শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক

বদরুল ইসলাম বিপ্লব, ঠাকুরগাঁও
| আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪৩ | প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:৪১

আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা। করলা, বেগুন, টমেটো, লাউ, লাল শাক, পালং শাক, শিম, শসা, মিষ্টি কুমড়া, ডাটা, চিচিঙ্গা, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ নানা শীতকালীন সবজির ফসল পরিচর্যায় বেশির ভাগ সময় কাটছে কৃষকের।

ঠাকুরগাঁও জেলায় এ বছর সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি বছর উচুঁ জমিগুলোর বেশিভাগ জমিতেই আমন ধান রোপন করতে পারেনি চাষিরা। তাছাড়া চলতি বছর ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় সেচ দিয়ে আমন ধান রোপন করেননি অনেকে। এ অবস্থায় উঁচু জমিগুলোতে আগাম শীতকালীন সবজির চাষাবাদের কাজেই লাগাচ্ছেন তারা। এছাড়াও ধান ও পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার বেশি লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজিই মূল লক্ষ্য জেলার শীতকালীন সবজি চাষিদের।

বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবার শীতকালীন সবজি বেশি চাষ হবে বলে ধারণা করছেন জেলা কৃষি অধিদপ্তর।

চলতি বছর জেলার ৫ উপজেলায় ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। এতে উৎপাদন হবে ২ লাখ ৫ হাজার মেট্রিকটন শাক-সবজি। আবহাওয়া অনুকলে থাকলে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ রাজধানীর মানুষের চাহিদাও পূরণ করবে ধারণা করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট, রাজাগাঁও, মোলানখুড়ী, চামেশ্বরী গ্রাম বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার গোয়ালকারী, সাবাজপুর, মধুপুর, ফটিয়াপাড়া, কাশুয়া খাদেমগঞ্জসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে দিনমজুরদের সঙ্গে ক্ষেত পরিচর্যা, রোগ-বালাই দমন ও অধিক ফলনের আশায় নাওয়া খাওয়া ভুলে দিনরাত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করছেন সবজি চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৫ দিনের মধ্যেই ক্ষেত থেকে উঠবে শীতকালীন শাকসবজি। বেশি লাভ ও বাম্পার ফলন হবে এমনটাই প্রত্যাশা চাষি ও কৃষি বিভাগের।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের গোয়ালকারী গ্রামের সবজি চাষি করিমুল ইসলাম বলেন, এ বছর উঁচু দেড় একর জমিতে করলা এবং এক একর জমিতে বেগুন চাষ করেছেন তিনি। করলার গাছে ফুল ধরা শুরু করেছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে তোলার যাবে বলে ধারণা করছেন।

বাবার সঙ্গে মাঠে কাজ করছেন করিমুল ইসলামের ছেলে আইয়ুব আলী। তিনি বলেন, অনাবৃষ্টির ফলে বেগুন ক্ষেতে সেচের পরিমাণ এবার বেশিও লাগছে। দ্রুত বাজারে তুলতে পারলে ন্যায্যমূল্যের পাশাপাশি ভাল লাভের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

চাড়োল ইউনিয়নের সবজি চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে করলা চাষে তিনি ১৪ হাজার টাকা খরচ করেছেন। বাজারে তোলা পর্যন্ত আরও এক হাজার টাকা খরচ হবে। এছাড়াও বেগুন ক্ষেতে প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে ১২-১৬ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সবজি চাষি হাসান আলী বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার শিক্ষিত বেকারও ঝুঁকছেন সবজি চাষে। এখন সবজি কম পাওয়া গেলেও মাসখানেকের মধ্যে ভরপুর হবে ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারগুলোতে। দাম কিছুটা বেশি হলেও ভোক্তারা স্বাদ নেবে এসব সবজির।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকার রহমত মিঞা বলেন, ধান ও পাটের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবার আগাম শীতকালীন সবজি চাষে নেমেছি। পরিবারের সবাই নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন রাত সময় হাড়াভাঙ্গা শ্রম দিচ্ছি সবজিক্ষেতে।

বেকার যুবক আবুল খায়ের বলেন, গত ৪ বছর ধরে চাকরির জন্য চেষ্টা করছি। কৃষক বাবা একাই মাঠে পরিশ্রম করছেন। চাকরির হাল ছেড়ে দিয়ে বাবার পাশাপাশি কাজ করছি। আশা করছি সবজিতে ভালো কিছু উপহার দিতে পারব পরিবারকে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সস্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আফতাব হোসেন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সবজির বাম্পার ফলন হবে। এই এলাকার মাটি অনেক উর্বর তাই ফলন বেশি। এ অঞ্চলের সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে চলে যাচ্ছে ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের জেলা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের কারিগরি সহায়তাসহ পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সবজি সংরক্ষণকেন্দ্রে স্থাপন করাসহ সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পেলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের কৃষকরা ভূমিকা রাখবে এমন প্রত্যাশা সবার।

ঢাকাটাইমস/১৯সেপ্টেম্বর/প্রতিনিধি/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত