নতুন বলে পুরনো-ব্যবহৃত পণ্য বিক্রি করছে দারাজ!

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০২ জুলাই ২০২১, ১৪:৫৩ | প্রকাশিত : ০২ জুলাই ২০২১, ১১:০৭

বাড়িতে ব্যবহারের জন্য অনলাইন শপিং প্লাটফর্ম দারাজ থেকে একটি হোম সোলার সিস্টেম কিনেছিলেন লিমন। পণ্যটি কেনার সময় তাতে দেয়া পণ্যের বিবরণে বলা হয়েছিল, এর সঙ্গে ৫ ওয়াটের দুটি সোলার প্যানেল থাকবে। কিন্তু পণ্যটি হাতে পেয়ে তিনি দেখলেন মাত্র একটি সোলার প্যানেল। শুধু তাই নয়, সোলার প্যানেলটির কন্ট্রোলার বক্স ফাঁটা, তার ছেড়া। এটি দেখেই মনে হয় পুরনো। আগে ব্যবহার করা হয়েছে। লিমন পণ্যটি ব্যবহার না করে দারাজে রিটার্ন রিকোয়েস্ট করে।

লিমনের মতো দারাজ থেকে ব্যবহৃত, পুরনো পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। এদেরই একজনের খোঁজ মিলল দারাজ অ্যাপেই। লিমন দারাজের যে সেলারের কাছ থেকে সোলার সিস্টেম কিনেছিলেন সেই একই সেলার ইনফিনিটি-স্টোরের বিরুদ্ধে আগেও পুরনো পণ্য গ্রাহকদের গছিয়ে দেয়ার অভিযোগ মিলল। ইনফিনিটি স্টোরের হোম সোলার সিস্টেম পণ্যটির রিভিউতে এক ক্রেতা লিখেছেন তাকে পুরনো, ব্যবহৃত সোলার সিস্টেম দেয়া হয়েছে।

দারাজের ওয়েবসাইট, অ্যাপ এবং অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ঘেটে দেখা গেলো প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগের ছাড়াছড়ি। এর মধ্যে পুরনো, নষ্ট পণ্য, ভুল পণ্য সরবরাহের অভিযোগই বেশি।

দারাজের ফেসবুকে পেজে এক পোস্টের নিচে এইচআর রিপন নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করে লিখেছেন, ‘আমি অর্ডার করেছি একটা আর দিয়েছে আরেকটা।’

দারাজের আরেকটি পোস্টের নিচে ওই একই ক্রেতার অভিযোগ, ‘আমি ওদের প্রতারণার শিকার হয়েছি’।

দেব দুলাল ভট্টাচার্য নামের এক ক্রেতা দারাজের পেজে কমেন্টে অভিযোগ করে লিখেছ্নে, ‘আমি একটা রাউটার কিনছি। ইন্টারনেট কানেকশন দেয়ার পর দেখি এটার সিগন্যাল প্রবলেম। ভাই আপনাদের প্রডাক্ট নষ্ট থাকলে এগুলো বিক্রি করেন কেন?’

ফেসবুকে দারাজের পেজে কমেন্টে এসবি সাগর আলম এসজি নামের এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, ‘যত বাজে মাল আছে। সব পাবেন দারাজে। আমি ২টা প্যান্ট ৪ টা গেঞ্জি অর্ডার করছিলাম। কিন্তু বাজে প্যান্ট পাঠিয়েছে। প্যান্ট ২টা নিয়েছি। আর কিছু নেই নাই। প্যান্টের কালারে সমস্যা সুতা উঠে গেছে, এই রকম প্যান্ট পাঠিয়েছে। আর একটা আমি পরতে পারি না। আমার কোমরের সাইজ ৩২, আমাকে দিয়েছে ৩০ সাইজের।’

এছাড়াও দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সময় মতো পার্সেল ডেলিভারি না দেয়া ও রিফান্ড করা পণ্যের টাকা সঠিক সময় ফেরত না দেয়ার।

No description available.

এসব বিষয়ে দারাজের বক্তব্য জানতে চাইলে লিখিত প্রশ্ন চায় প্রতিষ্ঠানটি। লিখিত আকারে প্রশ্ন সরবরাহ করার পর সময়ক্ষেপণ করা হয়। সপ্তাহ খানেক পর দারাজ টিম থেকে বক্তব্য আসে। কিন্তু যে বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।

ঢাকাটাইমসের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ‘দারাজের বিভিন্ন সেলার ক্রেতাদের নষ্ট, ব্যবহৃত, পুরনো এবং ক্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রেতাদের গছিয়ে দিচ্ছে। ওসব পণ্য রিটার্ন করতে গিয়ে ক্রেতারা হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন। পণ্য রিটার্ন যেমন সময়সাপেক্ষ এবং ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য ফেরত পাওয়াটাও ঝক্কির।’

ঢাকা টাইমসের কাছে একাধিক ক্রেতা এই সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

দারাজের পাঠানো লিখিত উত্তরে ক্রেতাদের নষ্ট, ব্যবহৃত, পুরনো এবং ক্রুটিযুক্ত পণ্য বিক্রেতাদের গছিয়ে দেয়ার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। বরং কোম্পানির পক্ষে সাফাই গাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ঢাকা টাইমস সম্প্রতি দারাজের বিরুদ্ধে পণ্য ডেলিভারির প্রসঙ্গে যেসকল অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। দারাজ বাংলাদেশ সবসময় সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গ্রাহকসন্তুষ্টি নিশ্চিতকরণে জোর দিয়ে আসছে, সুতরাং গ্রাহকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগই দারাজের কাছে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

‘ঢাকা টাইমসের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দারাজ উক্ত গ্রাহকের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে। কিন্ত একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কলটি রিসিভ করেননি। তাছাড়া, পণ্যটি তার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।ঢাকা টাইমসের অভিযোগে একাধিক বিক্রেতার কাছ থেকে নষ্ট, ব্যবহৃত, পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ পণ্য সরবরাহের কথা উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে দারাজ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ঢাকা টাইমস কেবল একটি বিক্রেতার প্রসঙ্গে তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। এবং তার প্রেক্ষিতে, উক্ত বিক্রেতার সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

ঢাকা টাইমসের কাছে দারাজ ক্রেতাদের মধ্যে একজন জানান, তিনি ক্রুটিপূর্ণ এবং ব্যবহৃত পণ্য পেয়েছিলেন। তখন তিনি সেটি ফেরত নেয়ার জন্য রিটার্ন রিকোয়েস্ট করেন। রিটার্ন রিকোয়েস্ট করার তিন দিন পর তার কাছে থেকে পণ্য ফেরত নেয়া হয়। এই তিন দিনের মধ্যে কেবলমাত্র একদিন ডেলিভারি ম্যান পণ্য ফেরত নেয়ার বিষয়ে ফোন দেয়। এছাড়া দারাজ কর্তৃপক্ষ একবারও ফোন দেয়নি। অথচ, দারাজের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘অভিযোগকারী ও ক্রেতাকে দারাজ একাধিকবার ফোন দিয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি।’

দারাজ প্লাটফর্মে পুরনো, ব্যবহৃত পণ্য কেন বিক্রি করা হচ্ছে সে বিষয়ে দারাজ কোনো সদুত্তর দেয়নি।

(ঢাকাটাইমস/২জুলাই/এজেড/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :