মরণফাঁদ শাসনগাছা-আড়াইওড়া সড়ক, প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা

কুমিল্লার শাসনগাছা থেকে বুড়িচংগামী সড়কের শাসনগাছা সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে আড়াইওড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির আরেক নাম। খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে ছোট ছোট পুকুরের রূপ নেয়। ফলে প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শাসনগাছা সিএনজি স্ট্যান্ডসংলগ্ন সড়কের ভাঙাচোরা অংশে একটি সিএনজি উল্টে পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন মিলে সেটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়রা জানান, এমন দৃশ্য এখানে নিত্যদিনের ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শাসনগাছা থেকে আড়াইওড়া পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও ইট-খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বিপজ্জনক খাদ। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝারও উপায় নেই। ফলে যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচলের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুদিন ধরে সড়কটির এই করুণ অবস্থা চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। অথচ বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার হাজারো মানুষের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিদিন অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এই পথ ব্যবহার করে কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলায় পড়ে থাকায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, ‘এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গেলে মনে হয় মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়েই পথ চলছি। কখন কোথায় গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। রোগী, বৃদ্ধ, নারী কিংবা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কেউই নিরাপদ নয়। বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।’
আরেক বাসিন্দা মো. রাশেদ বলেন, ‘প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে মানুষের শারীরিক কষ্টের শেষ নেই। ঝাঁকুনিতে অনেকের কোমর ও পিঠে ব্যথা তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের কথা শুনছি, কিন্তু কাজ শুরু হতে দেখিনি। আমরা দ্রুত স্থায়ী সমাধান চাই।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কটির অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অনেক চালক বাধ্য হয়ে বিকল্প পথ ব্যবহার করছেন। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ছে। জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও প্রায়ই এই সড়কে আটকে পড়ে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসাও হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান বলেন, ‘সড়কটির সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আগামী শনিবার থেকে এ সড়কের মূল সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করা হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর কোনো আশ্বাস নয়, এবার যেন বাস্তবেই সংস্কার কাজ শুরু হয়। কারণ প্রতিদিনের দুর্ঘটনা আর সীমাহীন দুর্ভোগে অতিষ্ঠ মানুষ এখন একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য সড়ক দেখতে চায় ।
(ঢাকাটাইমস/৪জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































