অঞ্জনার দৌড়ঝাঁপ

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৭, ১১:০৮

ঢাকাই ছবির নাচের রানী তিনি। সিনেমায় নাচে তার কাছাকাছি আসতে পারেননি কেউ। তাকে নিয়ে গান হয়েছে। ‘নাচো নাচো গো অঞ্জনা, নাচো কোমড় দোলাইয়া’। সেই গানেও নেচেছেন তিনি। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে সিনেমায় অভিনয় করছেন। ৩৫০টির বেশি ছবিতে অভিনয় করে দর্শক হৃদয়ে অঞ্জনা আছেন ভালোভাবেই। নায়িকা অঞ্জনা বলে পরিচিত এই বহুমুখী প্রতিভাধর নারীর পুরো নাম অঞ্জনা ‍সুলতানা।

অভিনয় জগতের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় তিনি। অঞ্জনা মহিলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে আছেন আওয়ামী সাংস্কৃতিক লীগেও। দলীয় অনুষ্ঠানে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। সর্বশেষ কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমার হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছিলেন তিনি।

সর্বশেষ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন অঞ্জনা সুলতানা। এবার সংসদ সদস্য হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন অঞ্জনা সুলতানা। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে চান বড় পর্দায় একসময়কার জনপ্রিয় এই নায়িকা। দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে তিনি এ ব্যাপারে একাধিকবার কথা বলেছেন। খুব শিগগির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছেও নিজের ইচ্ছের কথা তুলে ধরবেন তিনি।

তারকা অভিনেত্রী-শিল্পীদের মধ্য থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। ‘সারেং বউ’ খ্যাত সারাহ বেগম কবরী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। ছোটপর্দার অভিনেত্রী তারানা হালিম সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য ছিলেন। এখন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। কণ্ঠশিল্পী মমতাজ নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদে এসেছেন।

অঞ্জনা সুলতানাও তাদের মতো সংসদ সদস্য হওয়ার আশা করছেন। এবার কি সত্যিই আশাপূরণ হবে তার? অঞ্জনা সুলতানা নিজেই জানালেন, সবকিছু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ওপর নির্ভর করছে।   

সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহের কথা স্বীকার করে অঞ্জনা সুলতানা বুধবার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হলে মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ আছে। আমি চাঁদপুর থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।’ তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের পুরান বাজারের শ্রীরামদি গ্রামে।

বিষয়টি নিয়ে দলের কারো সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা? জানতে চাইলে অঞ্জনা বলেন, ‘হ্যাঁ আমি আমার আগ্রহের কথা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের কাছে বলেছি। দীপু মনি আপাকেও বলেছি। শিগগির মাননীয় নেত্রীর (শেখ হাসিনা) কাছেও যাবো। সবকিছু তাঁর ওপরই নির্ভর করছে।’

সর্বশেষ পেশাজীবীদের ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে জানিয়ে অঞ্জনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একবার আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশে এসেছিলেন। তখন গণভবনে একক নৃত্যের আয়োজন করা হয়েছিল। আমি একাই সেদিন নৃত্য পরিবেশন করেছিলাম। আমার নাচ দেখে বঙ্গবন্ধু আমাকে ডেকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। ওইদিনটির কথা মনে হলে আমার এখনও গর্ব হয়। আমি আপাকে (শেখ হাসিনা) সেদিন ওই ঘটনা বলেছিলাম। তিনি শুনে খুব খুশি হন।’ 

চলচ্চিত্রে অঞ্জনা সুলতানা

অভিনয়, নৃত্য ও মডেলিং এই তিনটিতেই অঞ্জনা সফলদের একজন। তার অভিনীত প্রথম ছবি বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’। কিন্তু দর্শকের সামনে তিনি প্রথম আসেন মাসুদ পারভেজের ‘দস্যু বনহূর’ ছবির মাধ্যমে।  

১৯৬৫ সালের ২৭ জুন ঢাকা ব্যাংক কোয়ার্টারে জন্মগ্রহণ করেন অঞ্জনা। সংস্কৃতিমনা পারিবারিক আবহে ছোটবেলা থেকেই বেড়ে উঠেছেন। নৃত্যে ছিল বিশেষ দুর্বলতা। বাবা-মা তাকে ভারতে পাঠান নৃত্য শেখাতে। সেখানে তিনি ব্যাক্তিগতভাবে ওস্তাদজি বাবুরাজ হীরালালের অধীনে বেশ ভালোভাবেই কত্থক নৃত্য আয়ত্ব করে দেশে ফেরেন।

পরিণীতা’ (১৯৮৬)‘গাংচিল’ (১৯৮২) ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পান অঞ্জনা। জাতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি দুবার বাচসাস, নৃত্যে দুইবার শ্রেষ্ঠ জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৯৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে নৃত্যে প্রথম হয়ে জিতে নিয়েছেন হলিউড অ্যাওয়ার্ড পুরষ্কার।

নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে সর্বাধিক ৩০টি ছবির নায়িকাও অঞ্জনা। এর মধ্যে অশিক্ষিত, রজনীগন্ধা, আশার আলো, জিঞ্জির, আনারকলি, বিধাতা, বৌরানী, সোনার হরিণ, মানা, রামরহিমজন, সানাই, সোহাগ, মাটির পুতুল, সাহেব বিবি গোলাম ও অভিযান উল্লেখযোগ্য।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/এইচএফ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত