আবগারি শুল্ক: আগের হারে ফিরলে ‘ক্ষতি’ কোটি মানুষের

মহিউদ্দিন মাহী, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০১৭, ০৮:৩৩

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক আরোপে অর্থমন্ত্রী নতুন যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে বিভিন্ন স্তরে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু তিনি প্রায় এক কোটি গ্রাহককে এই শুল্ক থেকে মুক্তি দিয়েছেন, সেটি আলোচনায় আসেনি। ফলে অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব বাতিল হয়ে আগের পদ্ধতিতে ফিরলে আবারও শুল্কের আওতায় আসবে এই কোটি গ্রাহক।

এই এক কোটি গ্রাহক তারাই যাদের ব্যাংকে টাকা কম থাকে। অর্থাৎ এরা ২০ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংকে রেখে থাকেন।

১ জুন অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। এই প্রস্তাবে তিনি বছরের কোনো একদিন ব্যাংকে এক লাখ টাকার ঊর্ধ্ব থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা বা উত্তোলন হয়েছে এমন হিসাবে আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন।

একইভাবে ১০ লাখ ঊর্ধ্ব থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত দেড় হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে আড়াই হাজার টাকা, তৃতীয় স্তরে এক কোটির বেশি থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সাত হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকা এবং পাঁচ কোটি ঊর্ধ্ব তার বেশি জমার ক্ষেত্রে ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবে ২০ হাজার টাকার বেশি এবং এক লাখ টাকার কম থাকলে ১৫০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক দিতে হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নতুন প্রস্তাবে এদের করের আওতার বাইরে রাখার কথা বলেছেন।

অর্থমন্ত্রীর এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান আবগারি শুল্কের বিষয়টি বিবেচনা করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এখন যদি অর্থমন্ত্রী তার নতুন প্রস্তাব বাতিল করে আগের পদ্ধতিতে ফিরে যান, তাহলে আবগারি শুল্কের আওতায় পড়বে মোট এক কোট ৭৯ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫ জন ব্যাংক হিসাবধারী। 

আর অর্থমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাবে আবগারি হিসাবের আওতায় পড়বে ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪০ জন ব্যাংক হিসাবধারী। কারণ, এই পরিমাণ গ্রাহকের হিসাবেই এক লাখ টাকার বেশি জমা আছে ব্যাংকে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ হিসাব অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টধারীর সংখ্যা মোট ৮ কোটি ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৯৪৬ জন। ১ লাখ টাকার নিচে হিসাবধারীর সংখ্যা ৭ কোটি ৩০ লাখ ৮১ হাজার ৯০৬। আর ২৫ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে হিসাবধারীর সংখ্যা ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ২৫। বাকিরা এক লাখ টাকার বেশি হিসাবধারী।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব আলী ঢাকাটাইমসকে বলেন, অর্থমন্ত্রীর নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে কম আয়ের মানুষের জন্য অনেক ভালো হতো। কিন্তু এটি বাতিল হলে সাধারণ মানুষদের বড় একটি সংখ্যা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক একজন গভর্নরও এই বিষয়টি ঢাকাটাইমসকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নতুন নিয়মে এক লাখ টাকার ওপরে আবগারি শুল্ক বেশি আরোপ করা হয়েছে। এটা বাতিলের দাবি উঠছে। এটা বাতিল হলে আগের নিয়মে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ধারীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেয়া অব্যাহত থাকবে। এটা আরও বেশি খারাপ হবে। কারণ এক লাখ টাকার অ্যাকাউন্ট সংখ্যার চেয়ে ২০ থেকে ১ লাখ টাকার মধ্যে অ্যাকাউন্টধারীদের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।’

ঢাকাটাইমস/৭জুন/এমএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত