পরীমনির বাসায় যাতায়াতের প্রমাণ, অবসরে পাঠানোর পথে সাকলায়েন

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
মঙ্গলবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে অভিযোগের বিষয়টি সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় পর্যায়ে নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়ার বিষয়ে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সময়ে দিন ও রাতে পরীমনির বাসায় গোলাম সাকলায়েনের অবস্থানের প্রমাণ মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে পাওয়া গেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
তদন্তের সময় পরিচয়
২০২১ সালের ১৩ জুন বিরুলিয়ার একটি বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া ঘটনায় পরীমনি ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলা করেন। ওই মামলার পরদিন ক্লাব-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। সে সময় ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন গোলাম সাকলায়েন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই সময় থেকেই তাঁদের মধ্যে পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পরবর্তীতে গোলাম সাকলায়েন নিয়মিত পরীমনির বাসায় যাতায়াত করতেন এবং দুজনকে একসঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা যেত। তদন্তে তাঁদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পরীমনি গোলাম সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলে গোলাম সাকলায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































