করোনায় কেমন আছে ক্রীড়াঙ্গন?

আইনুল কবির জিতু
 | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৪:০৮

ক্রীড়া হচ্ছে একটি সংগঠিত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, বিনোদনধর্মী এবং দক্ষতাসূচক শারীরিক কার্যকলাপ প্রদর্শনের আধুনিক মাধ্যম। এবার আসি মূল কথায় যে উদ্দেশ্য নিয়ে আমার প্রতিবেদনটা লেখা। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের থাবায় আটকে গেছে পুরো বিশ্ব। খেলার মাঠেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। আন্তর্জাতিক সব খেলা স্থগিত করেছে সে বহু আগে।

কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজও ভেস্তে গেছে এই মহামারির কারণে। তবে কিছু ঘরোয়া ফুটবল, ক্রিকেট লীগগুলো চলছে এবং কিছু ক্রিকেট লীগ ও আন্তর্জাতিক ম্যাচ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে করোনা সুরক্ষা মেনে। সামাজিক জীবনটা আমরা যেমন নিউ নরমাল লাইফে সাজাচ্ছি, তেমনি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও এভাবে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অনেকে আবার মানছে না সুরক্ষা বিধি, ক্রিকেট খেলায় বল সুইং করার জন্য মুখের লালা ব্যবহার করছে যা স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ে, যে ভুলটা পাকিস্তানি পেসার আমির বারবার করেছিল এই দৃশ্যটা আমরা খেলায় লক্ষ্য করেছি।

এবার আসা যাক খেলাধুলা কি আদৌ দেশে পুরো দমে ফিরতে যাচ্ছে কি না সে বিষয়ে। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে স্থবির হয়ে পড়া দেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার সচল হতে যাচ্ছে। ১০টি শর্ত দিয়ে সীমিত পরিসরে খেলাধুলা ও অনুশীলন কার্যক্রম চালুর অনুমতি দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, যা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই দেশের সকল পর্যায়ে খেলাধুলা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত আকারে চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সীমিত আকারে খেলাধুলা আয়োজন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আরোপিত শর্তাবল, যা জানার জন্য তুলে ধরেছি।

১। খেলাধুলা শুরুর আগে খেলার মাঠ ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুর পূর্বে মহামারি প্রতিরোধক সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক এবং নন-কন্টাক্ট ইনফ্রারেড থার্মোমিটার সংরক্ষণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্বের জন্য একজনকে নির্দিষ্ট করলে ভালো হয়। সংশ্লিষ্ট সকল কর্মীকে স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে।

২। সীমিত আকারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে।

৩। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং খেলাধুলা সংশ্লিষ্ট সকলের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখতে হবে ক্যাম্প শুরুর পূর্বে। প্রয়োজনবোধে সবার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

৪। খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণকালীন ক্যাম্পে অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে থাকার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজার রেখে খাবার গ্রহণ ও খাবারের ব্যবহৃত থালা-বাসন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

সম্ভব হলে ডিসপোজেবল প্লেট ব্যবহার করাই ভালো। ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে হবে। খেলোয়াড়দের ঘুম, বিশ্রাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি নজর রাখতে হবে। ডিজিটাল/অনলাইনের মাধ্যমে পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

৫। খেলা ও প্রশিক্ষণের সময় ব্যক্তিগত পানির বোতল ও তোয়ালে ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত সরঞ্জাম এবং জামাকাপড় নিজস্ব ব্যাগে রাখতে হবে। টিস্যু, রুমাল বা অন্যান্য ব্যবহৃত উপকরণ যেমন প্লাস্টার, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তাৎক্ষণিকভাবে উপযুক্ত পাত্রে (মুখবন্ধ ময়লার পাত্র) ফেলে দিতে হবে।

৬। অধিক জনসমাগম না করে সীমিত আকারে খেলাধুলার আয়োজন করা যেতে পারে। মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় দর্শকদের সারিবদ্ধভাবে পরস্পর হতে এক মিটারেরও বেশি দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। মাঠে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট দূরত্ব (১ মিটার) বজায় রেখে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দুজন দর্শকের মাঝে এক সিট খালি রাখতে হবে।

৭। খেলার মাঠের প্রবেশ পথে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক, ম্যানেজমেন্ট কমিটি এবং বহিরাগত দর্শনার্থীদের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) শরীরের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে যাদের শরীরের তাপমাত্রা ৯৮.৪μ ফারেনহাইটের বেশি হলে তাদের মাঠে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।

৮। খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক/কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটির মধ্যে কোভিড-১৯ এর সন্দেহভাজন কোনো রোগী থাকলে তাৎক্ষিণকভাবে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

৯। খেলার মাঠের আবর্জনা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে এবং আবর্জনা সংরক্ষণকারী পাত্র প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

১০। স্টেডিয়ামে আগত সকলকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার জন্য সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বিলবোর্ড, রেডিও, ভিডিও ও পোস্টারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচার করার ব্যবস্থা করতে হবে।

এত কিছু মেনে যদি দেশের ক্রীড়াঙ্গন আবার প্রতিটি শহরে, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি আনাচে-কানাচে ক্রীড়ামোদীরা মাঠ মাতাতে পারে তাহলে ক্ষতি কি। পরিশেষে বার্লিন প্রবাসী কবি দাউদ হায়দারের ৪টি লাইন দিয়ে শেষ করতে যাচ্ছি,

বন্দি জীবন কাকে বলে অজানা নয়,

জেলে ছিলাম মাসের পর মাস

একাকীত্ব প্রহার নিষ্ঠুর শৃঙ্খল

যুগপৎ সন্ত্রাস আর বীভৎস ভাইরাস।

লেখক: ক্রীড়াবিদ ও সামাজিক সংগঠক

ঢাকাটাইমস/১৮অক্টোবর/এসকেএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

পাঠকের অভিমত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :