দিগন্ত জোড়া মধু মৌ মৌ

সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
 | প্রকাশিত : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৪৬

এখন দিগন্ত জোড়া হলদে মাঠ। সরিষা ক্ষেতের ফুলে ফুলে উড়ছে মৌমাছি। চঞ্চল পাখায় ভর করে ফুল থেকে আহরণ করছে মধু। দিগন্ত জোড়া হলুদে মধু মৌ মৌ। তারা ‘আদেশ’ মেনে সেই মধু জমা করছে মৌয়ালের বাক্সে। 
সাতক্ষীরায় সরিষা ক্ষেতের পাশে এখন মৌয়ালদের দেখা মিলবে আকছার।  ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত তারা। 

সাতক্ষীরা থেকে চলতি বছর প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারমূল্য প্রায় দশ কোটি টাকা। এভাবে সারা দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে মধু। আর তা জাপান, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 
সরিষা খেত থেকে মধু আহরণ শুধু যে অর্থ উপার্জনে সহায়ক হচ্ছে তা নয়, সরিষা উৎপাদনে রাখছে ভূমিকা। ফুল থেকে মধু আহরণের সময় মৌমাছির পরাগায়ণের ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফলন পান সরিষাচাষিরা। 

জেলায় চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আর এসব সরিষা খেতের পাশে বাক্স পদ্ধতিতে সরিষা ফুলের মধু আহরণ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সাতক্ষীরার শতাধিক মধু উৎপাদনকারী (প্রতিষ্ঠান) খামারি এ বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফুলের মধু আহরণ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এসব খামারে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এখন মধু আহরণ মৌসুমের শেষ লগ্ন। প্রতিবছর ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সরিষা ফুলের মধু আহরণ করা হয় বলে জানায়  খামারিরা। এরপর শুরু হবে অন্য ফসল থেকে মধু আহরণ।

সাতক্ষীরার মধু খামার মালিক মোশাররফ হোসেন জানান, জেলায় চলতি সরিষা মৌসুমে সরিষা ফুল থেকে ৫০০ মেট্রিক টন মধু আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এ থেকে আয় হবে ১০ কোটি টাকার মতো। উৎপাদিত এসব মধু জাপান, ভারত, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে। মধু খামারিদের সহজ শর্তে ঋণসুবিধা দিলে এই সেক্টর থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

সাতক্ষীরায় দেড় হাজার মধু খামারি রয়েছে। সারা বছর দেশের বিভিন্ন স্থানে মধু আহরণ করে তারা। প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে সরিষা ফুলের মধু আহরণ শুরু হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলে। এরপর শুরু হয় জিরা ও ধনিয়া ফুল থেকে মধু আহরণের মৌসুম। চলে প্রায় দুই মাস। জিরা ও ধনিয়া মৌসুমের পর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সুন্দরবন থেকে মধু আহরণ মৌসুম। এভাবে সারা বছর ধরে মধু আহরণ কার্যক্রম চলে।

সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, সরিষার ফুল থেকে যখন মৌমাছি মধু আহরণ করে তখন পরাগায়ণের সৃষ্টি হয়। ফলে সরিষার ফলন ২৫ থেকে ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। সরিষা চাষিদের মধ্যে আগে এ নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ছিল, কিন্তু এখন সেই ধারণা পাল্টে গেছে।
একসময় সরিষা ফুলের মধু আহরণে সরিষা চাষিরা বিরোধিতা করলেও এখন আর করেন না। বর্তমানে সরিষা চাষিরা বেশি ফলনের আশায় মধু আহরণে সহযোগিতা করছে। আর

এ ব্যাপারে কৃষকদের আরও সচেতন করতে কৃষি কর্মকর্তারা ভূমিকা রাখছে বলে জানান অতিরিক্ত উপপরিচালক আমজাদ হোসেন।

(ঢাকাটাইমস/১৩জানুয়ারি/মোআ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :