রাজধানীতে কাটা হাত-পা উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন, ঘাতক গ্রেপ্তার, নেপথ্যের কারণ জানালো পুলিশ

রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় মানুষের কাটা হাত, পা, মস্তক ও ড্রাম ভর্তি দেহের অংশবিশেষ উদ্ধারের উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পাশাপাশি নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম মো. ওবায়দুল্লাহ। হত্যাকারী শাহীন আলমের সঙ্গে তিনি একই বাসায় থাকতেন। মূলত অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়াবিবাদের জেরে নিহত ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর ৭ টুকরো করে শাহীন।
রবিবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিহত ওবায়দুল্লাহ বায়তুল ভিউ টাওয়ারে অবস্থিত ‘গণস্বাস্থ্য হোমিও’-এর মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। রাজধানীর কমলাপুর এলাকার কবি জসীমউদ্দীন রোডের ৩৩/সি নম্বর বাসায় তিনি মারুফ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। পরে মারুফ হবিগঞ্জে চলে গেলে তার বন্ধু শাহীন আলম সেখানে ওঠেন এবং গত দুই মাস ধরে ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে একই বাসায় বসবাস করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ইফতারের পর সিগারেট ও খাবার আনা-নেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। ওবায়দুল্লাহ শাহীনকে বাসায় আসার সময় সিগারেট কিনে আনতে বলে। কিন্তু টাকা না থাকায় প্রথমে সিগারেট আনতে অনীহা প্রকাশ করেন শাহীন। পরে ওবায়দুল্লাহ টাকা দিলে সে সিগারেট কিনে আনে। এরপর রুটি-কাবাব আনতে পাঠানো হলেও তাকে খেতে না দেওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
রাতে উচ্চস্বরে ফোনে কথা বলা ও গালিগালাজের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের ভাষ্য, পরবর্তীতে বাথরুমে কাপড় ধোয়ার সময় রান্নাঘরে থাকা চাপাতি দিয়ে ওবায়দুল্লাহর ঘাড় ও গলায় এলোপাতাড়ি কোপ দেয় শাহীন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মতিঝিল বিভাগের ডিসি আরও জানান, শাহীনকে পূর্ব থেকে বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন ওবায়দুল্লাহ। এটি নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে আসামি।
লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে ছড়িয়ে দেয় বিভিন্ন স্থানে
হত্যার পর নিজেকে বাঁচাতে মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় শাহীন। লাশ গুমে হোটেল থেকে সংগ্রহ করা কালো পলিথিন ব্যবহার করা হয়। রাত ১টা ৫২ মিনিটে পল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে একটি পা ফেলে আসে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বায়তুল মোকাররম স্টেডিয়াম সংলগ্ন নারীদের মসজিদের গেটের পাশে দুটি হাত ও একটি আন্ডারওয়্যার উদ্ধার হয়।
দুপুর ২টায় কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকা থেকে আরেকটি পা উদ্ধার করা হয়। রাত ১১টায় দেওয়ানবাগ উটের খামারের পাশের ডাস্টবিনে ফেলা মাথাটি ময়লার গাড়ির মাধ্যমে মাতুয়াইল ভাগাড়ে পৌঁছালে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া আজ সকালে আমিনবাজারের সালেহপুর ব্রিজের নিচে অভিযান চালিয়ে কোমরের একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে; বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
এছাড়া তদন্তকারী দল কবি জসীমউদ্দীন রোডের ভাড়া বাসা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত সাইকেল জব্দ করেছে। নিহতের মোবাইল ফোনও শাহীনের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে।
শাহীনই হত্যা করেছে সেটি কিভাবে নিশ্চিত হলেন? প্রশ্নে পুলিশের এই ডিসি বলেন, শাহীন সাইকেলে করে খন্ডিত অংশ ফেলার সিসি টিভির ফুটেজ পেয়েছি। এছাড়া সে নিজেও এই ঘটনার সম্পৃক্ততা শিকার করেছে। তার কাছ থেকে চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুধু ঝগড়া বিবাদের জন্যই হত্যা করা হয়েছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, শাহীন জানিয়েছে মাঝে মাঝে ওবায়দুল্লাহ অনৈতিক প্রস্তাব দিত। আর এই বিষয়টি নিতে পারত না শাহীন। অনেক সময় রাতে শাহিনের রুমের ওবায়দুল্লাহ চলে যেত, তখন তাকে রুম থেকে বের করে দিয়ে দরজা আটকিয়ে দিতো।
হত্যাকান্ডের পর শাহিনের আচরনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি বলেন, হত্যার পর শাহীন স্বাভাবিক ভাবেই চাকরি করত। সবার সঙ্গে সাভাবিক আচরণ করত। শাহীনকে হিরাঝিল হোটেল থেকে আমার গ্রেপ্তার করি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































