জুলাই বিপ্লবের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি: অপু ঠাকুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ফরিদপুর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর। জুলাই বিপ্লবীদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মর্যাদা দিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।
ছাত্র ও তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটগত সমঝোতায় পৌঁছালেও ফরিদপুর-১ আসনে অপু ঠাকুর স্বতন্ত্রভাবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এ বিষয়ে অপু ঠাকুর বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসার মূল্য দিতেই আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এই এলাকার বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বর হতে চাই। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে গরিব ও দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, নির্বাচিত হলে বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা—এই তিন উপজেলায় কমপক্ষে ১০টি করে শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে তার। এতে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপু ঠাকুর আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের তাজা রক্তক্ষরণ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে থেকেই আমি এই জনপদের মানুষের মুক্তি ও উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, দল জোটবদ্ধ হওয়ার আগেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল করলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তা বাতিল করেন। পরে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে, যা বর্তমানে বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আজ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে। তবে আমার এলাকার জনগণ চায় আমি নির্বাচন করি। তারা আমাকে ছাড়তে রাজি নয়। জনগণ ও তরুণ সমাজের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়েই আমি নির্বাচনে আছি। দল যদি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেব।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই বিপ্লবের চেতনায় বিশ্বাসী একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়া ও দলীয় শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
(ঢাকাটাইমস/২০ জানুয়ারি/এলএম)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































