সব নিত্যপণ্যের দামই বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণহীন বাজার

কৌশিক রায়, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০২২, ২২:২১

ভোজ্যতেলের মূল্যবৃদ্ধি শেষে সংকট কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বাজারে বাড়তে শুরু করেছে নিত্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পণ্যের দাম। আর এই ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অন্যসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলছেন খুচরা দোকানি ও ক্রেতারা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশীয় বাজারে অপ্রত্যাশিতভাবে পণ্যের দাম বেড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

এদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম স্থিতিশীল রাখতে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার গম রপ্তানির উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিলে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রভাব পড়েছে দেশীয় বাজারে। আটা ও ময়দা সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো বাড়িয়েছে সব ধরনের প্যাকেটজাত ও খোলা এসব খাদ্য শষ্যের।

মঙ্গলবার রাজধানীর শ্যামলী কাজী অফিস বাজার ও আগারগাঁও বিএনপি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছুদিন আগে দুই কেজি ওজনের প্যকেটজাত আটা ৯০ টাকা দামে বিক্রি হয়। সেই আটার দাম এখন কোম্পানি থেকে বাড়িয়ে দোকানিদের জন্যই ১১০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বলে জানান দোকানিরা।

এছাড়াও দুই কেজি ওজনের প্যকেটজাত ময়দা ছিল ১২০ টাকা। বর্তমানে নতুন পণ্য বাজারে এলে তা ১৫০ টাকা হতে পারে বলে জানান দোকানিরা। সেই সঙ্গে বাজারে কেজি প্রতি ৩৬ টাকা বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকা।

বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা দরে, যা আগে বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে। দেশি রসুন দ্বিগুণের বেশি দাম বেড়ে বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, যা আগে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

দাম বৃদ্ধির অভিযোগ তুলে খুচরা দোকানিরা বলেন, কিছুদিন আগে অস্বাভাবিকভাবে তেলের দাম বাড়ল। অনেক ব্যবসায়ী অগে থেকে তেল মজুদ করে দোকান থেকে অনেক দূরত্বের গোডাউনে রেখে দিয়েছেন, কেউ যাতে খোঁজ না পায়। তারপর তারা বলেন তেল নাই। এভাবেই তেলের সংকট তৈরি করেছে এবং দাম বাড়িয়েছে।

মূলত তেলের দাম বাড়িয়ে তার পেছনে সবকিছুর দাম বাড়ানো হয়েছে, যাতে অন্যসব পণ্যের দাম নজরে না আসে। সবাই তেলের দাম নিয়ে ব্যস্ত, অন্য সব পণ্যের যে দাম বেড়েছে সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। এভাবে সবার নজর সরিয়ে রাখা হয়েছে।

এক বিক্রেতা বলেন, হঠাৎ করে ভারতসহ অন্যান্য দেশ আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। সেই কারণে ঈদের আগে পণ্য যে দামে বিক্রি করেছি সেই পণ্যের দাম এখন অনেক বেশি।

এদিকে প্রতিদিনই রুটিন করে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। ক্রেতারা বলেন, এখন বাজারের কোনো পণ্য কেনা সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য নেই। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলানো যাচ্ছে না। হয় কোনো পণ্য কেনা বাদ দিতে হবে, নয়তো খুব অল্প পরিমানে কিনতে হবে। আর অল্প পরিমানে কিনলে পরের দিন আবারও বাজারে আসতে হবে। সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু মানুষের আয় সেভাবে বাড়েনি।

সরকারের সঠিক নজরদারির অভাবে বাজার এমন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে সবকিছুর দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন ক্রেতারা।

এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গম উৎপাদনকারী দেশ ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম স্থিতিশীল রাখতে গম রপ্তানির উপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। এ ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে গমের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি জানায়, চলতি বছর বিশ্বে গমের দাম ৬০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে রুটি থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য, যেগুলো গম থেকে তৈরি হয়, সেগুলোর দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গম রপ্তানির বিষয়টি তারা পুনরায় খতিয়ে দেখছেন।

মূলত রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পরই বিশ্বে গম সরবরাহে সংকট তৈরি হয়। কারণ উভয় দেশ বিশ্বে গমের অন্যতম সরবরাহকারী দেশ। কিন্তু বর্তমানে রুশ হামলার কারণে ইউক্রেনে গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন করে পশ্চিমা বিশ্বের চক্ষুশূল হতে চাচ্ছে না অধিকাংশ দেশ।

এছাড়াও গত ৫ মে বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর দাম বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

দেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি দাম ১৮০ টাকা।

(ঢাকাটাইমস/১৭মে/কেআর/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

অর্থনীতি এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :