লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় কেন লাগে

আশিক আহমেদ, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২১, ১১:৩৬| আপডেট : ০৩ জুন ২০২১, ১২:১৮
অ- অ+

হত্যাসহ যেকোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজন পড়ে পোস্টমর্টেম তথা ময়নাতদন্তের। তবে দেশের হাসপাতালগুলোতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়। আর এ কারণে বিলম্বিত হয় মামলার তদন্ত প্রক্রিয়াও। এতে বিচার পেতে অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয় ভুক্তভোগীদের।

কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেতে কেন দীর্ঘ সময় লাগে সে বিষয়ে যৌক্তিক কোনো উত্তর নেই হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। যদিও ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বড় কয়েকটি হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পর্যাপ্ত লোকবল না থাকায় রিপোর্ট দিতে দেরি হয়।

২০২০ সালের ৭ মার্চ খিলগাঁওয়ের গোড়ানে আলিফ ও জান্নাতুল ফেরদৌস নামে তার দুই মেয়ের গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটে। তাদের গর্ভধারিনী মা আক্তারুনেচ্ছা পপি এই জগন্য ঘটনাটি ঘটায়। এ ঘটনায় নিহত শিশুদের বাবা মোজাম্মেল হোসেন বিপ্লব বাদি হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি মামলা করে। নিহত শিশুদের লাশের ময়নাতদন্ত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

শিশু দুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে পাওয়ার কারণে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এরকম অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত ঝুলে আছে লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে দেওয়ার কারণে। কিন্তু একটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হতে এত দেরি লাগবে কেন?

রাজধানীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে মূলত অপঘাতে মৃতদের লাশ ময়নাতদন্ত হয়ে থাকে। নিয়মানুযায়ী একটি লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হতে এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময় লাগার কথা। কিন্তু মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায় না।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশে (ডিএমপি) ৫০টি থানা রয়েছে। এর মধ্যে আগে লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, যাত্রাবাড়ী ডেমরা এবং কেরানীগঞ্জ এলাকায় কেউ অপঘাতে মারা গেলে ওই লাশের ময়নাতদন্ত হতো স্যার সলিমুউল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। বাকী লাশের ময়নাতদন্ত হতো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে। এখন মিরপুর বিভাগের সকল থানা, উত্তরা (পূর্ব ও পশ্চিম), তুরাগ, দক্ষিণখান বাড্ডা, ভাটারা থানার সকল লাশ যায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ। এছাড়াও সেখানে কর্মরত রয়েছেন প্রদীপ বিশ্বাস, দেবিকা রায় এবং টিপু সুলতান। সেখানকার ফরেনসিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৬ থেকে ৭টি লাশের ময়না তদন্ত হয়ে থাকে।

একটি লাশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেতে কেন এত সময় লাগবে? এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সাবেক প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, প্রধানত কয়েকটি কারণে লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হয়।

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে ভিসেরা প্রতিবেদন, হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদেন পেতে দেরি হয়। এছাড়া লোকবল খুবই কম। কাজের পাশাপাশি ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াতে হয়, বিভিন্ন মামলায় স্বাক্ষ্য দিতে হয়। আমরা সরকারকে একাধিকবার বলেছি লোকবল নেওয়ার জন্য কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।’

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গড়ে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এখানেও লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হয়। রিপোর্ট পেতে কেন বিলম্ব হয় প্রশ্নের জবাবে সেখানকার সদ্য বিদায়ী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হতে পারে। ভিসেরা প্রতিবেদন, হিস্টোপ্যাথলজি প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেতে বিলম্ব হয়। এছাড়া লোকবল কম থাকার কারণে প্রতিবেদন দিতে দেরি হয়।’

এ ব্যাপারে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সেলিম রেজা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেরিতে দেওয়ার প্রথম কারণ হচ্ছে মৃত্যুর ভিসেরা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়া। তবে আমাদের এখানে সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দিয়ে দেওয়া হয়।

(ঢাকাটাইমস/০৩জুন/এএ/ডিএম)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারও আগুন
গণতন্ত্র ধ্বংসের গভীর চক্রান্ত চলছে: ফখরুল
হাম ও উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু
ভারতকে সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধ করতে হবে, বিদ্যুতের দাম দুই বছর না বাড়ানোর আহ্বান সাইফুল হকের
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা