শিল্পী সুলতান স্মরণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

ফরহাদ খান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৪৬ | প্রকাশিত : ১০ অক্টোবর ২০১৬, ১২:৪৩

গ্রামীণ জীবনের পরিপূর্ণতা, প্রাণপ্রাচুর্যের পাশাপাশি শ্রেণির দ্বন্দ্ব এবং গ্রামীণ অর্থনীতির হাল তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তুলতেন তিনি। বিশ্বসভ্যতার কেন্দ্র হিসেবে গ্রামের মহিমা এবং কৃষককে এই কেন্দ্রের রূপকার হিসেবে ছবিতে তুলে ধরতেন। তিনি নড়াইলের এসএম সুলতান।

আজ ১০ অক্টোবর তার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী। মৃত্যু বার্ষিকীতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় স্মরণ করা হচ্ছে এই বরেণ্য চিত্রশিল্পীকে।

১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। জন্মভূমি নড়াইলের কুড়িগ্রামে তাকে শায়িত করা হয়।

সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুলতান ফাউন্ডেশন ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও শিল্পীর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, কোরআনখানি, এবং আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়।

চিত্রা নদীপাড়ের লাল মিয়া (এসএম সুলতান) ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় মেছের আলী ও মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

১৯২৮ সালে ভর্তি হন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে। স্কুলের অবসরে রাজমিস্ত্রি বাবাকে কাজে সহযোগিতা করতেন শেখ মোহাম্মদ সুলতান। এ সময়ে ছবি আঁকার হাতেখড়ি তার। সুলতানের আঁকা সেই সব ছবি স্থানীয় জমিদারদের দৃষ্টি আর্কষণ হয়।  

নড়াইলের জমিদার ব্যারিস্টার ধীরেন রায়ের আমন্ত্রণে ১৯৩৩ সালে রাজনীতিক ও জমিদার শ্যামাপ্রাসাদ মুখোপাধ্যায় ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শনে যান। সেসময়ে তার একটি প্রতিকৃতি (পোট্রেট) আঁকেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুলতান। এতে মুগ্ধ হন শ্যামাপ্রাসাদসহ অন্যরা।

কিন্তু লেখাপড়া ছেড়ে ১৯৩৮ সালে কলকাতায় গিয়ে ছবি আঁকা ও জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন সুলতান। সে সময় চিত্র সমালোচক শাহেদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সোহরাওয়ার্দীর সুপারিশে অ্যাকাডেমিক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১৯৪১ সালে কলকাতা আর্ট স্কুলে ভর্তির সুযোগ পান সুলতান।

১৯৪৩ মতান্তরে ’৪৪ সালে আর্ট স্কুল ত্যাগ করে ঘুরে বেড়ান এখানে-সেখানে। এরপর জীবনের নানা চরাই-উৎরাই পেরিয়ে সংগ্রামী জীবনের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে গেছেন।

সুলতানের শিল্পকর্মের বিষয় ছিল বাংলার কৃষক, জেলে, তাঁতি, কামার, কুমার, মাঠ, নদী, হাওর, বাঁওড়, জঙ্গল, সবুজ প্রান্তর ইত্যাদি।

চিত্র আঁকার পাশাপাশি বাঁশি বাজাতে পটু ছিলেন। পুষতেন সাপ, ভাল্লুক, বানর, খরগোশ, মদনটাক, ময়না, গিনিপিক, মুনিয়া, ষাঁড়সহ বিভিন্ন প্রাণি।

চিত্রশিল্পের খ্যাতি হিসেবে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কার পেয়েছেন।

এছাড়া ১৯৮২ সালে একুশে পদকসহ ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি এবং ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা পান।

(ঢাকাটাইমস/১০অক্টোবর/প্রতিনিধি/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন ফিচার বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত