রৌমারীতে বন্যার পানি নামছে, দুর্ভোগ বাড়ছে

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০২০, ২০:৫৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বন্যা কবলিত এলাকা থেকে পানি নেমে যাচ্ছে। ঘরে ফিরতে শুরু করেছে বানভাসি মানুষ। গ্রামে গ্রামে লন্ডভন্ড রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়িতে দেখে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ির চার পাশেই শুধু পচা স্তুপ ও দুর্গন্ধ। ফসলি জমিগুলোতেও কাদা মাটি ও পচা স্তুপের দুর্গন্ধ। কিভাবে থাকবেন তারা। তাই এখনো অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে বা উচু রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট, গাছ পালাসহ জনপদ এখনো লন্ডভন্ড। বন্যার পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম দিন পার করছে মানুষ। ভরা বন্যাকালে ত্রাণের সামান্য চাল এমনকি শুকনো খাবারও ঠিকমত পায়নি সবাই। এখনো খাদ্য সংকটে ভুগছে শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত বানভাসি মানুষ।

গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চরশৌলমারী ইউনিয়নের চর ইটালুকান্দা, চর কাজাইকাটা, শান্তিরচর যাদুরচর ইউনিয়নের খেওয়ারচর, বকবান্দা, নামা বকবান্দা, উত্তর আলগারচর, দক্ষিন আলগারচর, রৌমারী সদর ইউনিয়নের কান্দা পাড়া, মাদারটিলা, কোনাচি পাড়া, বড়াইবাড়ি, চুলিয়ারচরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তাঘাটসহ লন্ডভন্ড।

চারপাশে পচা স্তুপ ও দুর্গন্ধ পাকা রাস্তার খোয়া গুলিও পানির স্রোতে ভেসে গেছে। ফসলি জমি এখনো পানিতে রয়েছে। কৃষকরা খড়ি হিসেবে ব্যবহারের জন্য পচা পাট উপরে তুলে নিচ্ছে। প্লাবিত ঘরবাড়িতে এখনো কাদামাটি, নিতে পারেনি গবাদি পশু।

তিন দফা বন্যায় টানা দেড় মাসে পানির তোড়ে তছনছ হয়ে গেছে সবকিছু। ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নেমে গেলেও এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ।

ফুলকারচর গ্রামের কাবিলা বেগম নামের এক নারী বাড়ির কাদা মাটি ও পচা আবর্জনা ফেলতে দেখা গেছে। তিনি জানান, প্রায় দুই মাস পর বাড়িতে ফিরে দেখেন সব কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। সব কাদা মাটি ও পচা ময়লা আবর্জনাতে ভরে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো সব ঠিকঠাক করছি।

উপজেলার অন্যান্য গ্রামের পানি নেমে গেলেও ঘুঘুমারী, বাইশপাড়া, চর খেদাইমারীসহ আরো কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন উচু স্থানে বসবাসরত বানভাসি ৩০টি পরিবার বাড়িতে ফিরতে পারেনি। তাদের অনেকের ঘর বাড়ি ভেঙে গেছে এবং নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। ফলে তারা বাড়ি ফিরে কোথায় থাকবে। সেই আশঙ্কায় স্থান ছেড়ে যাচ্ছেন না।

(ঢাকাটাইমস/১১আগস্ট/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :