বাবা ভাঙ্গার ‘ভবিষ্যদ্বাণী’: ২০২৬ সাল হতে পারে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বছর

২০২৬ সালের শুরুতে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার কারণে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার কিংবদন্তি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। তার অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন—২০২৬ সাল হবে পৃথিবীর জন্য ‘যুদ্ধ ও ধ্বংসের’ বছর।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে বাবা ভাঙ্গার কথিত পূর্বাভাসের মিল খুঁজে পাচ্ছেন তার অনুসারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট আটক হওয়ার ঘটনা, ইরানে ভয়াবহ সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ এবং গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, রাশিয়া ইস্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানকে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন তারা।
নিউইয়র্ক পোস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গা শুধু যুদ্ধের কথাই বলেননি; তিনি ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের পাশাপাশি ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগের কথাও নাকি ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।
বাবা ভাঙ্গা নামে পরিচিত এই রহস্যময় নারীর প্রকৃত নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্ডেভা গুশতেরোভা। তিনি ১৯১১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। কথিত আছে, মাত্র ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তার অনুসারীদের বিশ্বাস, এই অন্ধত্বই তাকে আধ্যাত্মিক এক বিশেষ শক্তি বা ‘দিব্যচক্ষু’ প্রদান করে।
প্রথাগত কোনো শিক্ষা না থাকলেও এক সময় বাবা ভাঙ্গা এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনেতারাও তার কাছে পরামর্শ নিতে যেতেন। তার নামে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্ঘটনা এবং বিশ্বশক্তি হিসেবে চীনের উত্থানের মতো ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়ার কথাও প্রচলিত রয়েছে।
অনুসারীদের মতে, ২০২৬ সাল নিয়ে বাবা ভাঙ্গা তিনটি বড় সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন—বড় শক্তিগুলোর মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা, ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বিশ্বজুড়ে চরম অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা।
বর্তমানে টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবা ভাঙ্গার এসব ভবিষ্যদ্বাণী নতুন করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি করেছে, তার ফলেই এসব পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী আবার আলোচনায় এসেছে।
তবে সমালোচকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বাবা ভাঙ্গার সব পূর্বাভাস সত্য হয়নি। উদাহরণ হিসেবে ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবুও তার অনুসারীরা বিশ্বাস করেন, ২০২৮ সালে শুক্র গ্রহে অভিযান কিংবা ২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার মতো দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসগুলো বর্তমান জলবায়ু ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে কিছুটা মিল রাখে।
বাবা ভাঙ্গা ২০৭৬ সালে বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদের বিস্তার, ৩৭৯৭ সালে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া এবং এমনকি ৫০৭৯ সালে পৃথিবী সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার মতো সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যৎ নিয়েও ধারণা দিয়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা যদিও এসব ভবিষ্যদ্বাণীকে কাকতালীয় বা ষড়যন্ত্রতত্ত্ব হিসেবে দেখেন, তবুও বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা সাধারণ মানুষকে আবারও এই দৃষ্টিহীন ভবিষ্যৎদ্রষ্টার রহস্যময় কথার দিকে ফিরিয়ে নিচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/১২ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































