কুমিল্লার মহাসড়কে সাত ঘণ্টায় চার দুর্ঘটনা, স্কুলছাত্রসহ নিহত ৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া চার দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রসহ ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত আরও চারজন।
বুধবার (১ এপ্রিল) ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত দাউদকান্দি, নিমসার, চান্দিনা ও চৌদ্দগ্রাম মিঞাবাজার এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
ভোর ৪টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার কানড়া এলাকায়। অজ্ঞাত একটি দ্রুতগতির গাড়ির চাপায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত হন। তারা হলেন, উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত লতু মিয়ার ছেলে বারেক এবং মো. নুর ইসলামের ছেলে মোস্তফা। একই ঘটনায় নবীর হোসেন, কাওসার ইসমাইল ও সাগর মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় ছয়জন আরোহী বাড়ি ফিরছিলেন। মহাসড়কে উল্টো পথে পারাপারের চেষ্টা করলে দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের স্বজনরা জানান, তারা মতলবের বেলতলী এলাকার একটি মেলা থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
এর কিছুক্ষণ আগে, ভোর পৌনে ৪টার দিকে কুমিল্লার নিমসার বাজারসংলগ্ন ইউটার্ন এলাকায় আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মৃত্যু হয়। তারা হলেন, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার লালপুর গ্রামের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মইন এবং মেহেরপুর সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মো. সোহেল রানা।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা অভিমুখী লেনে সংঘটিত এ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ ও সংশ্লিষ্ট যানবাহন শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চান্দিনা উপজেলার কাঠের পুল এলাকায় সড়ক পারাপারের সময় লরিচাপায় ইবনে তাইম নামে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়। সে চান্দিনা পৌরসভার রাড়িরচর এলাকার বাবুল মিয়ার ছেলে এবং বড় গোবিন্দপুর আলী মিয়া ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কোচিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ইউটার্নে রাস্তা পার হওয়ার সময় তাকে চাপা দেয় চট্টগ্রামগামী একটি লরি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর এলাকাবাসী লরিটি আটক করে।
এর কিছু সময় পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিঞাবাজার এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির চাপায় ওমর ফারুক নামে এক কাভার্ড ভ্যানচালক নিহত হন। জানা গেছে, তার নিজের কাভার্ড ভ্যানটি মহাসড়কে নষ্ট হয়ে গেলে তিনি সড়কে দাঁড়িয়ে অন্য গাড়িগুলোকে সতর্ক করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বাহার মজুমদার এবং ময়নামতি হাইওয়ে থানার ওসি আব্দুল মমিন জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১এপ্রিল/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































