অপহরণের অভিযোগে চার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক,লক্ষ্মীপুর
 | প্রকাশিত : ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২২:১৮

চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে সদর থানার তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার। সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে এ মামলা করেন ভুক্তভোগী নুরুল আলম প্রকাশ নুরুর মা নুরজাহান বেগম। পরে আদালতের বিচারক রায়হান চৌধুরী মামলাটি আমলে নিয়ে নোয়াখালী পুলিশ ব্যুারো অব ইনভিস্টিগেশন (পিবিআই)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন। মামলার বাদীর আইনজীবী আবদুল আহাদ শাকিল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামিরা হচ্ছেন- সদর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক মুহাম্মদ কাওসারুজ্জামান, এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, এএসআই  মহিউদ্দিন খন্দকার ও কনস্টেবল কবির হোসেনসহ অজ্ঞাত আরো পাঁচজন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রায়পুর থানার একটি মামলায় ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই নুর আলমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। ৩০ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করে। ওইদিন সন্ধ্যায় জেলহাজতে থেকে বের হওয়ার সময় সাদা পোশাকে তিনজন নুর আলমকে আটক করতে যায়। এসময় ভয়ে তিনি কারা পুলিশ ব্যারাকের রান্না ঘরে আশ্রয় নেন। পরে তারা নুর আলমকে সেখানে থেকে হাতকড়া ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চোখের বাঁধন খুললে

তিনি এসআই কাওসারুজ্জামানকে চিনতে পারেন। এরপর থেকে প্রায় ছয় দিন পর্যন্ত তাকে আটকে রাখা হয়।

৫ জানুয়ারি তারা নুর আলমের শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের মোবাইল ফোনে কল করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে নুর আলমকে হত্যা বা অস্ত্র-মাদক মামলায় জড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। এসময় দাবি করা টাকা শহরের দক্ষিণ তেমুহনী এলাকার চা দোকানি আবুল হোসেনের কাছে দিয়ে আসতে বলে। ওইদিন দুপুরে ১৯ হাজার ৫০০ টাকা আবুল হোসেনের কাছে দিয়ে আসা হয়। কিন্তু দাবি করা পুরো টাকা না দেয়ায় ওই দিনই ২৫টি ইয়াবা দিয়ে নুর আলমকে তারা গ্রেপ্তার দেখায়। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২১ জানুয়ারি নুর আলমের বিরুদ্ধে মাদক মামলাটি তদন্তের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। এতে এসআই কাওসারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। ওই দিনই আদালতের পুলিশ হেফাজতে নুর আলমকে তিনি ক্রসফায়ারের হুমকি দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই কাওসারুজ্জামান বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

(ঢাকাটাইমস/২৭জানুয়ারি/এলএ)

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :