খালেদা জিয়া কেবল নিজেকে নিয়েই ভাবেন?

শওগত আলী সাগর
| আপডেট : ০৯ জুন ২০১৭, ১১:১০ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০১৭, ১১:০৬

বেগম খালেদা জিয়া একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে গিয়ে গরমে ‘কষ্ট’ পেয়েছেন। সেই কষ্টের কারণে একটি ইফতার পার্টিতে গিয়ে তিনি বক্তৃতা পর্যন্ত করেননি। খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি এত গরমে কথা বলতে পারছি না। আজকে সকাল থেকে গরমের মধ্যে আদালতে ছিলাম। এত গরম, ‘এত রোদের মধ্যে।’

খালেদা জিয়া আদালতে গরমে তার যে কি কষ্ট হয়েছে সেটিও বলেছেন। তার ভাষায়, ‘খানে এত এসি আছে, সেগুলো পর্যন্ত চালায় না। তারপরে রিমোট কোথায় লুকায়ে রাখে। কত নাটক ওখানেও হতে থাকে। তারপরে অনেক চিল্লা-চিল্লি করার পরে শেষের দিকে একটু এসি দিয়েছে।’

বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় নেত্রী। দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি, বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। ভবিষ্যতে আবার প্রধানমন্ত্রী হতে চান। অথচ তার চিন্তা কি ব্যক্তিকেন্দ্রীক, আত্মকেন্দ্রীক। খালেদা জিয়া যে কথা বলেছেন, সেটি সত্য হলে সেটিকে আদালত  ভবনের অব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য আদালত ভবনে সুস্থ সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত রাখাও ন্যয় বিচারের অংশ। সেটির অনুপস্থিতি ঘটলে তা নিয়ে কথা বলার আছে।

রাজনীতিক হিসেবে সেই অ্যাঙ্গেল থেকে বিষয়টি দেখতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি করেননি। তার (খালেদা জিয়া) চিন্তা চেতনায় সাধারণ গণমানুষ থাকলে আদালত ভবনে গণমানুষের দুর্ভোগ তাকে বিচলিত করতো। কিন্তু তার মননে সাধারন মানুষ নেই বলে, তার চিন্তাটা আত্মকেন্দ্রীক বলে তিনি নিজের কষ্টেই বিচলিত হয়েছেন।

আদালত ভবনের যে চিত্র বেগম খালেদা জিয়া তুলে ধরেছেন- সেটি কি কেবল তার জন্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে? না কি এটিই নিত্যদিনের চিত্র। নিত্যদিনের চিত্র হলে এটির অবসান হওয়া দরকার। জাতীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া সেই দাবি তুলতে পারতেন। আচ্ছা, খালেদা জিয়া যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তখন আদালতের অবস্থা কেমন ছিলো? তখন কি এর চেয়ে ভালো কিছু ছিলো? খালেদা জিয়া কি কখনো খবর নিয়েছিলেন সেই সময়ে?

মানুষের বেদনাবোধ স্পর্শ করে আমরা এমন রাজনীতিকের সন্ধান করি, এমন নেতার জন্য প্রার্থনা করি। বেগম খালেদা জিয়া তেমন নেতা নন- সেটি তিনি নিজেই জানান দিলেন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে।

লেখক: কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত