স্টুপিড না হলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে: শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:৫৪ | প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর ২০২৩, ১৮:১১

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, নির্বাচন ১০০% ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার হবে৷ কেউ মাথা ঘুরাতে পারবে না। ভোট দিতে যাবে আর আসবে। স্টুপিড না হলে বিএনপি নির্বাচনে আসবে৷

মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন৷

তারেককে খলনায়ক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তার (তারেকের) মায়ের প্রতিই টান নেই৷ তারেক খলনায়ক হিসেবে পারফেক্ট৷ ২১ আগস্ট বোমা হামলা করে ২৪ জনকে মেরেছেন, তালেবান-উলফাদের আশ্রয় দিয়েছেন৷ সিনিয়র নেতাদের সাথে তারেকের কোনো মতামতই মেলে না৷ নারায়ণগঞ্জ বিএনপির যেসব ছেলেপেলে আছেন তারা প্লিজ কারো কথা শুনে নাচবেন না৷ আগামী ১৫-২০ দিন কিছু নির্মম ধবংসাত্মক কাজ করার চেষ্টা হবে৷ হয়তো একথা বলার জন্য আমি থাকবো না৷

তিনি বলেন, আমার যাওয়ার সময় হয়ে গেছে৷ আমার পরিবারের সদস্যরা এই বয়সেই চলে গেছেন৷ আমার বয়স ৬২ বছর নয় মাস৷ যেকোনো সময় আল্লাহর ডাক আসতে পারে৷ তাই আল্লাহকে খুশি করে যাওয়া উচিত৷ প্লিজ আমাকে কাজ করার সুযোগ দিন৷ মানুষমাত্রই ভুল হয়। আমি কোনো ভুল করে থাকলে ক্ষমা করে দিয়েন৷ মৃত্যুর পরে যেন সূরা ফাতিহা পড়ে আমার জন্য দোয়া করে মানুষ, এটিই আমার চাওয়া।

তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে উল্লেখ করে প্রভাবশালী এই সংসদ সদস্য বলেন, জানি আমি এবার যখন ফিল্ড ওয়ার্কে নামবো, আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হবে৷ তাদের উদ্দেশ্যে বলি, কাপুরুষের মতো বোমা হামলা কইরেন না৷ ২০০১ সালে আমার জন্য বিশটা মানুষ মারা গিয়েছেন৷ ওই পরিবারগুলো দেখে আসেন৷ বাচ্চা বাচ্চা মেয়েগুলো বিধবা হয়েছে৷ মারতে চাইলে আমাকে ডাইরেক্ট গুলি করেন, কিন্তু বোমা হামলা করবেন না।

ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমাদের তো একটা মহল সবসময় গালাগালি করেই যাচ্ছে৷ অসুবিধা নাই, দেন গালি৷ আমরা জানি সবকিছু৷ ওই সময়ে আমি দুবাই ছিলাম৷ তবুও কোথাও পাল্টা জবাব দিইনি৷

বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে শামীম ওসমান বলেন, আমরা চাইলে অনেকের ক্ষতি করতে পারতাম৷ নেত্রী বলেছেন, কোনো প্রতিহিংসা নয়৷ শয়তানের কাজ শয়তান করেছে৷ আমি যদি আজ বলি ধর, পাঁচ মিনিটের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা হবে৷ এটা আমার দলের নেতাকর্মীরাই করবে। গত ১৪ বছরে নারায়ণগঞ্জে কোনো সহিংসতা হয়নি৷ আমরা সহাবস্থানে থাকতে চেয়েছি। যারা বিএনপির হাতে মারা গেছেন, তাদের দুই-চারজনের বাসায় আমি গিয়েছি৷ তারা জিজ্ঞেস করেছে ভাই আপনি কি বিচার করবেন না৷ একথা শুনে আমার কষ্ট লেগেছে৷ তারা বিচার চাইবে, এটিই স্বাভাবিক। নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তো এই হত্যা বা নোংরামি ছিল না।

নিষিদ্ধ পল্লী পুনর্বাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাবা শরিফ ছুঁয়ে এটি করার অঙ্গীকার করেছিলেন। আপা (শেখ হাসিনা) আমাকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন। আমি বলেছি না, আমি এইটা করতে চাই৷ আপা আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন। ওখানে অনেকগুলো মেয়ে ছিল যাদের শারীরিক গঠনও ঠিকমতো হয়নি৷ কোরআনে লেখা আছে, যে এলাকায় জেনা হয়, সেখানে আল্লাহর গজব পড়ে।

এবার নির্বাচিত হলে বা না হলে নারায়ণগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে চাই৷ এত টাফ হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের ধরা, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এরা মাদক রাখে। রেখে দেয়৷ সাংবাদিকদের মধ্যেও অনেকে মাদকে জড়িত৷

অবসরের সময় এসেছে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, এখন চলে যাওয়ার সময়৷ আগামীবার হয়তো ইলেকশন করবো না৷ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে যে ব্রেইন দরকার তা আমার নেই৷ এটা গড়বেন সজীব ওয়াজেদ জয়৷ যারা স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য কাজ করবেন, সেই তরুণ প্রজন্মের হাতে আগামীতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে বিদায় নিবো, দুনিয়াটা ঘুরে দেখব।

নিজ আসনে উন্নয়নের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, একেএম শামসুজ্জোহা সড়ক ও নাগিনা জোহা সড়ক সম্পন্ন হওয়ার পরে মানুষ ঘুরতে যাবে সেখানে। ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ, আইটি ইনস্টিটিউট, টেকনিক্যাল কলেজ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে৷ মুন্সিগঞ্জ অভিমুখী ২৬০০ কোটি টাকার রাস্তা হচ্ছে৷ ৫৮টি স্কুলের নতুন ভবন নির্মিত হয়েছে৷ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক আরসিসি হবে৷ ডাবল লাইন রেললাইন করেছি৷ মেট্রোরেলকে নারায়ণগঞ্জ অবধি নিয়ে আসবো৷ নারায়ণগঞ্জের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা টান, অনুভূতি আছে, এটি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নমিনেশন দেখলেই বুঝবেন৷ অনেকেই ডিএনডির কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন৷ অসংখ্য মামলা ছিল এটা নিয়ে৷ সেনাবাহিনী কাজটি করছে বিধায়ই কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০০-৩০০ কোটি টাকা আনতে পারলে আরো দারুণ কিছু হবে৷

নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, আব্বা-আম্মা ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কবর জিয়ারত করে প্রচার শুরু করবো৷ রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে। এর নামই গণতন্ত্র৷ আমরাও রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। ২০০১ সালের নির্বাচনে সব টেলিভিশনে রাত ৩টার সময় আমাকে জয়ী ঘোষণা করা হলো৷ উপজেলা পরিষদে আমার লোকেরা যাওয়ার পরে তাদেরকে চলে যেতে বলা হলো৷ সেই রাতে নারায়ণগঞ্জে কর্নেল দায়িত্বে ছিলেন৷ আমার সব চেয়ারম্যানকে অ্যারেস্ট করা হলো, মারতে মারতে একজনকে মেরে ফেলা হলো। ওই অফিসার কামরুল আমাকে জানালেন, ভাই, আপনি চলে যান৷ আপনাকে মেরে ফেলা হবে৷ ওই সময়ে আমি সাহস বলেছিলাম এই নির্বাচনে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ করেছে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু চন্দন শীলা প্রমুখ।

(ঢাকা টাইমস/২৮নভেম্বর/প্রতিনিধি/এসএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :