খান জাহান আলী মাজারের দিঘিতে শিশুকে কুমিরের আক্রমণ: ৯ ঘণ্টা পর মরদেহ উদ্ধার

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
  প্রকাশিত : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:২৪
অ- অ+

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (র.) মাজারের দিঘিতে গোসল করতে নেমে কুমিরের আক্রমণে নিখোঁজ হওয়া সাত বছরের শিশু ফাতেমার মরদেহ প্রায় ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোর ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে মাজারের খাদেমরা দিঘির মহিলা ঘাটের পূর্ব পাশে মরদেহটি ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাগেরহাট সদর উপজেলার ষাটগম্বুজ ইউনিয়নে অবস্থিত খান জাহান আলী (র.) মাজারের মহিলা ঘাটে গোসল করতে নেমেছিল ফাতেমা। এ সময় একটি কুমির তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও দর্শনার্থীরা নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নামেন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাতভর তল্লাশি চালান। তবে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ভোরে মাজারের খাদেমরা দিঘির একপাশে তার মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয় ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ফাতেমা মাজার এলাকায় বসবাসকারী এক বাকপ্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। প্রায় ছয় বছর আগে শিশুটির মা তাকে কোলে নিয়ে এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। মানসিক ভারসাম্যহীন ও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই নারীর পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

ঘটনার পর থেকে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন ফাতেমার মা। মেয়ের ব্যবহৃত একটি ওড়না ও পানির বোতল বুকে জড়িয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দিঘির ঘাটে নীরবে বসে ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মো. নাসের রিকাবদার এবং মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও মাজারের দিঘির কুমির নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কুমির একটি কুকুরকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ওই ঘটনার পর জনবহুল এলাকায় কুমির সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ঐতিহাসিকভাবে খান জাহান আলী (র.) মাজারের দিঘির সঙ্গে কুমিরের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) নিজেই দিঘিটি খনন করেছিলেন এবং সেখানে ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে এক জোড়া কুমির ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের বংশধররাই দীর্ঘদিন ধরে ওই দিঘিতে বসবাস করে আসছে। তবে মূল বংশের শেষ কুমিরটি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যায়।

(ঢাকাটাইমস/২ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
আগস্টে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’
রামপুরায় সাজা পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার
শুটিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন সেনাবাহিনীর সিজিএস মাইনুর রহমান
গণভোট না মানলে সরকারও মানা হবে না: জামায়াত আমির
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা