ঢাকা-১৪ উপনির্বাচন

কে পাচ্ছেন নৌকার টিকেট, গাবতলী মিরপুর পল্লবীতে আলোচনা

কাজী রফিক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ১৪:৫১ | প্রকাশিত : ১০ জুন ২০২১, ১৯:৩৭

আসলামুল হকের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া ঢাকা-১৪ উপ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের টিকেট কে পাচ্ছেন তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে রাজধানীর এই সংসদীয় আসনে। এরইমধ্যে দলটির স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় এসেছে।

এর মধ্যে প্রয়াত আসলামুল হকের স্ত্রী মাকছুদা হক, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার মোহাম্মদ মান্নান (এস এম মান্নান কচি)। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

আলোচনায় থাকা ৩৩ জন দলের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে নৌকার টিকেট তাই এখন দেখার অপেক্ষায় আসনটির ভোটাররা। আগামী জুলাইয়ের ১৪ তারিখ এই আসনে উপ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ২৮ জুলাই ভোটের নতুন তারিখ রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

ঢাকা-১৪ আসনটি ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭, ৮, ৯, ১০, ১১ ও ১২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। বিশাল আয়তনের এই আসনে ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৬ হাজার ৫৩৪ জন।

বিশেষ করে এই আসনের গাবতলী, মিরপুর, পল্লবী এলাকায় আলোচনার বিষয়বস্তু। বিশেষ করে চায়ের দোকানগুলোতে এ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার সংসদীয় আসনটির বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নির্বাচন কেন্দ্রীক নানা আলোচনা দেখা গেছে।

ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে নানা আলোচনা। এই মুহূর্তে আলোচনার জায়গাটা দখল করে আছে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন সে বিষয়টি। কারণ আসনটিতে নৌকার প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, আসলামুল হকের স্ত্রী মাকছুদা হক, সাবেক সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ৩৩ জন।

পাশাপাশি আসনটির সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনে লড়তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন মহানগর আওয়ামী লীগ, দারুস সালাম থানা আওয়ামী লীগ, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতাসহ এক ঝাঁক নেতা ও কর্মী।

তবে স্থানীয়দের চাহিদা, জনবান্ধব সাংসদ। বৃহস্পতিবার সকালে গাবতলী এলাকার চায়ের দোকানী সোহেল জানান, তিনি নির্বাচনের সকল খোঁজ খবরই রাখছেন। তার মতে, ক্ষমতাসীন দল থেকে হোক বা স্বতন্ত্র হোক, নাগরিক বান্ধব সংসদ সদস্য কামনা করছেন।

ঢাকা টাইমসের সঙ্গে আলাপকালে সোহেল বলেন, ‘আমি এই এলাকায় বড় হইছি। অনেক কিছুই দেখছি। এলাকার উন্নতি, দূর্নীতি সব জায়গায় এমপি একটা হাত থাকে। আসলাম সাহেব কি ছিল, কেমন ছিল সবাই জানে। তিনিও অনেক কাজ করছে। এখন এমপি হইতে লোকের অভাব নাই। কিন্তু বিশ্বাস করেন এই লকডাউন গেল, এত করোনায় মানুষ কষ্ট করছে, তাগো কাউরে দেখি নাই।’

একই ভাষ্য স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলামের। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এই ছাত্র বলেন, ‘মানুষের দূর্দিনে যে নেতাদের পাওয়া যায় না, এমপি হওয়ার দৌড়ে তারা সবার আগে।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী জুয়েল রানা ঢাকা টাইমসকে জানান, ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হতে যারা মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তাদের মধ্যে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরীর জনসমর্থন বেশি।

আসনটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চান গাবতলি গবাদী পশুর হাট ইজারাদার লুৎফর রহমান। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকালে তিনি নিজের সাংগঠনিক পরিচয় দিয়েছেন বৃহত্তম মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, হাট ইজারাদার এবং স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হলেও এমপি প্রার্থী হিসেবে ভোটারদের মধ্যে তার তেমন কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। উত্তর সিটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী ওয়ার্ড এবং পল্লবী এলাকায় বেশ জনপ্রিয়।

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার সুবাদে স্থানীয় যুবলীগের সমর্থন পাচ্ছেন মাইনুল হোসেন খান নিখিল। পাশাপাশি করোনাকালে সাংগঠনিক ও ব্যক্তিগত জায়গা থেকে স্থানীয় দারিদ্রপীড়িত মানুষকে সহযোগিতা করে নিজের অবস্থান অনেকটাই সুদৃঢ় করেছেন এই যুবলীগ নেতা।

দলের মনোনয়ন পেতে চান সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিন। করোনাকালে তাকে ব্যক্তি উদ্যোগে মানবিক কাজে দেখা গেছে। এছাড়া আলোচনায় আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান, শাহ আলী থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আগা খান মিন্টু ও দারুসসালাম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মাজহারুল আনাম।

এদিকে আওয়ামী লীগে কোনো সাংগঠনিক পরিচয় না থাকায় দলটির মনোনয়ন ফরম কিনতে এসেও ফিরে যেতে হয়েছে অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল এবং ইখলাস মোল্লাকে। এখলাস মোল্লা এর আগে ঢাকা-১৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে লড়ে পরাজিত হয়েছেন।

মনোনয়নপ্রত্যাশীরা যা বলছেন

যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল দলীয় মনোনয়নে আসনটির সংসদ সদস্য পদে লড়তে চান। তবে দল থেকে যাকেই মনোনয়ন দেওয়া হোক তিনি দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রাখবেন বলে ঢাকা টাইমসকে জানিয়েছেন।

নিখিল বলেন, ‘মানুষের কল্যানে কাজ করার একটা বৃহৎ জায়গা পাওয়া, সেটি তো একটি বড় বিষয়। তবে কে মনোনয়ন পাবে, সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত।’

নিখিল বলছেন, ঢাকা-১৪ আসনের অন্যতম সমস্যা মাদক। এছাড়া জলাবদ্ধতা রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে এবং নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে এই দুটি বিষয়কে বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করবেন।

অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বের চৌধুরী মনে করেন দলের জন্য এই আসনে তিনি ভাল প্রার্থী। তিন যুগের বেশি সময় ধরে এখানকার মানুষের জন্য রাজনীতি করে আসছেন তিনি। সেই সুবাদে মনোনয়ন আশা করছেন এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।

ঢাকা টাইমসকে মোবাশ্বের বলেন, ‘এই মাটিতে আন্দোলন করেছি, মার খেয়েছি, জেল খেটেছি। সবকিছুই করেছি। মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছি। কাউন্সিলর ছিলাম। মানুষের জন্য কাজ করেছি। জীবনে অসৎ হইনি। সে দৃষ্টিতে বলি, আমি নিজেকে দলের জন্য একজন ভাল প্রার্থী বলে মনে করি। এখন জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং দলের মনোনয়ন বোর্ড কাকে দিবে তা দল সিদ্ধান্ত নেবে।’

সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনও মনোনয়ন আশা করছেন। ঢাকা টাইমসকে তুহিন বলেন, ‘আমি এমপি থাকার আগেও দলের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করেছি। এমপি থাকা অবস্থায়ও কাজ করেছি। এখন এমপি নেই তারপরও মানুষের কাছে গিয়ে গিয়ে তাদের জন্য কাজ করছি।’

(ঢাকাটাইমস/১০জুন/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :