৪৮ লাখ টাকা দিয়েও বাঁচানো গেলো না তছিরকে, লিবিয়ায় নির্যাতনে মৃত্যু

মাদারীপুর প্রতিনিধি
  প্রকাশিত : ১৩ মে ২০২৬, ২১:৩৬
অ- অ+

লিবিয়ায় মানবপাচারকারী চক্র ও মাফিয়াদের নির্যাতনে আরও এক বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, দালালচক্রের চাহিদা অনুযায়ী মুক্তিপণের ৪৮ লাখ টাকা দেয়ার পরও মাদারীপুরের তছির ফকিরকে বাঁচানো যায়নি। দীর্ঘ নির্যাতনের পর তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ স্বজনদের।

নিহত তছির ফকির (৪২) মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। তিনি মারা যাওয়ার সংবাদটি মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন।

জমি বিক্রি ও ঋণ করে টাকা দেওয়ায় সর্বস্ব হারিয়ে এখন দিশাহারা পরিবারটি। এখন একটাই চাওয়ামরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। একই সঙ্গে দালাল চক্রের শাস্তি দাবি করেছেন স্বজনরা।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে চায়ের দোকান করে সংসার চালাতেন তছির ফকির। পরিবারে সচ্ছলতা ফেরানোর আসায় আট মাস আগে পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের মানবপাচারকারী দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়েন। এরপর ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিন মেয়ে ও স্ত্রী রেখে বাড়ি ছাড়েন তিনি। ২৫ লাখ টাকা নিয়ে তছিরকে পাঠানো হয় লিবিয়ায়। সেখানে মাফিয়াদের বন্দিশালায় নির্যাতন করে হাতিয়ে নেওয়া হয় আরও ২০ লাখ টাকা।

পরে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়লে লিবিয়ার একটি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয় তছিরকে। এরপর চিকিৎসার কথা বলে আরও দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা নেয় দালালচক্র। জমি বিক্রি করে ও সুদে টাকা এনে মোট ৪৮ লাখ টাকা দেয় পরিবারটি। মঙ্গলবার রাতে তছিরের মৃত্যুর সংবাদ আসে দেশে।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যরাও পলাতক।

নিহতের ভাই শাহীন ফকির বলেন, ‌‘দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘার প্রলোভনে পড়ে আমার ভাই ইতালি যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। এরপর লিবিয়ায় মাফিয়াদের নির্যাতনে ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে ওই দেশের হাসপাতালের আইসিইউতেও রাখা হয়েছিল। ভাইকে দেশে ফেরত আনার কথাও বলি। কিন্তু তারা তা করেনি। এরপর শেষ তিনদিন ভাইয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

তিনি বলেন, ‘তিনদিন পর আমাদের গ্রামের পরিচিত কয়েকজনের কাছ থেকে জানতে পারি, আমার ভাই মারা গেছেন। এখন আমার ভাইয়ের লাশ দেশে আনার দাবি জানাই। দালালেরও বিচার চাই।

এ বিষয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল হক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবার থেকে আমাদের কিছু জানায়নি। তারা মরদেহ আনার বিষয়ে সহযোগিতা চাইলে করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন মাধ্যমে ঘটনার কথা জানতে পেরে রাজৈর থানার ওসি দালালের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
তনু হত্যা মামলা: আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষার অনুমতি
দেশের ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা
মাদক-সন্ত্রাস দমনে গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান জোরদারের নির্দেশ ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজির
ময়মনসিংহ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি জাহিদুল হাসান
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা