সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সারাদেশে এক লাখ সেনা মোতায়েন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন

একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচনের আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন। তিনি জানান, সে লক্ষ্যেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বর্তমানে এক লাখে উন্নীত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গত ১০ জানুয়ারি আমাদের মোতায়েন সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার। পরে তা বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয় এবং ২০ জানুয়ারি থেকে এক লাখ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।” এর পাশাপাশি নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার এবং বিমান বাহিনীর তিন হাজার ৭৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মনজুর হোসেন জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহরে মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এসব ক্যাম্প থেকে নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান, চেকপোস্ট পরিচালনা এবং অস্ত্র উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, “বিজিবি, পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েনের দৃশ্যমান প্রভাব আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। একদিকে অস্ত্র উদ্ধারের সংখ্যা বহুগুণে বেড়েছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।”
অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, গত ২০ জানুয়ারি থেকে মাত্র ১৪ দিনে প্রায় দেড় শতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যার অধিকাংশই বিদেশি পিস্তল। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মোট ১০ হাজার ১৫২টি অস্ত্র ও দুই লাখ ৯১ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ২২ হাজার ২৮২ জন চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতিকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নির্বাচনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এবার আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি প্রযুক্তির ব্যবহার হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সুরক্ষা অ্যাপ ও পুলিশের বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড্রোন ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে দ্রুততম সময়ে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা যায়।
নির্বাচনে ব্যালট বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সর্বদা প্রস্তুত। এ কারণেই এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় সর্বাধিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
গত জুলাইয়ের ঘটনায় খোয়া যাওয়া এক হাজার ৩৩১টি অস্ত্র এখনও উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি নির্বাচনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র উদ্ধার একটি চলমান প্রক্রিয়া। হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ফলে ভুয়া তথ্য ও ভুয়া কনটেন্ট তৈরি আরও সহজ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “আপনারা যদি গুজব ছড়ানোর আগেই বস্তুনিষ্ঠ ও তথ্যনির্ভর সংবাদ মূলধারার গণমাধ্যমে তুলে ধরেন, তাহলে অপতথ্য অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হবে।”
নির্বাচনের পর সেনাবাহিনী কবে ক্যান্টনমেন্টে ফিরে যাবে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত। “যেভাবে সরকারের সিদ্ধান্তে আমরা মোতায়েন হয়েছি, ঠিক সেভাবেই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা দায়িত্ব শেষ করে ফিরে যাব,” বলেন তিনি।
(ঢাকাটাইমস/৫ ফেব্রুয়ারি/এসএস)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













