ঢাকা টাইমসকে একান্ত সাক্ষাৎকার

রাজাবাড়ি ব্রিজটি অক্টোবরেই উড়িয়ে দিয়েছিলাম

তানিয়া আক্তার, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৫:৪৪ | প্রকাশিত : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:০৩

একাত্তরের অগ্নিঝরা মার্চে নিষ্ঠুর পাক হানাদারদের শোষণ ও বঞ্চনা থেকে বাংলার মাটিকে মুক্ত করতে কৈশোরেই হাতে তুলে নিয়েছিলাম অস্ত্র। সেই লক্ষ্যে জীবনবাজি রেখে খেয়ে না খেয়ে দিনের পর দিন পার করেছি রণাঙ্গনে। পরিবার-পরিজনের মায়ার ছায়া থেকে দূরে ছিলাম দীর্ঘদিন। রণাঙ্গনে ঝড়-ঝঞ্ঝায় হারিয়েছি সহযোদ্ধাদের। মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এসেছি বারবার। ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ রণাঙ্গনে মাথা ও কানের পাশ দিয়ে সাঁই সাঁই করে কত গুলি চলে গেছে তার হিসাব নেই। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝে প্রতিমুহূর্তের অপেক্ষা ছিল একটি স্বাধীন দেশের। টানা ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর অবশেষে পেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয়। এভাবেই ঢাকা টাইমস-এর কাছে একাত্তরের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন গাজীপুর জেলার সাবেক সহকারী মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও কাপাসিয়া উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গনি। রণাঙ্গনের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি কখনো উচ্ছ্বসিত হয়েছেন, আবার কখনো চোখের সামনে সহযোদ্ধাদের নির্মম হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিতে গিয়ে হয়েছেন বাকরুদ্ধ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গনি ১৯৫৪ সালের ১০ নভেম্বর গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম মো. শহর আলী মুন্সী। মায়ের নাম ফজরের নেসা। দুই ভাইবোনের মধ্যে ছোট এম গনি ছিলেন মা-বাবার অতি আদরের। সেই মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।

গতকাল বুধবার একাত্তরের বীরত্বগাথা সেই দিনগুলোর বর্ণনা তুলে ধরে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের পর জাতি-ধম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের স্বাধীনতাকামী মানুষেরা একাকার হয়ে গিয়েছিল। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের পর থেকে ১৯ মার্চ সর্বপ্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ হয় গাজীপুরে। এই প্রতিরোধ যুদ্ধটা যেদিন হয়, সেদিনই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একজন মেজর জেনারেলকে গাজীপুরে পাঠানো হয়। পাকিস্তান সেনাপ্রধানের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল গাজীপুরে আধিপত্য বিস্তার করা। সেই সংবাদ শোনার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে গাজীপুরের হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসে। শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক (বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী), আজিমুদ্দীন মাস্টার, হাবিবুল্লাহ মাস্টার, আলিমুদ্দিন বুদ্দিন ও সাত্তার ভাইসহ অন্যরা। প্রতিরোধ যুদ্ধে দুজন সহযোদ্ধা শহীদ হন। এরা হলেন নেয়ামত আলী এবং হুরমত আলী। প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরুর পরদিন থেকেই ইপিআরদের পালানো শুরু হয়। আর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই যুদ্ধকালীন কমান্ডার মাহমুদুল আলম খান বেনুর নেতৃত্বে আমরা ১১ জন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিই। তখন ইপিআরদের কাছ থেকে ৭ থেকে ৮টি অস্ত্র পাই। সেই অস্ত্রগুলো নিয়ে এপ্রিলে কাপাসিয়ার হরিমঞ্জুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথম ক্যাম্প গড়ে তুলি। এখানেই আমাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়।

বাবার উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় যুদ্ধে যাওয়ার পথ মসৃণ হয় জানিয়ে এম এ গনি বলেন, আমার বাবা ছিলেন একজন আলেম। তবুও তার মধ্যে দেশাত্মবোধ ছিল প্রবল। তার অনুপ্রেরণায়ই কাপাসিয়াতে ফিজিক্যাল ক্যাম্পিং শুরু করি। তখন আমার বয়স ছিল সতেরো। ক্যাম্পে যাওয়া শুরু হলে আমার প্রতিমুহূর্তের খোঁজ রাখতেন আব্বা। মে মাসের শেষের দিকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যাওয়ার পথেই হোল্ডিং ক্যাম্পে ভীষণ অসুস্থ হয়ে হেঁটে বাড়ি থেকে চার মাইল দূরে ভগ্নিপতির বাড়িতে উঠলাম। পরের দিনই শুনলাম আমাদের গ্রাম পাকিস্তানিদের দখলে চলে গেছে। এ অবস্থায় বাড়িতে আসা সম্ভব নয়। শুধু একবারের জন্য আব্বা-আম্মাকে দেখতে রাতেই দুঃসাহস করে বাড়িতে গেলাম। আমাকে দেখামাত্র আব্বা মাকে ডেকে বললেন, ‘ওরে কিছু খাওন দেও আগে।’ এত হতাশা আর অনিশ্চয়তায় তখন খাবারও তৈরি থাকতো না। অল্প কিছু খাবার খাওয়ার পর আব্বা ৩০০ টাকা হাতে দিয়ে বললেন, ‘এখানে আর থাকার দরকার নাই। আমরা আল্লাহর ওপর ছাইড়া দিলাম তোমারে।’

তিনি বলেন, হরিমঞ্জুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্যাম্পে শারীরিক প্রশিক্ষণ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ আমাদের নেতা বেনু ভাইয়ের কাছে টেলিগ্রাম পাঠিয়ে জানান আমরা যেন অতিদ্রুত কাপাসিয়া ত্যাগ করি। কারণ এখানে পাক হানাদার বাহিনী আঘাত হানবে। তাই কাপাসিয়া থেকে নদী পার হয়ে দূরে বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করি। পরে পাক হানাদার বাহিনী কাপাসিয়া বাজারসহ নদীর দুই প্রান্তে জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে। ইতোমধ্যে হরিমঞ্জুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্যাম্পিং করা অবস্থায় কাপাসিয়া থানার ৪৮টি অস্ত্র আয়ত্তে নিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বপ্রান্তে চলে যাই। এর দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে পাক হানাদার বাহিনী আসে সেই থানায়। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছিলাম না। কারণ আমাদের অস্ত্র ছিল কিন্তু প্রশিক্ষণ ছিল না। ফলে বাধ্য হয়েই অস্ত্রগুলো মাটির নিচে লুকিয়ে রেখে শত প্রতিকূলতার মধ্যেই প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যাই। ভারতে প্রথমে উঠি আগরতলার কংগ্রেস ভবনে। এরপর হোল্ডিং ক্যাম্পে কয়েকদিন থাকার পর আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় আসামে। আসামে ৩০ দিন ট্রেনিং শেষে দেশের ভেতরে প্রবেশের প্রস্তুতি নিই।

সম্মুখযুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম যুদ্ধের কথা স্মরণ করে এম এ গনি বলেন, ‘কাপাসিয়ায় ফিরে প্রশিক্ষণ নেওয়া দলগুলো বেনু ভাইয়ের নেতৃত্বে যুদ্ধ শুরু করলাম। তার নেতৃত্বে যতগুলো সম্মুখযুদ্ধ হয়েছে এর মধ্যে অন্যতম ছিল ১৯৭১ সালের ১১ অক্টোবরের যুদ্ধ। সেদিন কাপাসিয়ার পশ্চিম প্রান্তে একটি স্কুলে তাদের ক্যাম্পে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান আর্মিরা ঢাকা থেকে আসার পথে গানবোট দিয়ে নদী পার হয়ে কাপাসিয়ার তরগাঁও গ্রামে ওঠে। তখন নদী থেকে তিনশ গজ দূরে তফি মোক্তারের বাড়ির পাশে দুই থেকে তিনটি দল সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নিই। যখন পাক বাহিনী তরগাঁওয়ের ১নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে উত্তর দিকে রওনা হয়। তখনই জীবন বাজি রেখে ফায়ার শুরু করি। আমাদের চেয়ে অনেক অস্ত্র তাদের থাকলেও আমরা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, যুদ্ধ চলাকালে সক্ষমতা কমে আসছে এটা বুঝতে পেরে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা ময়দান ছেড়ে চলে গেলেন। ঠিক এমন সময় একটি কাঁচা রাস্তার ধারে আমি ছিলাম। তখন দেখলাম সহযোদ্ধা গিয়াসউদ্দিনসহ লাইট মেশিন নিয়ে চিনাডুলী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন অবস্থান নিয়েছেন। কারণ এই মেশিন চালাতে দুজন দরকার হয়। কিন্তু তার মেশিনটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখনই পেছন থেকে হানাদার বাহিনী সাজ্জাদকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে ফেলে। সাজ্জাদের লাশ ও তার পাশে থাকা জীবিত গিয়াসউদ্দিন- এই দুজনেরই গলায় রশি লাগিয়ে টেনে-হিঁচড়ে কাপাসিয়া থানায় নিয়ে যায় তারা। সেখানে নিয়ে গিয়াসউদ্দিনকেও নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। পরে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষতবিক্ষত করা লাশ দুটো শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেয় নরপিশাচরা।’ এই স্মৃতি এখনও আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়।

বৃষ্টির মতো গুলি পড়তে শুরু হলেও নিজের অবস্থান থেকে ১৭ বছরের সেই কিশোরকে মোটেও টলাতে পারেনি উল্লেখ করে এম এ গনি বলেন, ‘কাপাসিয়া ক্যাম্প থেকে পাক হানাদার বাহিনী রানীগঞ্জ বাজারে গিয়ে লুটপাট করে আবার কাপাসিয়া ক্যাম্পে ফিরছে, এমন তথ্য পেয়ে চাটারবাগ নামক জায়গায় একটি ব্রিজের পূর্ব ও পশ্চিম দুই প্রান্তে আমরা অবস্থান নিই। কারণ, আমাদের কাছে তথ্য ছিল, এই ব্রিজ দিয়ে পাক হানাদার বাহিনী রানীগঞ্জ থেকে কাপাসিয়া ফিরছে। ফলে আমাদের পরিকল্পনা ছিল ব্রিজের ওপর যখনই তারা উঠবে তখনই সাঁড়াশি আক্রমণ করবো। ফলে আমাদের দল পূর্ব প্রান্তে টিলায় অবস্থান নেয়। কিন্তু পশ্চিম প্রান্তের বিলে কেউ যাচ্ছিল না। কারণ পানির মধ্য থেকে যুদ্ধ করা কঠিন। তখন আমি, আহসান উল্লাহ ও একজন সেনা সদস্য পশ্চিমপ্রান্তের খালের পাড়ে মাথা আর অস্ত্রের ট্রিগার বাইরে রেখে পুরো শরীর ডুবিয়ে অবস্থান নিই। কিন্তু আমাদের এক সহযোদ্ধার মিস ফায়ারে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সতর্ক হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ তারা আমাদের উদ্দেশ করে ফায়ার করতে শুরু করে। অর্ধজলমগ্ন হয়ে উপরে তাকিয়ে দেখি বৃষ্টির মতো গুলি পড়তে শুরু হলো। এ অবস্থার মধ্যেও আমরা ঘণ্টাখানেক যুদ্ধ করেছি।’

যুদ্ধের ময়দানে পাক হানাদারদের ধরাশায়ী করতে পারার আনন্দের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এম এ গনি বলেন, ‘মনোহরদী থানায় পাক আর্মিদের ক্যাম্প ছিল। তখন মনোহরদী থানার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আকমল চৌধুরী এবং আরেকজন সুবেদার মেজরসহ আমাদের কমান্ডার মাহমুদুল আলম খান বেনু ভাইয়ের আলোচনার মাধ্যমে সেই থানা আক্রমণের পরিকল্পনা নিয়েছিলাম। সেই পরিকল্পনায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল পূর্ব ও পশ্চিম দুই দিক থেকে আক্রমণ করবো। মনোহরদী থানায় দিনের বেলা আক্রমণ করি। প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা থেমে থেমে যুদ্ধ চলতে থাকে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে দুই দিকের সাঁড়াশি আক্রমণে পাক হানাদার বাহিনী দুর্বল ও হতভম্ব হয়ে পালাতে শুরু করে। কিন্তু পালাতে গিয়ে চতুর্দিকে ছুটোছুটি করে তখন তাদের দুই সেনা নদী পার হয়ে পাটক্ষেতে লুকিয়ে যায়। এই সংবাদ পেয়ে আমরা তল্লাশি চালাই। তাৎক্ষণিক হাজার হাজার জনতা পাটকাঠির আগুন জ্বালিয়ে স্লোগান দিতে থাকি। স্লোগানে চারদিক মুখর হয়ে ওঠে। এর মধ্যে দুজন পাক সেনাকে আমরা ধরতে সক্ষম হই। যা এখনও ভীষণ আনন্দ দেয়।’

বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের সুযোগ না থাকলেও তাকে দেখে উজ্জীবিত হয়েছিলেন সেই কিশোর। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে দেখলাম। পরে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর সংবর্ধনা দেওয়ার সময়ও দেখলাম। কথা বলার সুযোগ হয়নি। তবে তাকে দেখা বা কথা বলার সুযোগ থেকেও বড় কথা তাকে আদর্শ ভেবেই যুদ্ধে অবতীর্ণ হই।’

আহত সহযোদ্ধাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল না। গ্রাম্য চিকিৎসকদের নিজেদের ক্যাম্পে রেখে বা তাদের বাড়িতে যুদ্ধাহতদের রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হতো জানিয়ে তিনি এক যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে সম্ভবত রোজার ঈদের আগের দিন কাপাসিয়া থেকে শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব পাড়ে তরগাঁওয়ে হানা দেয়। তারা মাঝনদীতে যখন পৌঁছায় তখনই আক্রমণ করি। ফলে পাক হানাদারসহ রাজাকারদেরও অনেকে মারা যায়। আমার সঙ্গে তিনজন সেদিন আহত হয়েছিলেন। কারও হাতে, পাঁজরে গুলি লেগেছিল। গ্রাম্য চিকিৎসক দিয়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত একাধিকবার গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ হয়েছিল। এর মধ্যে কাপাসিয়া থেকে পাক হানাদারদের দ্রুত যেতে হয়েছিল কারণ ঢাকা থেকে কাপাসিয়া যাওয়ার পথে রাজাবাড়ি ব্রিজটি অক্টোবরেই উড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলাম। ফলে সড়কপথে গাড়ি দিয়ে চলাচলে অসুবিধা হওয়ায় গানবোটের মাধ্যমে চলাচল করতে হয়েছিল। তারা নৌকায় চলাচল করতো না। কারণ নৌকা এবং মাঝিদের প্রতি বিশ্বাস করতো না তারা। এভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা ধরনের প্রতিকূলতা ও প্রতিরোধের মুখে পড়ে বাধ্য হয়েই চলে যেতে হয়েছিল তাদের।’

জীবনের শেষ ভাগে এসে এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আপেক্ষ একটিই। সেটি হলো জীবিত মুক্তিযোদ্ধারা নতুন প্রজন্মের কাছে যথাযথ সম্মান না পাওয়ার আক্ষেপ। এ জন্য পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস তুলে না ধরাকেই কারণ মনে করেন তিনি। তার প্রত্যাশা সরকার নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের সম্মানের জায়গাটুকু যেন তৈরি করে দেয়।

সত্তরে পা রাখা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুবক্তা এম এ গনির জীবনযাপন একেবারেই সাদামাটা। তিনি গ্রামের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে বক্তব্য দেন। তরুণদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহ দেন।

একাত্তরে রণাঙ্গনের একজন সম্মুখযোদ্ধা ও একজন সমাজকর্মী হিসেবে স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৬ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন-ঢাকা কর্তৃক পেয়েছেন নেলসন ম্যান্ডেলা পদক। এছাড়াও বিভিন্ন সময় জেলা ও উপজেলা থেকে ছোটবড় অসংখ্যা পদকে ভূষিত হয়েছেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।

(ঢাকাটাইমস/০৭ডিসেম্বর/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :