দুবাইয়ে গ্রেপ্তার

বেনজীর আহমেদকে কী দেশে ফেরানো সম্ভব হবে? কী বলছে আইন

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০২৬, ১৫:২৩| আপডেট : ১৫ জুন ২০২৬, ১৫:২৯
অ- অ+
ফাইল ফটো

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ একাধিক মামলার আসামি বেনজীর বর্তমানে দুবাই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন বলে সরকার জানিয়েছে।

তবে তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন ও দুই দেশের মধ্যে থাকা চুক্তির প্রয়োগ নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

সরকারি সূত্র বলছে, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মুখোমুখি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে ২০১৪ সালের ২৭ অক্টোবর ‘দণ্ডিত বন্দি বিনিময়’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ক আরেকটি চুক্তিও হয়েছিল।

অবসরে যাওয়ার পর পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিক বিদায় অনুষ্ঠানের ছবি

তবে আইনি প্রশ্ন উঠেছে, বেনজীর আহমেদ এখনো কোনো মামলায় দণ্ডিত নন। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা বিচারাধীন এবং কয়েকটির তদন্ত চলছে। ফলে দণ্ডিত বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে ফেরানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করবে বাংলাদেশ সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহযোগিতা এবং প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার ওপর। বর্তমানে তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আইনগত ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মনে করেন, বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তিতে একজন অভিযুক্তকে ফেরত আনার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২-এর আওতায় অন্য দেশের সহযোগিতা চাওয়া যায়। বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতে কূটনৈতিক চ্যানেলে তাকে ফেরত চাওয়া হলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে।’

দুদকের আইনজীবী মাহমুদুল আরেফীন স্বপনের মতে, বর্তমান চুক্তিটি কেবল দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তিনি বলেন, ‘বেনজীর আহমেদ এখনো দণ্ডিত নন। তাই বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তি সরাসরি কার্যকর হবে না। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা, নতুন সমঝোতা বা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় অন্য কোনো আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যেতে পারে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামও মনে করেন, রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ভিত্তিতে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের একটি মামলার বিচার চলছে। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিদেশে অবস্থানরত অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা মিশ্র। অতীতে সাত খুন মামলার আসামি নুর হোসেন, রাজন হত্যা মামলার আসামি কামরুল এবং টিপু-প্রীতি হত্যা মামলার আসামি সুমন শিকদার ওরফে মুসাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।

অন্যদিকে আলোচিত অর্থ পাচার মামলার আসামি পি কে হালদারসহ কয়েকজনকে এখনো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়নি।

১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র‍্যাবের মহাপরিচালক ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, পাসপোর্ট জালিয়াতি, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ তদন্তের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
দিল্লিতে বাধা পেয়ে উপদেষ্টা জাহেদের ফিরে আসা অনাকাঙ্ক্ষিত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েল হামলা নিহত ৩
তামাক থেকে সমাজকে রক্ষায় আরও শক্ত আইন প্রয়োজন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা