ছোট দলে বড় দ্বন্দ্ব-৫

‘এক দল এক ব্যক্তি’র বৃত্ত ভাঙতে পারেনি বিজেপি

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৫৬ | প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৮
ফাইল ছবি

এরশাদের গাঁটছড়া ছেড়ে নতুন দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) গঠন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন নাজিউর রহমান মঞ্জু। জাতীয় পার্টি ছেড়ে এলেও তার দলের রাজনীতি ছিল বিএনপির বলয়কেন্দ্রিক। মঞ্জুর মৃত্যুর পর ছেলে আন্দালিব রহমান পার্থ হাল ধরেন বাবার দলের। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েকটি ইস্যুতে বিরোধের জেরে বিএনপি জোট ছেড়ে আসেন পার্থ। এরপর থেকে সুবক্তা হিসেবে পরিচিত তরুণ এ রাজনীতিককে মাঠের রাজনীতিতেও দেখা যাচ্ছে না তেমন। আগে টেলিভিশন টকশোতে ঘন ঘন দেখা গেলেও চলতি বছরে তাও দেখা মিলছে না।

পার্থের অনুগামী কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা-১৭ আসন (গুলশান-বনানী) ঘিরে দলের বেশ কিছু কাজে দলের চেয়ারম্যান পার্থ ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার মধ্যে ওই এলাকার উঠতি তরুণদের নিয়ে তিনি সক্রিয় রয়েছেন বলে দাবি তাদের। এছাড়া ঢাকায় দলের বেশ কয়েকটি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি নিয়মিত বসছেন। এর বাইরে বাবা মঞ্জুর আসন বলে পরিচিত ভোলা-১ আসনের অনুগামী লোকজনের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে তার।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির সঙ্গে জোটে ছিলো বিজেপি। এরমধ্যে দলটিতে ভাঙন হয়েছে। নেতাদের কারো কারো বের হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। মঞ্জু যখন দলটির চেয়ারম্যান তখন মহাসচিব ছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ। বিএনপির ২০০১-০৬ সালের শাসনামলে দলে ভাঙন হয়। নতুন অংশে ডা. মতিন এবং এ বি এম গোলাম মোস্তফা নেতৃত্ব দেন। এক এগারোর আগে ফিরোজ রশীদ এরশাদের দলে ফিরে গেলে মহাসচিব করা হয় শামীম আল মামুনকে।

এক-এগারোর পর নির্বাচন কমিশন থেকে পার্থ বিজেপি নামে নিবন্ধন পান। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি নামে ডা. মতিন নিবন্ধন পান। পরে শামীম আল মামুন মারা গেলে আব্দুল মতিন সউদকে মহাসচিব করেন পার্থ। এখন তাদের নেতৃত্বেই চলছে বিজেপি।

কিন্তু একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্ট ইস্যুতে বিএনপি জোট ছেড়ে আসেন পার্থ। জোট ছাড়ার পর তেমন একটা কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি তাকে। আর দলের উল্লেখযোগ্য কোনো কর্মসূচি না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যেও নিষ্ক্রিয়তা কাজ করছে। মূলত ব্যক্তিনির্ভর গড়ে ওঠা দলটি ব্যক্তি নির্ভরতার বলয় কাটাতে না পারায় এই অবস্থা বলে ভাষ্য কিছু নেতাকর্মীর।

চলতি বছরের ৬ মে কয়েকটি কারণ দেখিয়ে বিএনপি জোট ছাড়ে বিজেপি। দলীয় বিবৃতিতে বিএনপির অতিমাত্রায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টমুখী হওয়া, শুধুমাত্র সহমত আর সংহতি প্রকাশের মধ্যে ২০ দলীয় জোটের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকাসহ বেশ কিছু অভিযোগ আনা হয়।

দলের চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা না গেলেও তিনি দল গোছাচ্ছেন দাবি করে বিজেপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ৪০টির মত জেলায় কমিটি আছে। নতুন করে কমিটি দেয়ার কাজ করছি। আমাদের কোথাও কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমাকে সবকিছু গোছানোর নির্দেশনা চেয়ারম্যান দিয়েছেন। তিনিও লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করছেন। আমরা গঠনমূলক রাজনীতি করতে চাই। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করবো, খারাপ কাজের সমালোচনা করবো। এই নীতিতে চলছি।’

বিজেপিতে অভ্যন্তরীণ সমস্যা অন্য ছোটদলগুলোর তুলনায় কম। কারণ দলে চেয়ারম্যান পার্থই সর্বেসর্বা। তার একক কর্তৃত্বেই চলে দলটি। এর বাইরে মহাসচিব আব্দুল মতিন সউদ আছেন। তার কাজ শুধু চেয়ারম্যানের হুকুম তামিল করা।

বিএনপি জোটের একটি শরিক দলের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘অন্য ছোট দলগুলোতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কাছাকাছি পর্যায়ের থাকায় ক্ষমতার দ্বন্দ্বে ভাঙন দেখা দেয় বা সমস্যা তৈরী হয়। কিন্তু বিজেপিতে পার্থই সব। কারণ অন্য যারা আছে তারা কেউ তার ধারেকাছেও নাই। ’

দলের সার্বিক বিষয় নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও আন্দালিব রহমান পার্থর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। মহাসচিব আব্দুল মতিন সউদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এখন দলটাকে কিভাবে শক্তিশালী করা যায়, নেতাকর্মীদের সংগঠিত করা যায় সেজন্য পরিশ্রম করছি। বিশেষ করে ঢাকা মহানগরে আমরা চাই একটা ভালো অবস্থান তৈরী করতে।’

মাঠের রাজনীতিতে খুব একটা অবস্থান না থাকলেও ব্যক্তি পরিচয়ের কারণে বিএনপি জোটে বেশ প্রভাব ছিলো পার্থর। জোটের বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার পাশেই বসতেন সবসময়। পার্থর বাবা মঞ্জুর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। সভা-সমাবেশ কিংবা সংসদে আওয়ামী লীগের সমালোচনায় মুখর থাকতেন পার্থ। যে কারণে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতাও তৈরী হয়েছিল। আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সক্রিয় থাকলেও এখন তাতেও তেমন সক্রিয় নন এ তরুণ রাজনীতিক।

(ঢাকাটাইমস/২২নভেম্বর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :