তেলসম্পদে ভরপুর ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়

ভেনেজুয়েলা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তেলভাণ্ডারসমৃদ্ধ দেশ। দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরে অবস্থিত এই দেশটি একদিকে বিপুল জ্বালানি সম্পদের আধার, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিস্ময়ের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেলের মজুদ থাকা দেশ হিসেবে ভেনেজুয়েলার নাম শীর্ষে, যেখানে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল মাটির নিচে রয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এই সম্পদই এখন দেশটির জন্য এক ধরনের অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘গ্রেপ্তার’ করার দাবির পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার দায়িত্ব নেবে এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাসে একটি অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে পরিচালনা করবে, তবে এই ব্যবস্থাপনা কতদিন চলবে বা কীভাবে তা বাস্তবায়িত হবে—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করেছে ভেনেজুয়েলা সরকার। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একে সরাসরি ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, কোনো দেশের শাসনভার জোরপূর্বক দখল করা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ তৈরি করতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনা জোরালো হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ মার্কিন সংবিধান ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ভেনেজুয়েলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, তেলসম্পদের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা আরেকটি অনন্য প্রাকৃতিক ঘটনার জন্যও পরিচিত। দেশটিতে প্রতিবছর প্রায় ১২ লাখ বার বজ্রপাত হয়, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বৈজ্ঞানিকভাবে এই ঘটনাকে পৃথিবীর একটি প্রাকৃতিক ‘ওজোন জেনারেটর’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এই বিরল দৃশ্য পর্যবেক্ষণে প্রতিবছর হাজারো গবেষক ও পর্যটক ভেনেজুয়েলায় ভিড় করেন।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার এই সংঘাত এখন বৈশ্বিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও জ্বালানি বাজারে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে।
(ঢাকাটাইমস/০৪ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































