শেখ হাসিনা একাই দশ মাহাথির 

এম এ লিঙ্কন মোল্লা
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০২৪, ১০:২৯

২৩ জুন ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ শুধু বাংলাদেশ নয়, এই উপমহাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ৭৫ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দল। এই সময়ের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক দলের জন্ম হলেও দলের কাণ্ডারির ভুমিকায় যোগ্য সংগঠক না থাকায় অনেক দলের বিলুপ্তি হয়েছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো উচ্চবিলাসী অবৈধ সেনা শাসকের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে রাষ্ট্রের তহবিল তসরুফ করে সেনা ছাউনিতে জন্ম হয়নি। আওয়ামী লীগ দেশ ও জাতির প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। আর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো একজন দেশপ্রেমিক দক্ষ সংগঠকের হাত ধরে এই দল পূর্ণতা পেয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, ১৯৬৬ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দেয়ার প্রাক্কালে যদি আওয়ামী লীগের বাইরে গিয়ে অন্য একটি দলও প্রতিষ্ঠা করতেন, দেশের জনগণ তাই গ্রহণ করতো। কারণ ততদিনে এই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে শেখ মুজিব একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সুতরাং বাঙালিদের মুক্তির প্রতীক ও অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই দলটি সবসময় প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের টার্গেটে ছিল, স্বাধীনতার আগে পাকিস্তানি চক্র, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত জিয়া-মোস্তাক ঘাতকচক্র এবং ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসকদের টার্গেটে পরিণত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুদ্ধ করে ৩০ লাখ মুক্তিকামী বাঙালির তাজা রক্তের বিনিময়ে এই দেশটি সৃষ্টি হলেও, আমরা যেন ভুলে না যাই যে, এই বাংলাদেশে থেকে-খেয়ে একটি গ্রুপ মহান মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতা করেছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক, বাংলাদেশের স্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে এই দেশকে পাকিস্তানের অঙ্গরাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। যেখানে স্বাধীনতার সব লক্ষ্য ও অর্জনকে নির্বাসিত করেছিল সামরিক জান্তা খুনী জিয়া। সেখান থেকে ১৯৮১ সালের ১৭ মে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে এসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশ ও দেশের জনগণের মুক্তি সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। এদিকে খুনী জেনারেল জিয়া রাষ্ট্রের টাকা খরচ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার গোপন মিশন নিয়ে মাঠে নেমে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে টার্গেট করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে। এটা স্পষ্ট যে, খুনী জিয়ার বহুমুখী ষড়যন্ত্র, ভঙ্গুর ও দুর্বল আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করে ধীরে ধীরে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসার মূল কারিগর ও সুদক্ষ সংগঠক বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। গত ৪৩ বছরে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সবচেয়ে জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা একাই দশ মাহাথির: বিভিন্ন সময়ে টিভি টকশো, সংবাদ মাধ্যমে দেশপ্রেম ও দেশের উন্নয়নের জন্য ভিনদেশের উদাহরণ দিয়ে আলোচকরা বাংলাদেশের একজন মাহাথির মোহাম্মদের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। অথচ বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও দলকে যেভাবে সমানতালে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা এদেশের মানুষ উপলব্ধি করেন বলেই আওয়ামী লীগের এতো জনপ্রিয়তা। একটি দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবারের যে অবদান তা পৃথিবীতে বিরল। আমার অবাক লাগে ভাবতে, জাতির পিতার কন্যাদ্বয় জাতির পিতা হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন এক মহৎ ও অভিনব কায়দায়। তারা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে এই হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন ও নিচ্ছেন। দেশবিরোধী পরাজিত শক্তি জানতো যে, বাংলাদেশ সফল হলে, বাংলাদেশ শক্তিশালীভাবে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলে শেখ মুজিব অনন্তকাল দেশের মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবেন। তাই বাংলাদেশে শেখ মুজিবের স্বপ্ন একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। এই জন্যই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। শেখ হাসিনাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এখনো তা অব্যাহত আছে। ঠিক একই লক্ষ্যে ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার জন্য খুনী জিয়াপুত্র, ঘাতক তারেক ইতিহাসের বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।

এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেও দেশি-বিদেশি সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। একটি দরিদ্র দেশ থেকে আজ আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছি। ২০৪১ সালে লক্ষ্য, একটি উন্নত দেশের কাতারে সামিল হবে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যে মানুষের যেসব মৌলিক অধিকার- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা, তা নিশ্চিত করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

অন্ন: বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিশ্বজুড়ে কোভিড মহামারির পর যুদ্ধরত পৃথিবীর অনেক সমস্যায়ও কেউ বলতে পারবে না বাংলাদেশে কেউ না খেয়ে আছে। বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের কারণে প্রায় ১ কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

বস্ত্র: একসময় পুরনো কাপড় আমদানি করা হতো, অথচ বাংলাদেশে আজ আর কেউ পুরান কাপড় ব্যবহার করে না।

বাসস্থান: ১৯৭২ সালে জাতির পিতার গৃহীত কর্মসূচি ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রম, যা বঙ্গবন্ধু কন্যা ১৯৯৭ সালে পুনরায় শুরু করেছিলেন। ২০১০ থেকে ওই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে জননেত্রীর সরকার ইতিমধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৪টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে চার শতাংশ জমিসহ বাসস্থান করে দিয়েছেন, যেখানে প্রায় সাড়ে ৪৩ লাখ মানুষের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে আওয়ামী লীগ সরকার।

শিক্ষা: শিক্ষাক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকার এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটিয়েছে, যেখানে এবছর প্রায় ৩৩ কোটি ৫০ লাখ বই বিনামূল্যে দিয়েছে।

চিকিৎসা: যদি চিকিৎসারসেবার কথা বলি তাহলে বলতে হয়, কোভিডকালীন স্বাস্থ্যসেবা ও ভ্যাকসিনসহ কমিউনিটি ক্লিনিকের কথা সারাবিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশে যখন কেউ কেউ মালয়েশিয়ার মাহাথিরকে খুঁজছে তখন তথাকথিত ওই টকশোর বুদ্ধিবিক্রেতাদের হীনম্যন্যতার কারণে দেশরত্ন শেখ হাসিনার কথা বা আওয়ামী লীগের কথা ইচ্ছে করে এড়িয়ে যান। অথচ আজ জলে সাবমেরিন, স্থলে মেট্রোরেল, অন্তরীক্ষে স্যাটালাইট, সমুদ্র সীমানাসহ শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের ফিরিস্তি লিখতে গেলে মহাকাব্য লেখা যাবে। জাতিসংঘসহ সারাবিশ্ব যখন শেখ হাসিনাকে উন্নয়নের রোলমডেল হিসেবে অনুসরণের কথা বলে, সেখানে আমাদের টকশোজীবীরা মাহাথিরকে খুঁজে।

আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারি, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে সামনে রেখে বাংলাদেশের স্মার্ট প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনেক আগেই দশ মাহাথিরের কাজ একাই করেছেন। একইসঙ্গে মালেয়শিয়ার মতো জনসংখ্যা আর প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলে গত ১৫ বছরে উন্নত দেশের প্রথম কাতারে থাকতো বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস। দেশের মানুষের কল্যাণে আওয়ামী লীগের প্রতিটি নেতাকর্মী এই দলের নীতি-আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবে। কারণ এই দলের আদর্শ জাতির পিতা শেখ মুজিব, অনুপ্রেরনা দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

এম এ লিঙ্কন মোল্লা: সদস্য সচিব, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ সমন্বয় কমিটি ও সাবেক সভাপতি, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :