উত্তরখানের ১৬ ওয়ার্ডের সবগুলোর রাস্তাই ভাঙা, জনদুর্ভোগ চরমে

ভাঙা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তিতে রাজধানীর উত্তরখানবাসী। এলাকার ১৬টি ওয়ার্ডের সবগুলো রাস্তা চলাচলের প্রায় অযোগ্য। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রতিকারের আশ্বাস থাকলেও, নেই তার বাস্তবায়নের চিহ্ন মাত্র।
ভাঙা সড়কের ভোগান্তিতে সারা শহরই রয়েছে। এবছরের বর্ষায় ঘন ঘন বৃষ্টিতে এ দূর্ভোগ পৌছে গেছে চরমে। সব জায়গায় কিছু না কিছু জোড়াতালির কাজ হলেও, সম্পূর্ণ অবহেলায় রয়েছে রাজধানীর উত্তরখান। রাজধানী ঢাকার জনবহুলতম এলাকাগুলোর মধ্যে এটি একটি। এখানেই রয়েছে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষের বিরাট এক অংশের আবাসন। আর প্রতিদিনই তাদের কাউকে না কাউকে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে।
এখানকার একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী ফেরদৌস হাসান ঢাকাটাইমসকে বলেন, " শেষ কবে যে রাস্তার কাজ করছিল তাও মনে নাই। এইখানে ভাঙ্গা, ঐখাননে ভাঙ্গা। এগুলো আমাদের কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেম্বাররা চোখে দ্যাখেন না। দৈনিক একটা হলেও গাড়ি গর্তে পড়ে। স্কুলের বাচ্চারা যায়, আমাদের পরিবারের মহিলারা যায়। ওরা একদিন গর্তে পড়লে কি অবস্থা হবে?"
এলাকাটি সম্প্রতি ইউনিয়ন থেকে সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশনের হাতে পড়েনি এখানকার রাস্তাঘাটে। সুতরাং এ দায়ভার ইউনিয়ন পরিষদ ও এলজিডি মন্ত্রণালয়ের হাতেই ন্যাস্ত। তবে এই দায়িত্বের কতটাই বা নিচ্ছেন তারা নিজেদের কাধে? এ প্রশ্ন এলাকাবাসীর। স্থানীয় ইউপি মেম্বার বসবাস করেন এখানকার তালতলা নামের একটি এলাকায়। খোদ ইউপি মেম্বরের বাসা পেরিয়ে সামনে যেতেই চোখে পড়বে ভাঙা রাস্তার নির্মম চিত্র। পয়:নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকার ফলে, সুয়ারেজ লাইনের পানি এসে পড়ছে রাস্তায়। বৃষ্টির পানি জমে আছে গর্তে, প্রতিনিয়ত রাস্তা ভাঙছে আরো বেশি বেশি করে।
স্থানীয় বাসীন্দা মো: মোরশেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, "মাঝে মাঝে আপনাগো মত আইসা ছবি তুইলা নিয়া যায়। ছবি তুইলা লাভ হইছে কি? বৃষ্টি হইলেই রাস্তায় পানি জমে। জাগায় জাগায় ভাইঙ্গা গেছে। সিটি কর্পোরেশনের কেউ তো দেখতেও আহে না। চেয়ারম্যান মেম্বাররা তো ভোটের আগে আইতো। ভোট তো পাইয়া গেছে, এহন আর এইদিকে আইবো ক্যান?"
আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরখান ঢুকতে যে সড়কটি পড়ে, কেবল সেটিই কিছুটা ঠিকঠাক রয়েছে। আর এই প্রধান সড়কটি বাদ দিলে পুরো এলাকাজুড়ে আর একটিও ভালো রাস্তা খুজে পাওয়া যায় না। কিছু রাস্তায় কাজ করা হয়েছিল চার থেকে পাঁচ বছর আগে। আবার এমন কিছু রাস্তা রয়েছে, যেখানে বিগত আট- দশ বছরেরও রাস্তা মেরামত কিংবা নতুন রাস্তা করা হয়নি। এমনটাই দাবী স্থানীয় ভুক্তভুগীদের।
অন্যদিকে ২০১১ সালে শেষ বারের মত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ রাখা হবে না, সরকারের এমন পদক্ষেপে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদটি এখন বিলুপ্ত প্রায়। তাই দায় এড়াচ্ছে এলজিডি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ড এর ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ও ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারস এসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো: মাহামুদুল হাসান আলাল ঢাকা টাইমসকে বলেন, "কাজ অনেকদিন যাবৎ হচ্ছে না, রাস্তা ভাঙা এগুলো সত্য। তবে, আমরা যে চেষ্টা করছি না এটা ঠিক না। দীর্ঘ দিন যাবৎ এলজিডি'র বরাদ্দ পাচ্ছি না। সরকার ইউনিয়ন পরিষদ রাখবএমন ঘোষণা দেয়ার পর এলজিডি এ দিকে কোনো নজর দিচ্ছে না। তবে, আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। স্থানীয় জমি বিক্রয়ের ১ শতাংশ ও আমাদের নিজস্ব তহবিল দিয়ে আমরা কাজ করবো। হয়ত পাকা রাস্তা করতে পারবো না। কিন্তু বড় বড় গর্তগুলো ভরাট করার ব্যবস্থা করবো। যাতে স্কুলের বাচ্চারা বা এলাকাবাসী কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।"
(ঢাকাটাইমস/ ১ অক্টোবর/কারই/কেএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































