আ.লীগে শীর্ষ পাঁচ পদ ফাঁকা

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৯, ১২:২২
২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন

২০১৬ সালের জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবু দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্ষদ সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি পদ পূরণ করেনি আওয়ামী লীগ। কার্যনির্বাহী পর্ষদেরও দুটি পদ ফাঁকা। আগামী অক্টোবরে বর্তমান মেয়াদ পূরণ হওয়ার আগে তা পূরণ হবে না, এটাই বলছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিমণ্ডলীতে পদ আছে ১৭টি। এর বাইরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে এই পর্ষদের সদস্য। তবে বর্তমানে সদস্য রয়েছেন ১৪ জন। ফাঁকা পদের সংখ্যা তিনটি। এর মধ্যে একটি ফাঁকা হয়েছে সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলনের পর সভাপতিমণ্ডলীর তিনটি পদ খালি রেখে বাকি ১৪টি পদের বিপরীতে নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। আর শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের দলের শীর্ষ দুই নেতা হিসেবে পদাধিকার বলে হয়ে যান সদস্য।

২০১৭ সালে দলের সে সময়ের আইনবিষয়ক সম্পাদক আবদুল মতিন খসরুকে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। তখন ফাঁকা পদের সংখ্যা থাকে দুটি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মারা যান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তখন আবার ফাঁকা পদের সংখ্যা তিনটি হয়ে যায়।

৮১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সভাপতিমণ্ডলীর মতোই কার্যনির্বাহী সংসদের দুটি পদ ফাঁকা। এর মধ্যে একটি পদ ফাঁকা হয়েছে সম্প্রতি বগুড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যুতে। আর ২০১৮ সালের জুনে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র আজমত উল্যাহ খানকে কার্যনির্বাহী সদস্য থেকে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য করা হয়। এরপর কার্যনির্বাহী সদস্যের ফাঁকা পদ আর পূরণ করা হয়নি।

তবে এই দুই কমিটি ছাড়া সম্পাদকমণ্ডলীর ৩৪ জন এবং কোষাধ্যক্ষের একটি পদ পূরণ হয়েছে।

অবশ্য সর্বোচ্চ পর্ষদ সভাপতিম-লীর দুই একটি পদ নানা সময় ফাঁকাই রাখে দলটি। ২০১২ সালের জাতীয় সম্মেলনের পর চার বছরেও একটি পদ পূরণ করা হয়নি।

বর্তমানে ফাঁকা থাকা তিনটি পদ নিয়ে দলের নেতাদের মধ্যে এখন আর সে অর্থে আলোচনাও নেই। এই তিনটি পদ এখনই পূরণ হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। কারণ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তিন বছর পূর্তিতে আগামী অক্টোবরেই ২১তম জাতীয় সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। এই চার মাসের মধ্যে কাউকে নতুন করে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দলীয় সভাপতির সিদ্ধান্তে দলীয় পদ নির্ধারণ করা হয়। কেন সভাপতিমণ্ডলীর পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে সেটি তিনিই বলতে পারবেন। এখন আর নতুন করে পদগুলো পূরণ করার সম্ভাবনা নাই, তবে আমাদের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে একইসঙ্গে এই পদ পূরণ করা হবে বলে আমার মনে হয়।’

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এটা আমি বলতে পারব না। এটার উত্তর আমার কাছে নাই। আমাদের সেক্রেটারি এটা বলতে পারবেন।’

আগামী সম্মেলনে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে কারা আসেন, এটা নিয়ে আলোচনা আছে। কারণ, সভাপতি শেখ হাসিনা গত সম্মেলনের আগেই দলের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশনেও তিনি নতুন কাউকে বেছে নিতে বলেছিলেন। যদিও কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিতে তাকেই নির্বাচন করেছেন। এরপরও শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এবারই শেষ’।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও অসুস্থ। জীবন নিয়ে সংকটকালীন পরিস্থিতি কাটিয়ে বাইপাস সার্জারি করে তিনি দেশে ফিরেছেন সম্প্রতি। অবশ্য তিনি অপারেশনের পরও মন্ত্রিত্ব আর দলের নেতৃত্ব-দুটিই একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬জুন/এনআই/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :