তনু হত্যা মামলা: আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি

কুমিল্লা ব্যুরো
  প্রকাশিত : ২১ জুলাই ২০২৬, ১৯:৩৬
অ- অ+

কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তাদের মধ্যে একজন সাবেক সেনাসদস্য এবং অন্যজন বেসামরিক ব্যক্তি।

তনুর পরনের পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে তাদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পিবিআই ও আদালত সূত্র জানায়, তনুর জব্দ করা পোশাকের ডিএনএ বিশ্লেষণে একাধিক পুরুষের পূর্ণাঙ্গ ডিএনএ প্রোফাইল পাওয়া গেছে। এসব প্রোফাইলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য দুই সন্দেহভাজনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করে পিবিআই। পরে গত ১৬ জুলাই কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি পাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা সেনানিবাসের সাবেক সৈনিক মো. জাহিদুল ইসলাম (৪১) এবং কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ ওরফে রাব্বী (৩২)। তবে ফয়সাল আহমেদকে কী কারণে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, তদন্তের স্বার্থে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পিবিআই।

আদালতের পরিদর্শক সাদেকুর রহমান বলেন, তনুর পোশাক থেকে পাওয়া ডিএনএর সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা গেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এ কারণেই আদালত ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি দিয়েছেন।

এর আগে গত ২২ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে কেরানীগঞ্জ থেকে সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। একই দিন তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

এ ছাড়া গত ৮ জুন তনু হত্যার সময় কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান ওরফে জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। পিবিআই জানিয়েছে, তারা বর্তমানে পলাতক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একজন সাবেক সেনাসদস্য ও একজন বেসামরিক ব্যক্তির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি এবং তুলনামূলক পরীক্ষা করা হবে। তবে ওই দুই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গুজব উড়িয়ে বুধবার ঢাকায় আসছেন আতিফ আসলাম, ২৪ জুলাই কনসার্ট
ডিএসসিএসসিতে শান্তি ও যুদ্ধাবস্থায় আনসার-ভিডিপির ভূমিকা নিয়ে মহাপরিচালকের বক্তব্য
আটাব নির্বাচন: এফবিসিসিআই ট্রাইব্যুনালে আপিল বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাতিল
সেন্টমার্টিনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা