শাহরাস্তিতে বন্ধের নির্দেশের পরও চলছে হাসপাতাল

চাঁদপুর সংবাদদাতা, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ৩১ মে ২০১৭, ০৮:২৭

সরকারি নির্দেশ অমান্য করে চিকিৎসাসেবাসহ অন্যান্য কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারে মেডিল্যাব স্পেশালাইজড হাসপাতাল। গত ৫ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ এবং লাইন ডাইরেক্টর হসপিটাল সার্ভিসেস ম্যানেজমেন্টের পরিচালক ডা. আবুল কায়সার মাহমুদ সাইদুর রহমান। পরিপত্রটি (স্মারক নং স্বাঃ অধিঃ/ হাসঃ/ চট্টঃবিঃ/ বিবিধ-২/২০১৫/৬৩১) পাঠানো হয় চাঁদপুর সিভিল সার্জন বরাবর।

পরিপত্রে উল্লেখ  বলা হয়, লাইসেন্স ছাড়া কোনো বেসরকারি হাসপাতাল/ডায়াগনস্টিক চালানোর সুযোগ নাই। তাই চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার উয়ারুক বাজারের মেডিল্যাব স্পেশালাইজড হাসপাতালের সব কার্যক্রম বন্ধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হইল। বিধি মোতাবেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত হইলে পুনরায় কার্যক্রম চালুর অনুমতি দেওয়া যাইতে পারে।

একই তারিখে পরিপত্রটি সিভিল সার্জন ছাড়াও অনুলিপি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য), ড্রিম আর্কিটেক্ট চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেককে দেয়া।

গত সোমবার বিকেলে সরজমিনে গিয়ে উয়ারুক বাজারের ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম চলমান। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে হাসপাতালের নানান অনিয়মের কথা।

সোমবার বিকেলে হাসপাতালের রোগীদের সঙ্গে কথা বলা ও চিত্রধারণ করার সময় মেডিল্যাব স্পেশালাইজড হপিাতালের দায়িত্বরত চেয়ারম্যান ডা. মো. রইছ উদ্দিন সুজন তার কক্ষে সাংবাদিকদের ডেকে নেন। প্রথমে তিনি জানতে চান সিভিল সার্জন অথবা থানার ওসির অনুমতি নিয়ে তারা সেখানে গেছেন কি না।

এ ছাড়া তিনি ‘কালের খেয়া’ নামের একটি পত্রিকার পরিচয় দিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেয়া নোটিশ সম্পর্কে বলেন, ‘সিভিল সার্জন অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে ঢাকা থেকে কয়েকজন কর্মকর্তা ও সাংবাদিক তদন্তে এলেও কার্যক্রম বন্ধের কোনো কথা বলেনি তারা।’

ডা. মো. রইছ উদ্দিন আরো বলেন, ‘চাঁদা ও সুবিধা না দেয়ায় স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়ে আমাদের হয়রানি করে আসছে।’

চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক  মো. সেলিম বলেন, ‘নোটিশ পেয়ে আমরা ওই হসপিটালের চেয়ারম্যানের বরাবর দিয়েছি। আর এই হসপিটালটির লাইসেন্স নেই। আমাদের পাঠানো নোটিশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠিয়েছি। কিছুদিন আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেও তদন্ত হয়েছে।’

সিভিল সার্জন মতিউর রহমান মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এভাবে অনুমতি ছাড়া কোনো  হাসপাতাল চলতে পারে না। শিগগির প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তা হিসাবরক্ষক মো. সেলিম ভালো বলতে পারবেন।’

(ঢাকাটাইমস/৩১মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত