অর্থনীতির কঠিন সময়ে সরকারের প্রথম বাজেট কাল

অর্থনৈতিক টানাপোড়েন আর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়ে জাতীয় সংসদে আগামীকাল ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের যাত্রায় বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেটের আকার ধরা হচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
বিশ্ববাজারে টালমাটাল পরিস্থিতির আঁচ বহু আগেই লেগেছে দেশে। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়ছে উত্তাপ। সবশেষ হিসেবে, দেশের মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়েছে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ। তাই সাধারণ মানুষের একটাই চাওয়া, করের বোঝা না বাড়িয়ে, নিত্যপণ্যের দাম কমানোর সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকুক আসছে বাজেটে।
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে থাকছে দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিফলন। রাজস্ব আয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে যেখানে থাকবে মূল্যস্ফীতির লাগাম টানা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি ও সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। এজন্য অর্থের যোগান দিতে বাজেটে আয়ের লক্ষ্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা। যার বেশিরভাগই আদায় করে দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। যা পূরণে বিদেশি উৎস ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে।
বাজেটে জিডিপির লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে আটকে রাখতে চান অর্থমন্ত্রী।
সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সম্ভাব্য বরাদ্দ রাখা হতে পারে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এবারের বাজেটের অন্যতম দিক হতে পারে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির বিস্তার।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য করমুক্ত আয়সীমা তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আগামী দুই অর্থবছর তা বহাল রাখছেন অর্থমন্ত্রী।
এবার এডিপির আকার বেড়ে দেড়গুণ হচ্ছে। বড় বরাদ্দ থাকছে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে। বাজেটে ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































