৫ লাখ টাকা পেল নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার, ট্রাকচালক আটক

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ট্রাকচাপায় মোহাম্মদ হাবিব হিমেল নামে এক ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বেশ কয়েকদফা দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ট্রাক চালককে। আর পাঁচ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে হিমেলের পরিবারকে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে নিহত হিমেলের মরদেহ নেয়া হয় তার অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সামনে। সেখানে কিছুক্ষণ রাখার পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে। জানাজায় উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপুসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এরপর তার মরদেহ নাটোরে তার নানা বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। অন্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মরদেহ নিয়ে যান উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু।
উপাচার্য জানিয়েছেন, এরই মধ্যে হিমেলের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা হস্তান্তর করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ধাপে ধাপে আরও সহযোগিতা করা হবে। হিমেলের মায়ের আজীবন চিকিৎসা খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। এছাড়া আহত দুই ছাত্রের চিকিৎসার সব খরচও বিশ্ববিদ্যালয় দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরও জানান, এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রারকে মামলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া নিহত পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা ও পরিবারের একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উপাচার্য বলেন, আপাতত কিছুদিন উন্নয়নমূলক কাজ বন্ধ থাকবে। রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক চলাচল করবে।
তবে এ ঘটনায় এখনো নিহতের পরিবার কিংবা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার আলী তুহিন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় ট্রাকচালক টিটুকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ হাবিব হিমেলসহ তিন শিক্ষার্থী মোটরসাইকেলে শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় নির্মাণ সামগ্রীবাহী একটি ট্রাক তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই হিমেলের মৃত্যু হয়। এঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ট্রাকচাপায় হিমেল নিহত হওয়ার ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং একের পর এক ট্রাকে অগ্নি সংযোগ করে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। তারা রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে রাখেন। শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে তারা বিক্ষোভ দেখান। এসময় যানচালাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হিমেল নিহত হওয়ার পর প্রক্টরকে জানানো হলে তিনি মিটিংয়ের অজুহাত দেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাননি। প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় দুর্ঘটনার পর বেশ কিছুটা সময় হিমেলের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়েছিল। এতে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। রাত সাড়ে ১২টার পর সংবাদ পেয়ে ছুটে আসেন সিটি মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। রাত দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর রাত দুটোর দিকে প্রক্টর লিয়াকত আলীকে অপসারণ করার কথা জানান রাবি উপাচার্য। একই সঙ্গে হিমেল হত্যার বিচার, নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা সহ অন্য দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে রাত আড়াইটার দিকে হলে ফিরে যান শিক্ষার্থীরা।
(ঢাকাটাইমস/০২ফেব্রুয়ারি/আরএম/ইএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































