো কিছু যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশ এখন ক্রিকেট শক্তি, ক্রিকেট বিশ্বে বিসিবিও প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ঢাকাটাইমস ও দেশের সর্বাধিক প্রচারিত সাপ্তাহিক এই সময়কে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেলোয়ার হোসেন ও সৈয়দ ঋয়াদ-

ইংল্যান্ডের পর শ্রীলঙ্কা একটি দেশের মাটিতে অন্যটি শ্রীলঙ্কার মাটিতে, এই দুই জয়ের তাৎপর্য কতখানি

দুটির গুরুত্ব দুরকম। আপনি জানেন যে, ইংল্যান্ড এই খেলার জন্মদাতা। ইংল্যান্ডকে টেস্ট সিরিজটা ড্র করা বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদায় একটি মাইলফলক হয়ে রয়েছে। আমরা সব সময় চাপের মধ্যে ছিলাম। কারণ, বলা হয় বাংলাদেশ ভালো টেস্ট খেলে না। আমি আগেও বলেছি, আমাদের ক্রিকেট বোর্ড একটা লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, আগামী বছরগুলোতে আমরা যেন ২৫ ভাগ টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করতে পারি। আমরা এখন পর্যন্ত ৯টি টেস্ট জিতেছি ১০০টি টেস্টের মধ্যে। আমরা টার্গেট করছি যে এটাকে ডাবল করা, যেন প্রতি চার বা পাঁচটি ম্যাচে আমাদের অন্তত একটি জয় থাকে। এবং সেভাবেই কিন্তু দলগুলো গড়ে উঠছে এবং তাদের মানসিক বিকাশ ঘটছে। আর শ্রীলঙ্কাতে শ্রীলঙ্কাকে হারানো একটা অসম্ভব ব্যাপার। কারণ দশেরে মাটিতে ১৭টি টেস্ট ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ১৫টিতেই জিতেছে এবং দুটি ম্যাচ ড্র করেছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছে হারাটা তাদের জন্য অনেক বেদনাদায়ক। আর তাছাড়া ওদের পত্র-পত্রিকায় যে রকম সমাদর বাংলাদেশ পেয়েছে তা অসাধারণ। আপনি জানেন যে, গত ছয় মাস আগেও এই দল অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছে। টেস্ট ম্যাচগুলো সবচেয়ে স্বল্পতম ওভারবিশিষ্ট টেস্ট ম্যাচ হয়েছে অর্থাৎ আড়াই দিনে শেষ হয়েছে। আমরা সেখানে যে কম্পিটিটিভনেস দেখিয়েছি এর জন্য অবশ্যই খুব গর্ববোধ করি। খেলোয়াড়রা অবশ্যই প্রশংসা পাবেন এর জন্য।

শ্রীলঙ্কার মাটিতে টার্গেট ১৯১ রান, আপনার কী মনে হয়েছে এই ম্যাচটা জেতা সম্ভব হবে?

আসলে পঞ্চম দিনে এসে ১৯১ রান কিন্তু খুব কম রান ছিল না। শুরুতে বাংলাদেশ হোঁচটও খেয়েছে, কারণ সেই ম্যাচে মাত্র ২২ রানে আমাদের দুটি উইকেট যায়। পরে তামিমের যে পজিটিভনেস ছিল সেটাই খেলাকে মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। আমরা ম্যাচে ডিফেন্ড না করে অ্যাটাকিং খেলেছি, আমার মনে হয় টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্তটা সঠিক ছিল। এই জয়টা আরও সহজতর করে দিয়েছে। পরের দিকে একটি-দুটি উইকেট কম যেতে পারত। তবে তামিমের ও সাব্বিরের ওই পার্টনারশিপটা জয়টাকে নিশ্চিত করেছে।

ক্রিকেটার ছিলেন, খেলাটার সঙ্গে দীর্ঘদিন জড়িত, আপনার কী মনে হয় এই কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ড এই রান করতে পারত?

এটা বলা কঠিন। কারণ শ্রীলঙ্কায় ২০০ রানের নীচে অলআউট হয়ে ছলি অস্ট্রেলিয়া। আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশের অ্যাপ্রোচ লেভেল ওয়াজ ভেরি গুড। যদিও তামিমকে বলেছি, আমি অসন্তুষ্ট, কারণ সে সেঞ্চুরি করতে পারেনি। কিন্তু তার ৮২ রান যে কি অবদান রেখেছে! এটা একটা ক্ল্যাসিক্যাল ইনিংস ছিল। ডাউন দ্য উইকেটে এসে স্পিন বোলারদের যেভাবে চার মেরেছে তা অসাধারণ। ওই ডাস্টি এবং পঞ্চম দিনের উইকেটে সে এত ভালো খেলেছে। আপনি কদিন আগে দেখেছেন অস্ট্রেলিয়া পঞ্চম দিনে ইন্ডিয়ার সঙ্গে কত রানে গিয়ে আউট হয়েছে। এ ধরনের উইকেটে খেলা অনেক কঠিন।

বাংলাদেশ যে এখন একটি বড় দল বা পরিণত দল হয়ে উঠছে- এটা কি তারই নির্দেশ করে?

আমরা মনে করি, আমরা ভালো প্লেয়ার তৈরী করেছি, তামিম, সাকিব, মোস্তাফিজের মতো। সাকিবের মতো অলরাউন্ডার, যে বিশ্বের সব ধরনের খেলায় যেকোনও  র‌্যাঙ্কিং এর শীর্ষে তার মতো এত বেশি দিন কেউ থাকতে পারেনি। রজার ফেদেরারের মতো প্লেয়ারও পারেনি। সেই অবস্থান থেকে যদি আপনি চিন্তা করেন, বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশ থেকে উঠে আসা একজন ক্রিকেটার সারা পৃথিবীতে সেরা। আমরা আসলে দলগতভাবে ভালো এবং মানসিকভাবে বড় হতে পারছিলাম। শ্রীলঙ্কা সিরিজে আমাদের সেই মানসিক শক্তিটা বেড়েছে। আমাদের এই ম্যাচুরিটিটা ধরে রাখতে হবে। আগামী বছরে আরও দশটা টেস্ট ম্যাচ আছে, আমাদের প্রমাণ করতে হবে আমরা পূর্ণ শক্তির একটি দল।

একটা কথা প্রায়ই ওঠে এবং সেটা একাদশ নিয়ে, যেখানে বোর্ড প্রেসিডেন্ট বা আপনাদের হস্তক্ষেপ করতে হয় কিন্তু কেন?

দেখেন, এখানে দুইটা জিনিস, একটা হলো আমাদের হস্তক্ষেপ করা লাগে না। টিমের যে সিলেকশন প্রসেস সেখানে সিলেক্টার রয়েছেন, আমাদের হেড কোচও একজন সিলেক্টর, দলের অধিনায়ককেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তার মতামত নেওয়ার জন্য। তারা দল গঠন করেন না, কিন্তু ১৫ জনের  একটি স্কোয়াড তৈরি করেন। সেখানে মাননীয় প্রেসিডেন্ট তার সম্মতি জ্ঞাপন করেন। অনেক ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয়, ওরা যেটা করেছে সেটাকেই সম্মতি দেবেন, তবে দল গঠন সম্পর্কে উনার জানার অধিকার রয়েছে, যেহেতেু তিনি অনুমোদন দিচ্ছেন। সেই লজিকে যদি কোনোভাবে পরিবর্তন আসে তাহলে সেটা স্বাভাবিক। নির্বাচকরা দল দেন ১৫ জনের । কিন্তু প্রেসিডেন্ট এবং বোর্ডের ক্ষমতা রয়েছে  বোর্ডের খরচে এর অধিক খেলোয়াড় দলে অর্ন্তভুক্ত করা। আর এটা করা হয় কারণ তারা যখন ১১ জন বানাবেন তখন তাদের কাছে যেন  পর্যাপ্ত অপশন থাকে। আপনি কিন্তু দেখবেন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া প্রচুর খেলোয়াড় নিয়ে আসে। আমরা যদি টিম ম্যানজেমন্টেকে ছোট গন্ডির মধ্যে বেধে রাখি, তাদের টিম সিলেকশনটা একটু ডিফিকাল্ট হয়।

রিয়াদ ফিরে এলেন আবার গেলেন, মিরাজও তাই মিডিয়ায় এসেছে, এটা নাকি বোর্ড প্রেসিডেন্টের নির্দেশে?

আমার মনে হয়, এটা সঠিক নয়। আমাদের প্রেসিডেন্ট মহোদয় ইতোমধ্যে এটার সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছেনে। রিয়াদকে একটা টেস্ট ম্যাচে থেকে রেস্ট দেওয়া হয়েছিল, তার ফর্ম ফিরে পাওয়ার জন্য। সে বোর্ডের কাছে ছুটি চেয়েছিল, দুর্ভাগ্যবশত যেভাবে এটা মিডিয়াতে এসেছে তার ছুটিটা বন্ধ হয়ে যায়। মিডিয়াতে  যেভাবে এসেছে সেটা সত্য নয়। বাংলাদেশ দল এখন ভালো খেলছে, ভালো একটি অবস্থানে আছে, এখানে গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং ট্যাবলয়েড নিউজ না করাটাই আমি মনে করি দলের জন্য ভালো। শুনতে ভুল হয়েছে, অথবা বলতে ভুল হয়েছে। চলে যাচ্ছে মানে এই না সে স্কোয়াডের বাইরে। কারণ তখনও আমাদের ওয়ানডে দল দেওয়া হয়নি। আপনি দেখেন, প্রতিটা ক্ষেত্রে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার ফসল ফলেছে। সে মানসিক ব্রেক পেয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৭০ রানের একটা ইনিংস খেলেছে। প্রথম এক দিনের ম্যাচে জয়েও তার ভূমিকা আছে। আমরা প্রতিটা  সিদ্ধান্ত দলের ভালোর জন্য করি, ব্যক্তির জন্য নয়। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, মাননীয় প্রেসিডেন্ট এবং কোচিং ম্যানেজমেন্ট কোনো ফেভারিটিজম করেন না,  সব প্লেয়ারকে সমান মনে করেন, সেই সাকিব থেকে শুরু করে মিরাজ। মিরাজের ক্ষেত্রে যেটা হয়েছে সেটাও প্রেসিডেন্ট সাহেব বলেছেন। যখন দেখা গেল শ্রীলঙ্কা দলরে এতগুলো বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান, আমাদের একজন অফ-স্পিনার প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে মিরাজ শুভাগত হোমের আগে এসেছে একজন অফ-স্পিনার হিসেবে। ব্যাটসম্যান হিসেবে নয়। আমরা কার সাথে খেলছি এটা বিবেচনা করেই আমাদের টেকনিক্যাল সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হয়। সেক্ষেত্রে আমরা ১৫ জনের জায়গায় ১৬ কিংবা ১৭ জন নিয়ে যাচ্ছি, এটা কোনো সমস্যা না। আমাদের বিরোধী দল তো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উইকেট তৈরি করবে। এমনও হতে পারে আমাদের চারটা স্পিনার খেলাতে হতো, তখন আমরা পেসার কমিয়ে দিতাম। এটা ডিপেন্ড করে উইকেটের ওপর।

 

আপনি বহু বছর ধরে ক্রিকেট বোর্ডে, আপনার অনেক বড় অবদান ক্রিকেট উন্নয়নে অনেক বোর্ড প্রেসিডেন্টকেও কাছ থেকে দেখেছেন, তাদের সঙ্গে কাজ করেছেন, বর্তমান বোর্ড প্রেসিডেন্টকে আপনি কত নম্বর দিবেন?

আমি মনে করি সকল বোর্ড প্রেসিডেন্টের নিজের একটি স্বকীয়তা আছে। বোর্ড প্রেসিডেন্ট সকল স্তরে সবাইকে নিজের মতো কাজ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। আমাদের ইমার্জিং এশিয়া কাপ হচ্ছে, সবই বোর্ডে কর্মরত ব্যক্তিরাই ম্যানেজ করছে। বোর্ডে এখন কর্পোরেট গভর্নমেন্ট রয়েছে এবং সকল র্কমকাণ্ড সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে । তা না হলে এই প্লেয়ারগুলো কোথা থেকে আসছে? আমাদের এখানে নিয়মিত অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬, ১৮ ক্রিকেট হচ্ছে। নতুন নতুন প্লেয়ার তৈরি হচ্ছে। এগুলো কিন্তু আমাদের বোর্ড নিয়মিতই করে যাচ্ছে। সেই জায়গায় তিনি কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেন না। কারণ এগুলো আমাদের ক্রিকেটের লাইফলাইন। তবে কোথায় কি হচ্ছে সে বিষয়গুলো তিনি জেনে রাখেন। দলের সাথে সব সময় থাকার চেষ্টা করেন। এর আগে যারা প্রেসিডেন্ট ছিলেন তারাও তাই করেছেন। আমি কাউকে ছোট করে দেখতে চাই না। একেক সময়ের চাহিদা একেক রকম। আজ থেকে বিশ বছর আগে বোর্ডের চাহিদা ছিল, আমরা ফুল মেম্বার হব, তারপর ভালো খেলে মাঠে টিকে থাকব। তারপর আমরা ভালো খেলা শুরু করেছি, এখন আমাদের অবস্থা অন্য জায়গায়।

টেস্টের পর ওয়ানডেতে এত বড় জয় আসবে ভাবতে পেরেছিলেন?

আমি সেই খেলায় মাঠে উপস্থিত ছিলাম। খেলার আগেও প্লেয়ারদের সাথে কথা হয়েছে। টিম মিটিং ছিল। যেটা আমাদের দলের সবচেয়ে ভালো জিনিস সেটা আত্মবিশ্বাস। কারণ আমরা বাইরে থেকে চিন্তা করি সব ম্যাচেই আমরা জিতব। প্রতিটি মানুষই তাই চিন্তা করে। আর মাঠে যখন ১১ জন খেলে তখন বাইরে থেকে কিছু করার থাকে না। তারা এখন যেটা শুরু করেছে প্রতিটি খেলার আগে নিজেরা একটি মিটিং করে। আর এই মিটিংয়ে তারা কে কি রোলে খেলবে এসব বিষয়েও আলাপ করেছে। এই ম্যাচটি দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সাকিবের সেরা একটা ইনিংস দেখতে পেরেছি। এই ওয়ানডেতে সাকিব অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছে, যেটি অনেকেরই চোখে পড়েনি। সে প্রথম ৫০ রানে একটি চার মেরেছে এবং ৭২ রানের একটি ইনিংস খেলেছে ৭১ বলে। দলের জন্য সাকিব এবং তামিম অসাধারণ ইনিংস খেলেছে। কোনো জায়গায় রানের গতি বন্ধ হয়নি। এ ধরনের প্রফেশনাল ক্রিকেটে আমরা খুব কমই পেয়েছি।

মোস্তাফিজ ইনজুরি থেকে ফেরার পর তার বোলিং রিদম একটু কমেছে কি, আপনার মূল্যায়ন কি?

মুস্তাফিজ রান দিচ্ছে এটা আসলে তার উপর নির্ভর করে না। এটা নির্ভর করে পিচ কন্ডিশনের ওপর। আজকাল একজন প্লেয়ারের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে এত বেশি ভিডিও ফুটেজ তৈরি করা হয়। অপোনেন্ট আসলে সবকিছু জেনে যায়। তারপরও মোস্তাফিজ যে দুটি স্পেল করেছে তা আমাদের জয়ের পথ সুগম করেছে। আমি মনে করি, ফাস্ট টেস্টের ফাস্ট স্পেলের পর থেকে সে অসাধারণ বোলিং করছে। দ্বিতীয় টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি উইকেট সে পেয়েছে। প্রথম ওয়ানডেতে তিনটি উইকেট পেয়েছে। আর এতবড়  একটি ইনজুরি থেকে ফিরে যে সে খেলতে পারছে এটাও কম কিছু নয়। এই মুহূর্তে ১৪০ গতিতে বল করতে পারছে। আমাদের জন্য আশার খবর।

স্পিন কোচ নিয়ে অনেকদিন ধরে কথা হচ্ছে, নতুন স্পিন কোচ আসলে কোন পর্যায়ে?

আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, খুব শিগগিরই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। সারাবিশ্বেই স্পিন বোলিং কোচের সংখ্যা খুব বেশি নয়। স্পিন কোচ আসলে একটু দুর্লভ হয়ে যাচ্ছে। আমরা কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি, সেটি শিগগিরই ঠিক হয়ে যাবে।

আইসিসিতে লভ্যাংশ নিয়ে একটা আলোচনা হচ্ছে, ইন্ডিয়া আগে ২০ শতাংশ পেত, এটা রহিত করা হয়েছে নতুন নিয়মেও ইন্ডিয়াকে বেশি দেয়ার বিষয়টি থাকছে, নিয়ে আইসিসিতে আপনাদের অবস্থানটা কী?

আমাদের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তারা যে যে পরর্বিতন এনেছে কিছু ক্ষেত্রে আমাদের সাথে যুক্তিতর্ক হয়েছে। সেগুলোকে আমরা সমর্থন করিনি। এর বাইরে টাকার ব্যাপারে আমরা এখন যা পাচ্ছি তার চেয়ে বেশি পাওয়ার ব্যাপারে আমরা সমর্থন করি। বাংলাদেশ যা পাওয়ার কথা তার থেকে ২০ থেকে ৩০ % বেশি পেতে পারে সে প্রচেষ্টা চলবে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দূতিয়ালিতে বিসিবির অবস্থান কোন পর্যায়ে?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ যেমন মাঠে ভালো খেলছে, তেমন মাঠের বাইরেও ভালো খেলছে। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে যে সম্মান দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, তা অভূতপূর্ব। আমি মনে করি আমরা এমন একটি পরিস্থিতিতে রয়েছি বাংলাদেশের অবস্থানে পাল্লার মাপকাঠি হচ্ছে। আপনি হয়ত জেনে থাকবেন, প্রথমত  যেহেতেু আইসিসির সংবিধান বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপে আমাদের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তারপর যে সিদ্ধান্তগুলো এসেছে সে সিদ্ধান্তের সবগুলোতে তার মত ছিল না। আমরা সবাই বিশ্বাস করি, পৃথিবীর ক্রিকেট ভালো থাকুক। আর যে সমস্যাগুলো এসেছে তা সকলরে সাথে  সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধান হবে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের অবস্থান লিথিতভাবে জানিযেছে এবং  এটা পরর্বতী সিদ্ধান্তে ভুমিকা রাখবে। আগামী জুনের মধ্যে যে পরিস্থিতি তাতে সেগুলো সমাধান হবে।

ফিফা আমেরিকা থেকে সবচেয়ে বেশি রেভিনিউ পায় কোরিয়ার মতো ছোট দেশ থেকেও বড় রেভিনিউ পায় ফিফা, কিন্তু ফিফার বন্টন আইসিসির মতো না, ফিফা থেকে সবচেয়ে গরিব দেশগুলোই বেশি টাকা পায় আইসিসির ক্ষেত্রে এটা উল্টো নিয়ম কেন?

এখানে বিরাট একটি ব্যবধান রয়েছে, আইসিসি হচ্ছে একটি মেম্বার্স কাউন্সিল। আপনি জানেন যে, ফিফার যারা বোর্ড বা জেনারেল মেম্বার তারা ব্যক্তিগত নামে হয়। ফেডারেশনে একটি বোর্ড থাকতে পারে তার বাইরেও ব্যক্তি নামে মেম্বার হতে পারে। আইসিসিতে কিন্তু এমন নয়। আর  আইসিসিতে  যে আয়টা আসে, সেটা সকল দলের অংশগ্রহণটাকে মেনেই করতে হয়। আইসিসির  আয়ের  বিতরণ  ব্যবস্থা হচ্ছে সকল কর বাদ দিয়ে যে সারপ্লাস থাকে তার ৭৫% র্পূণ সদস্য (১০ জন) পায়। আর বাকি ২৫ ভাগ  অ্যাসোসিয়েট মেম্বাররা পাবে । তবে খরচরে  মধ্যে একটা অংশ  রয়েছে  যাকে বলা হচ্ছে  কন্ট্রিবিউশন, এটা দলরে বাণিজ্যিক মূল্য হিসেবে নির্ধারিত হচ্ছে । এখন এই কন্ট্রিবিউশন কস্টটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। অন্যান্য ইভেন্ট খরচ থেকে কমিয়ে যদি আমাদের টাকা বৃদ্ধি করা যায় সেটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য।

সামনে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, সেখানে কতটা সাফল্য আশা করেন?

বর্তমান সময়ে ইংল্যান্ডে যতগুলো খেলা হয়েছে সবগুলোই প্রায় তিনশ রানের বেশি হয়েছে। ইংল্যান্ডরে গ্রীষ্মের প্রথম দিকে সেখানে খুব লো স্কোরিং ম্যাচ হতো। এখন আবহাওয়ারও পরিবর্তন এসেছে। আমরা ভালো খেলব, আমাদের কেউ ছোট করে দেখে না। আমরাও আমাদের ছোট করে দেখি না। যেকোনো লড়াইয়ে আমরা যদি ভালো গেইম প্ল্যান করতে পারি, যেকোনো দিন যেকোনো দলকে হারাতে পারি। এখন বাংলাদেশ দল খেলতে নামে জেতার জন্য, ভালো খেলে হারার জন্য নয়। সুতরাং আমরা খুব আত্মবিশ্বাসী, আমরা যদি এই টেম্পুটা বজায় রাখতে পারি, আমরা দুই-একটি আপসেটও করতে পারি।

আপনাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেট আজকের এই অবস্থানে আপনি কতটা সন্তুষ্ট বা তৃপ্ত?

আমিতো আপনাকে প্রথমেই বললাম। আমি আমার বুদ্ধি হওয়ার পর কখনো ভাবিওনি বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই অবস্থানে যাবে। দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তির বিপক্ষে তিনদিনের মধ্যে একটি টেস্টে জিতবে । দেশের বাইরেও টেস্ট খেলব এবং জিতব এসবও ভাবিনি। আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগছে, আমরা উচ্ছ্বাস করতে চাচ্ছি কিন্তু খলেোয়াড়রা উচ্ছ্বাস করতে চাচ্ছে না। আগে ম্যাচ জিতলেই বলত আমাদের বোনাস কত, আমাদের কি হবে? এখন কেউ কিন্তু এসব কথা বলে না। দলের কেউ একটি আবেগ দেখায়নি। প্রথম ম্যাচের পর দলের সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্লেয়ার মেহেদী হাসান মিরাজের ইন্টারভিউটা পড়েছেন নিশ্চয়ই। উনিশ বছরের একটি ছেলে প্রথম একদনিরে ম্যাচ খেলেছে, প্রথমটিতে জয় পেয়েছে। আগেকার দিন হলে আমরা উচ্ছ্বাস করতাম, অথচ সে বলছে এখনও আনন্দ করার সময় আসেনি। খেলা এখনও শেষ হয়নি। খেলা শেষ হলে আমরা কথা বলব। এই কথাটা যখন দলের উনিশ বছরের একটা ছেলের কাছ থেকে শোনা যায়, তখন বোঝা যায় এই দলটা কত ম্যাচিউরিটি পেয়েছে, কতটা পরিণত তারা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত