টিকিটের নামে প্রতারণা, ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা সিআইডির

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২১
অ- অ+

বিমান টিকিটের নামে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (FEBD)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার টাকার মানিলন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় সাতজনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।

সিআইডি জানায়, ফ্লাইট এক্সপার্ট ২০১৬ সালে অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা দিতে শুরু করে। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি FEBD নামে যৌথমূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ফ্লাইট এক্সপার্ট ও FEBD—দুই নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যাংক লেনদেন পরিচালনা করা হতো।

সিআইডির অনুসন্ধান অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বি-টু-বি (ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠান) এবং বি-টু-সি (ব্যবসা থেকে গ্রাহক) পদ্ধতিতে বিমান টিকিট বিক্রি করত। বিভিন্ন সময়ে বিশেষ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ নেওয়া হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করা হয়নি।

তদন্ত সংস্থার দাবি, ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন। এরপরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন।

সিআইডি আরও জানায়, FEBD-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে পুরো অর্থ নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করেনি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মামলাটির তদন্ত সিআইডি পরিচালনা করছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

(ঢাকাটাইমস/১৩ জুলাই/এসএস/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী
বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে আজও জলাবদ্ধতা, হাতে সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ পুলিশের
ছয় বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ঢাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা
খিলক্ষেতে ১০ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মাইক্রোবাস জব্দ
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা