খাতা কলম, পোশাকের বাণিজ্যও এখন স্কুলে

কাজী রফিক
 | প্রকাশিত : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৪

বেতন আর নানা ধরনের ফি ছাড়াও স্কুলগুলো টাকা কামাইয়ে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে। এর মধ্যে আছে বই, খাতা-কলম বিক্রি এমনকি পোশাক তৈরির জন্য প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট করে দেওয়া। বলাই বাহুল্য, বাজারদরের চেয়ে বেশি টাকায় কিনতে হয় এসব উপকরণ।
পর্যাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাব আর সন্তানদের ভর্তি করতে অভিভাবকেরা যেখানে মরিয়া থাকেন, সেখানে এসব বিষয় নিয়ে বাদানুবাদের সুযোগ কোথায়? তাই সবকিছু মেনে নেন তারা।

এই বিষয়কে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক সমস্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষাবিদ এ এন রাশিদা বেগম। নটর ডেম কলেজের সাবেক এই অধ্যাপক ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এটা অবশ্যই অনৈতিক। পুরো বিষয়টাই বাণিজ্য। যে যেভাবে পারছে শিক্ষাটাকে ব্যবসায় পরিণত করছে। আর এখানে টপ-টু-বটম সবাই জড়িত। এই বাণিজ্যের ভাগটা সবাই পায়।’

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের মোহাম্মদিয়া হাউজিংয়ে মূল সড়কে গ্রিনউডস স্কুল। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের নামসহ খাতা সরবরাহ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে এই স্কুলের খাতা বিক্রি হয়েছে স্থানীয় মোহাম্মদিয়া লাইব্রেরিতে। ২০১৯ সাল থেকে লাইব্রেরির পক্ষ থেকে খাতা পাঠানো হচ্ছে স্কুলেই। আর শিক্ষার্থীরা খাতা স্কুল থেকেই কিনছে। স্কুলে বিক্রি হওয়া খাতার মূল্য বাজারমূল্যের তুলনায় চড়া।

উত্তরা এলাকায় নামীদামি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘আমি জানতাম স্কুলটা ভালো। উত্তরার স্কুল, পড়াশোনা ভালো হবে, এটা ভেবেই ভর্তি করেছিলাম। ভর্তির টাকা বেশি, বেতন বেশি সব জানি। তাও ভর্তি করলাম, কারণ বাচ্চারা যেন কিছু শেখে। কিন্তু ভর্তি করার পর দেখলাম, এরা আমাদের গলা কাটছে। নার্সারির বাচ্চার বই-খাতা কিনতে দিতে হয়েছে দুই হাজার ৭৯০ টাকায়। আপনি চিন্তা করতে পারেন, তারা এই তিন হাজার টাকায় একটা বাচ্চাকে কী বই আর কয়টা খাতা দেবে? কদিন পর তো আবার খাতা, পেনসিলের টাকা চাইবে।’
স্কুলটির সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বই বাবদ নেওয়া হয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকা। 

মোহাম্মদপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনেই ইসলামিয়া লাইব্রেরি। সেখানেই মিলছে স্কুলগেটের ছবি ও স্কুলের নামসমৃদ্ধ খাতা। দামও সাধারণ খাতার তুলনায় বেশি। আবার শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণের জন্য দেওয়া হচ্ছে বাড়তি বই। স্কুল থেকে বইয়ের নাম বলে না দিলেও লাইব্রেরিতে গিয়ে স্কুলের নাম বললেই পাওয়া যাচ্ছে নির্দিষ্ট বইটি।

একই লাইব্রেরিতে পাওয়া যায় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, রেইনবো স্কুলসহ স্থানীয় প্রায় সব স্কুলের বই ও খাতা।
রেইনবো মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসান তারেকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেন। বলেন, ‘শুধু আমাদের স্কুলের নামে খাতা আছে, এমন তো নয়। সবারই আছে। অনেকে তো স্কুলের খাতা বিক্রি করে। আমরা তো তা করি না।’

একই বিষয় নিয়ে জেনিসিস প্রি-স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ভর্তি বিভাগের কর্মকর্তা ফারজানা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমাদের প্রিন্সিপাল মিটিংয়ে আছেন, তিনি ফোনে ওইভাবে কথা বলেন না।’

এই কর্মকর্তা জানান, তার স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলের নামযুক্ত খাতা বাধ্যতামূলক।
বছিলা ব্রিজের পূর্ব পাশে অবস্থিত ফিরোজা বাশার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক শাখা রয়েছে। এখানেও শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুলেই খাতা বিক্রির ব্যবস্থা আছে। সেই সঙ্গে স্কুলের প্রশাসন বিভাগেই বিক্রি হচ্ছে পোশাক।
মোহাম্মদপুরের পুরনো স্কুলগুলোর একটি বেঙ্গলি মিডিয়াম হাইস্কুল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি মূলত ছেলেদের জন্য হলেও ২০১৮ সাল থেকে মেয়েদের জন্য আলাদা শাখা খোলা হয়। খাতা ও শিক্ষা উপকরণ কিনতে হবে স্কুল থেকেই।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্কুল থেকে খাতা ও শিক্ষা উপকরণ না কিনলে অন্য খাতা ক্লাসরুমে ব্যবহার করা যাবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :