বুড়িমারী স্থলবন্দরে যানজটে দুর্ভোগ চরমে

লালমনিরহাট প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ মার্চ ২০১৯, ০৮:২৬

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে ভয়াবহ যানজটে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। যানবাহনের চাপ বেড়েই চললেও সমস্যা নিরসনে নেওয়া স্থলবন্দরটির জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার চারলেন প্রকল্পের কাজ থমকে আছে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

পাটগ্রাম উপজেলা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত, ভূটান ও নেপাল  থেকে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। ১৯৮৮ সালে  ১৯৮৮ সালে বুড়িমারী জিরো পয়েন্টে শুল্কস্টেশনের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০১০ সালের ৩০ মার্চ শুল্কস্টেশনটিকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হয়।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এখান দিয়ে ভারত, ভূটান ও নেপাল থেকে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিক সামগ্রী, পশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও বীজ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, তামাক ডাটা ইত্যাদি পণ্য আমদানি করা হয়। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় মেলামাইনের তৈরি বাসনপত্র এবং ওষুধসহ  বেশ কিছু পণ্য।

গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে ২০ হাজার ট্রাক পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে। একই সময়ে ভারত ও ভুটান থেকে প্রায় ৩৮ ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০১-১৭ অর্থবছরে প্রায় ১০ হাজার  ট্রাক পণ্য রপ্তাানি ও ৩৭ হাজার ট্রাক পণ্য আমদানি হয়েছে।

বর্তমানে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ ট্রাক বন্দরে আসা-যাওয়া করে, চলাচল করেন শত শত যাত্রীও।  ভারতের চ্যাংরাবান্ধা ও ভুটানের ফুলসিলিং স্থলবন্দরের সঙ্গে বুড়িমারীর আমদানি-রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দিন দিন বাড়ছে যানবাহনের চাপও।

কিন্তু স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যাপ্ত সড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় গাড়ি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। এছাড়া বর্তমানে যে সড়ক আছে, তা খানা-খন্দে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণসহ অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ব্যাহত হচ্ছে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। 

এ সমস্যা মোকাবেলায় কয়েক বছর আগে বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট থেকে বুড়িমারী বাজার পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের ১০ কিলোমিটার চারলেন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।  ২৯ কোটি টাকার এ প্রকল্পে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এরই মধ্যে এডিবির বিশেষজ্ঞ দল সমীক্ষা কার্যক্রম শেষ করেছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক ও পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল বলেন, গাড়ির চাপ ও যানজট বাড়ায় বন্দরে যানজট তৈরি হচ্ছে। ফলে আমদানি-রফপ্তানি করতে গিয়ে নাকাল হতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। জরুরি ভিত্তিতে এ মহাসড়কটিকে চারলেনে উন্নীত করা প্রয়োজন।

বুড়িমারী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আউয়াল আলী বলেন, তীব্র যানজটে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। অথচ ফোরলেন কার্যক্রম থেমে আছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে রাজধানী থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন মহাসড়ক নির্মাণ কাজের দ্বিতীয় পর্যায় চলমান রয়েছে। এ কাজের সঙ্গেই স্থলবন্দরের ১০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হবে। তৃতীয় দফায় রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর জাতীয় মহাসড়ক ফোরলেন কার্যক্রম এ বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

লালমনিরহাট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী নুরায়েন বলেন, চারলেন সড়ক নির্মাণে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও মূল্যায়ন কাজ শেষ হয়েছে। প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুমোদন পেলে শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :